somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোকা নাম্বার ওয়ান!!!

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(অনেক দিন পর ব্লগে প্রবেশ করতে পেরে মনের আনন্দে কি লিখবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। যাই হোক, কাঁচা হাতে যা বের হয়েছে তাই নিয়ে খুশি থাকতে হবে)

১.
খুব বোকা না হলেও, মোটামুটি ধরনের বোকা আমি। বলা যায় একজন সাধারণ মানের রামগাধা। জীবনের প্রতি বাঁকেই ধরা খাওয়া অভ্যাস আমার। হ্যা, এটা অভ্যাসেই পরিণত হয়েছে।

আরশিনগর মোড়ে প্রতিদিনই ভ্যানগাড়িতে করে একটা লোক সানজিদা মলম বিক্রি করতো। আমি প্রায়ই দাড়িয়ে লোকটার কথা শুনতাম। আহ, কি কাজের এই মলম!একসাথে দশ থেকে পনেরোটি সমস্যার সমাধান করে এই সানজিদা মলম চুলকানি থেকে শুরু করে ব্যথা, বাত, হারভাঙ্গা, দাঁদ, বিখাওজের মতন আরো অনেক চর্ম জনিত সমস্যার মূল সমাধান এই সানজিদা মলম। প্রিয় জনকে আবার উপহার দেওয়ার কথা বলছে ভ্যানগাড়ির এই ছোট্ট মাইকে।

আমি দেরী না করে এক সাথে পাচটি সানজিদা মলম কিনি একশত টাকা দিয়ে। ইচ্ছা তানভীরকে একটা দিমু,রায়হানকে একটা দিমু, শাহালমকে একটা দিমু আর জাবেদের জন্য একটা ঢাকা পাঠাবো সুন্দরবন কুরিয়ারে। যত টাকাই খরচ হোক সমস্যা নাই সানজিদা মলম বলে কথা।

তৃপ্তির একটা ঢেকুর তুলে খুশি মনে বাড়ির পথ ধরি। আমীরগঞ্জ রেলব্রিজের এখানে বিকাশ দা'র সাথে দেখা। দাদা বলেন বলেন, কি খুশি খুশি মনে হয়?
আমি বলি, হ দাদা। এই দেখেন ১০০ টাকা দিয়ে ৫ টা সানজিদা মলম কিনে নিয়ে আসছি। চুলকানির যন্ত্রণা আর না।
বিকাশ দা তখন ডিপজলের মতন অট্টহাসি দিয়ে বলেন, আরে বোকা এগুলো তো ১০ টাকা করে৷ আর এই মলমের কোন গুন নাই৷ শুধু ময়দা পানিতে গুলে ভরে রাখছে। তুই এখনই এগুলো এই আড়িয়ালখাঁর জলে ফেলে দে।

২.
হঠাৎ একটা স্মৃতি মনে পরে গেলো। আমাদের সময় নরসিংদী সরকারি কলেজে ভর্তির হতে চাইলে ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে ভর্তি হওয়া যেতো। পরিক্ষার দিন হলে গিয়ে দেখি আমার পাশে বেশ ভালো সুশ্রী একটা বসেছে। চোখে আবার হাই পাওয়ারের চশমা। তখন ধারনা ছিলো চশমা পরা স্টুডেন্ট মানেই খুব মেধাবী।
মেয়েটি আমাকে বলে, ভাইয়া আপনি বাংলা আর ম্যাথ কেমন পারেন?
আমি বুকটা আধহাত উচু করে বলি, ম্যাথ আর বাংলা আমার কাছে ডাইলভাত৷ শুধু ইংরেজিতে…….
মেয়েটি তখন আশ্বাস দিয়ে বলে, ভাইয়া ঘাবড়াও মাত! আপনি যদি ম্যাথ দেখান তো আমিও আপনাকে ইংরেজি দেখাবো।
আমি হাতে ঈদের চাঁন পেলাম। খুশিতে বগল বাজাতে ইচ্ছে করছে। পরিক্ষার হলে তাই পারলাম না।

