somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুমান

২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসিফ যখন অফিসে পৌঁছালো তখন অলমোস্ট সময় দশটা। দশটার সময় অফিসে ঢোকা নিষেধ জানা সত্ত্বেও সে ঢুকেছে। এমন নয় যে সে এখানকার কেরানী কিংবা দারোয়ান। ম্যানেজিং এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে আজ তার চাকরীর প্রায় চার মাস। প্রায় চার মাস বলার একটা কারণ আছে। কারণটা খুব জরুরী নয়। ইদানীং অবশ্য আসিফের কাছে কোনো কিছুই জরুরী বলে মনে হয়না। তার ধারণা প্রয়োজনের অতিরিক্ত অভিলাষ জীবনের সুখের পথে অন্তরায়। এ মুহূর্তে তার পড়নে একটা মেরুন কালারের শার্ট। মেরুন কালার হলো দুঃখের রং। দুঃখের রঙে কেউ সাজতে পারে সেটা তাকে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবেনা। আর আজ অফিসটাও যেনো কেনো থমথমে হয়ে আছে। প্রচন্ড ঝড় আসার আগে সবকিছু যেমন চুপ মেনে যায় অনেকটা তেমন। তবু এক অজানা কারণে ব্যাপারটা যথেষ্ট উদ্বেগের বলে মনে হচ্ছেনা তার কাছে।
- স্যার , আপনারে ডাহে।
- কে ডাকে ?
- বড় স্যার।
- ও আচ্ছা, তুমি ভালো আছো করিম ?
- জ্বে স্যার। আমি ভালা আছি। চা খাইবেন স্যার ?
- না করিম এখন আর খাবোনা।পরে লাগলে তোমাকে ডাকবো।
- জ্বে স্যার। আমি যামু তাইলে ?
- হুম। যাও। আমি আসতেছি।
ফোঁস করে বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে ওর। দরদর করে ঘামা ওর স্বভাব নয়। কিন্তু এখন তেমন কিছু রকমই অনুভব করছে সে। পা চালানো দরকার। দেরী হলে পরে বড় স্যার রাগ করতে পারেন। বড় মানুষদের রাগ ও তাদের মতই অদ্ভুতুড়ে। এতদিন চাকরী করার পর এটা আর তার অজানা নয়।
- স্যার , আসবো ?
- জ্বি আসিফ সাহেব আসুন।
- থ্যাংক উই স্যার।
- আপনি একটা বিশেষ কারণে ডেকেছিলাম আর কি।
- বলুন স্যার।
- আসলে আপনাকে আর আমরা রাখতে পারছিনা।
- জানি স্যার।
- জানেন ?
- জ্বি জানি।
- স্ট্রেইঞ্জ, হাউ ডু ইউ নো ?
- সে আপনি বুঝবেন না স্যার। আমার এ মাসের বেতনটা কি পাবো ?
- আই এম সরি আসিফ সাহেব। আপনার সিদ্ধান্তটা আগের মাসেই হয়েছে। আজ থেকে শুধু বলবৎ হলো। সে হিসেবে এ মাসে কোম্পানির ভ্যালিড কর্মকর্তা ছিলেন না বিধায় সেলারীটা আপনি পাচ্ছেন না ।
- ইটস ওকে স্যার। আই গেট ইট।
বেলা এগারোটা বেজে সাত মিনিট। নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার ছোটো এক গলিতে ছুটছে ঘর্মাক্ত দেহের বাহন রিক্সা। রিক্সার পেছনে বসে আছে স্বয়ং আসিফ। মন খারাপ থাকলে সে রিক্সায় ঘুরে বেড়ায়। রিক্সায় লাল নীল রঙা হুডের কালার তার বড় প্রিয়। আজ চাকরীটা যে তার চলে যাবে এটা এক প্রকার অনুমতিই ছিলো তার কাছে। কাল অফিস শেষ হবার পথে লিফটে আফরিনকে বিরক্ত করছিলো বড় স্যার। আসিফের দোষ ছিলো এটাই যে সে তখন ভুলে গিয়েছিলো কে স্যার আর কে কর্মচারী। ঘটনাটা আরো বহু দূর গিয়ে কোথায় শেষ হতে পারে সে সম্পর্কে তার ধারণা ছিলো আগে থেকেই। আজকের ব্যাপারটার জন্য সে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলো।
ব্যাপার না। একটা চাকরীই তো। মজার ব্যাপার হচ্ছে চাকরীটা চলে যাবার পরও ওর তেমন কোনো অনুভূতি হচ্চ্ছেনা। ও ভাবছে মাসের সেলারীটার কথা। বিশ হাজার টাকা অনেক টাকা। এ টাকায় এ শহরে ভাত পাওয়া যায়। সে ভাত খাওয়ানোর জন্য অনেক অভাবী মুখ পাওয়া যায়। গড়া যায় খয়েরী রঙা এক ছোটো টুনাটুনির সংসার। বিশ হাজার টাকা অবশ্যই অনেক টাকা।
পকেট থেকে ফোনটা বের করলো সে। সারাকে ফোন করা দরকার। কিন্তু ফোন করে কি বলবে সে ? যে "সারা আমার চাকরী চলে গেছে। এখন আর আমি তোমাকে নিয়ে সংসার শুরু করতে পারবোনা। " না এটা বেশী হাস্যকর হয়ে যায়। তার থেকে চুপ থাকাই ভালো। ও চুপ থাকলে সারা যেনো কিভাবে এমনিতেই সব বুঝে নেয়। সে বোঝাতে থাকে এক মুঠো আকাশ। এক ফালি শহুরে বাতাস আর দু দুটো হাতের স্পর্শ। এত দামী জানিস পাওয়ার জন্য আজীবন চুপ করে থাকাটা খুব কঠিন কিছু নয় ওর কাছে। অবশ্যই নয় । আজ অনেকদিন পর মাথার উপর উড়ে যাচ্ছে মেঘের দল। গন্তব্যহীন সে মেঘেদের সাথে চতুর্বিংশ এক যুবকের জীবনের সীমারেখার কি নিদারুণ মিল ! ভাবতেই অবাক লাগে আসিফের কাছে । অকারণেই ....
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:২৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গণজাগরণের ১৩ পেরিয়ে আজও অনিশ্চিত বাংলাদেশ ‼️ প্রজন্মের ভুল পথে চলা .....!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৫


গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা খুবই অকল্পনীয় ছিল/ ব্লগারদের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ হঠাৎ করেই ডাক দিয়েছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিচার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সংকটের কারণেই ছিলো এই জাগরণ।আমারও সৌভাগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূমি-দেবতা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৩


জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভাইয়ে ভাইয়ে
মারামারি-কাটাকাটি-খুনোখুনি হয়;
শুধু কি তাই? নিজের বোনকে ঠকিয়ে
পৈতৃক সম্পত্তি নিজ নামে করে লয়।
অন্যদের জমির আইল কেটে নিয়ে
নিজেরটুকু প্রশস্ত সময় সময়;
অন্যদের বাড়ি কব্জা- তাদের হটিয়ে
সেখানে বানায় নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×