যথারীতি পরিক্ষা শুরু হলো। মেয়েটি বলল, তুমি আগে ম্যাথ কমপ্লিট করো। আমি তোমাকে পরে ইংরেজি দেখাচ্ছি। ও হ্যা। আমরা ইতোমধ্যে তুমিতে নেমে গেছি। আমি মনের সুখে স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাকে ম্যাথ দেখালাম।
এবার তুমি ইংরেজি উত্তর দেখাও।
মেয়েটি আমার দিকে উদাস ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলে, এখন তো সময় নাই। পরে সময় পেলে দেখাবো।
মনে হলো বুকে লিটল বয় আর ফ্যাট ম্যান এক সাথেই ফুটছে।
পরে অবশ্য গোপন সূত্রে জানতে পারি মেয়েটি ফিলোসফি সাবজেক্ট পাইছে।

৩.
এলাকার মুরব্বিরা বলতো, ধরা খেলে নাকি বাপকেও বলতে নেই। আমি আবার সেই লেভেলের বোকা তো কথা ধরে রাখতে পারি না।

ফেসবুকে ফেইক আইডি দিয়ে কয়েক মাস যাবৎ কণিকা নামের একটি মেয়ের সাথে চ্যাট করেছিলাম। তা প্রায় বছর দুই আগের হবে। অনেক ধানাইপানাই শেষে আমারা একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম আর্শিনগর পার্কে দেখা করবো। আমার গায়ে থাকবে সাদা শার্ট। আর ওর পড়নে থাকবে একটা পিংক কালারের জামা।

সকাল বেলা স্নান করে সাদা শার্টটি পরে সাথে জেসমিন বডিস্প্রে লাগিয়ে রওনা হলাম। জেসমিন বডিস্প্রেটা ইনডেক্স প্লাজার সামনে থেকে কিনছি । অসাধারন সুভাষ। সমস্যা হলো পাঁচ মিনিট পর গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যায়৷ তখন একটা পচা গন্ধ বের হয়। আমি কখনোই পচা গন্ধ পাই নি। বন্ধু তানভীর বলে। জেসমিন বডিস্প্রে দিলে নাকি এই পচা গন্ধ আসে । মাঝে মাঝে আড্ডা দেওয়ার সময় পচা কোন গন্ধ আসলেই আমার দিকে সবাই আঙ্গুল তাক করে।

হাসি হাসি মন নিয়ে হাটছি বাড়ি হতে বেশি দূরে যাই নি। হঠাৎ কে যেন গায়ে ময়লা পানি ছুড়ে মারে৷ এদিক ওদিক তাকাতেই পরেশের বউ ছুটে এসে বলে, রিপন ভাই, মাফ করেন৷ এটো পানি ফালাচ্ছিলাম। হঠাৎ আপনি এসে পরলেন। দেখি নাই।
একটা শুভ কাজে যাচ্ছি বলে কিছু বললাম না। মাফ করে দিছি।

বাসায় এসে শার্ট পাল্টিয়ে ইজি ব্র‍্যান্ডের একটা গেঞ্জি পরে রওনা দিলাম। আমি আবার ব্র‍্যান্ডের ছাড়া কিছু পরি না। ইন্ডেক্সের সাথে ইজির শো রুমে যেই গেঞ্জি ৯৯০ টাকা, আমি হাসনাবাদ থেকে তা মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে কিনছি।

১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পার্কে ডুকি। এবার খুঁজ দ্যা সার্চ৷ সমস্যা হলো সারা পার্কে অন্তত সাতটি মেয়ে পিংক কালারের জামা পরিহিত। এর মধ্যে চারটি জুটি আর তিনটি সিঙ্গেল। আমি বুকে সাহস নিয়ে রাম-লক্ষনের নাম জপে প্রথম পিংক মেয়েকে জিজ্ঞেস করি, আপনার নাম কি কণিকা?
-কি তাজ্জব! আমার নাম কণিকা হতে যাবে কেনো! কে আপনি? মতলব কি? দেখে তো ভালো ঘরের ছেলেই মনে হয়। চিৎকার করে লোক জড়ো করবো?
আমি মানে মানে কেটে পরলাম। একেবারে নেটওয়ার্ক এর বাহিরে মানে পার্কের বাহিরে। সোজা বাসায় এসে মেসেঞ্জার অন করে কণিকার আইডিতে ডুকেই দেখি, ইউ কান্ট রিপ্লাই দিস কনভারসন।
ও, হ্যা। আমি বাইরে বের হলে স্মার্ট ফোন সাথে নেই না।
দামি ফোন তো! আট হাজার টাকা দিয়ে কিনছি, সিম্ফনি।

৪.
আরেকটি কাহিনি বলেই শেষ করবো।
আমি আবার ভালো ধরনের সিনেমাখুর। প্রিয় নায়েক আলেকজান্ডার বো। নায়িকার মধ্যে পলি। কি দুর্দান্ত তাদের অভিনয়। বিশেষ করে বৃষ্টির মধ্যে নাচ। ছন্দা সিনেমা হলে ছবি দেখি। বাড়ি থেকে কাছেই। ছবির নাম "মহিলা হোস্টেল"। নাম দেখেই বোঝা যায় খুব উচ্চমার্গের ছবি।
দুইটা বেনসন সিগারেট নিয়ে একেবারে পিছনের সারিতে বসি। সিগারেট টানতে টানতে ছবি দেখার ফিলিংসই আলাদা। লাইট নিভানোর পর সামনের এক ভদ্রলোক সিগারেট ধরালো।
আমার কাছে আবার ম্যাচ ছিলো না। তাই বলি, একটু আগুনটা দেওয়া যাবে দাদা? এই বলে হাত বাড়ালাম। উনিও আগুন দিলেন। ইন্টারবেলের সময় লাইট অন করার পর যা দেখলাম তা সত্যিই অভাবনীয়। স্কুলের অংক স্যার। যার হাতের দুএকটা কারুকাজ এখনো আমার পিঠে আছে।


কিসের ছবি, কিসের নাচ। সোজা বাড়ি এসে ঘুম।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্মৃতি গুলো মনে পড়ে যায় ছোট বেলার হাসি ভরা দিনে, মনে পড়ে যায় মন হারায়, হারানো দিন স্মৃতির পটে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৪ শে জুন, ২০২২ দুপুর ২:১৪


ছোটবেলায় রাজু ভাইয়ের কাছে কাগজ দিয়ে খেলনা বানানো শিখেছিলাম। ১৯৭৯ সালে রাজু ভাই পড়েন তখন চতুর্থ শ্রেণীতে আর আমি পড়ি প্রথম শ্রেণীতে। ওনাদের পরিবার আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন। উনি নিজেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

লীগের জন্মদিনে শেষ হাসিনা তারেককে নিয়ে এত কথা কেন বললেন?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৪ শে জুন, ২০২২ বিকাল ৪:০১



আওয়ামী লীগের ৭৩'তম জন্মবার্ষিকীর সভায় দলীয় নেতাদের সামনে, শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে জিয়াদের নিয়ে অনেক কথা বলেছেন! ব্যাপার কি, তিনি কি তারেক জিয়ার ভয়ে আছেন? তিনি কি ভাবছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বর্ষপূর্তিতে তুমি আমার ব্লগে এসো !:#P

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৪ শে জুন, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:০৪


ভেতরে যা যা আছে:
১) সামুর বর্তমান একটিভ ব্লগার দের কাদের আমার ভালো লাগে।
২) প্রিয় ব্লগারদের সম্পর্কে কটা কথা,
৩) কিছু ছবি
৪) নিজের ব্লগ জীবন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মাসেতু যাদের ভিটেমাটিতে, তাদের টোলের লভ্যাংশ দেয়া উচিত?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৪ শে জুন, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৩৪





টোলের ভাগ উহারা চায়, উহারা জেনেছে টোল আদায়ের পর সরকারের লাভ হবে ; সরকার লাভ করার পরেই তাদের কিছু অংশ যেন দেয়া হয়।তবেতিন জেলা(মুন্সীগন্জ,মাদারীপুর,শরীয়তপুর) ২২ হাজার ৫০০ পরিবার সবাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড: ইউনুস সাহেব পদ্মার উদ্বোধনে যোগদান করবেন তো?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৪ শে জুন, ২০২২ রাত ১০:৪৭



পদ্মার উদ্বোধনে ড: ইউনুস সাহেবকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে; আশাকরি, উনি যোগদান করবেন; যদি উনি কোন কারণে যোগদান না করেন, ইহা হবে মারাত্মক ভুল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×