somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশী এনজাইমের উদভাবন

০১ লা জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশা দেখাল দেশি এনজাইমব্যাসিলাস লাইকেনিফরমিস_এর নতুন প্রকরণচামড়া প্রক্রিয়াকরণের রাসায়নিক উপাদান 'এনজাইম' আসে ব্যাসিলাস লাইকেনিফরমিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে। ওই ব্যাকটেরিয়ার নতুন একটি প্রকরণ উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক। বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন শুরু হলে চামড়া প্রক্রিয়াকরণে আর বিদেশ
থেকে প্রযুক্তি আমদানির প্রয়োজন হবে না।


চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হয় প্রচুর পরিমাণ ক্ষতিকারক ও পরিবেশ দূষণকারী রাসায়নিক পদার্থ। এগুলো হচ্ছে_লাইম সালফাইড (ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের মিশ্রণ), শক্তিশালী রঞ্জক কস্টিক সোডা, ক্রেশিয়াম লবণ, ক্যাটিং পাউডার ও বিভিন্ন শক্তিশালী ক্ষারজাতীয় পদার্থ। এগুলো বর্জ্য হিসেবে পরিবেশের জন্য মারাত্দক ক্ষতিকর। নির্গত গ্যাস ও দুর্গন্ধও অসহনীয়। শ্রমিক ও এ শিল্প এলাকার আশপাশের লোকজনের স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইফতেখার মো. রফিকুল্লাহ রুমন জানান, ব্যাসিলাস লাইকেনিফরমিসের অণুজীবের মাধ্যমে উৎপাদিত এনজাইমের প্রধান দুটি হচ্ছে_প্রোটিয়েজ ও কেরাটিনেজ। এগুলো পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। প্রোটিয়েজ চামড়ার অপ্রয়োজনীয় আমিষ দূর করে এবং চামড়ার গোড়া থেকে লোম পরিষ্কার করে। কেরাটিনেজও পশম দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। ব্যবহার শেষে পরিবেশের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে।
চামড়া শিল্পের জন্য বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ক্যাটিং পাউডার আমদানি করা হয়। যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ তো আছেই। এগুলো দিয়ে মোট দূষণের তিন ভাগের এক ভাগ হয় শুধু পশম সরানোর সময়ই। এখানেই ব্যাসিলাস লাইকেনিফরমিসের তৈরি প্রোটিয়েজ ও কেরাটিনেজ এনজাইমের সার্থকতা। এগুলো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের কার্যকরী বিকল্প হিসেবে কাজ করে। এগুলো ব্যবহারে দূষণের মাত্রা ৩০ থেকে ৬০ ভাগ কমানো সম্ভব। বিশ্ববাজারে এ এনজাইম দুটির ব্যবসাও রমরমা। সারা বিশ্বে প্রতি বছর শুধু প্রোটিয়েজ বিক্রি হয় ৯০ কোটি ডলারের।
এ এনজাইম বাংলাদেশেও ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে খুব অল্প পরিমাণে। পুরোটাই আসে বিদেশ থেকে। উৎপাদনকারী অণুজীবও সারা বিশ্বে পাওয়া যায়। কিন্তু এ এনজাইমের অণুজীবসহ উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটাই প্যাটেন্টকৃত। তাই এ পদ্ধতিতে এ দেশে এনজাইম উৎপাদন করতে চাইলে পুরো প্রক্রিয়াটিই আমদানি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন কোটি কোটি ডলার। এদিক থেকে ড. মোজাম্মেল হকের প্রকরণটি দেশীয় চামড়ার বর্জ্য থেকে উদ্ভাবিত। এর মালিকানাও তাঁর। তাই তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে বাইরে থেকে কোটি ডলার ব্যয়ে কোনো প্রযুক্তি আমদানির দরকার হবে না।
ড. মোজাম্মেল হক জানান, তাঁর উদ্ভাবিত ব্যাসিলাস লাইকেনিফরমিসের উৎপাদিত এনজাইম চামড়ার গুণগতমান রক্ষা করবে। এতে চামড়া কুঁচকে যাবে না এবং আয়তনও ঠিক থাকবে। ৫০ ভাগ প্রচলিত রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে এ এনজাইমটির মিশ্রণ ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। ল্যাবরেটরি পর্যায়ে গবেষণায় এর চমৎকার ফল পাওয়া গেছে। তিনি ও তাঁর গবেষণা দলের সদস্য ড. মো. ইলিয়াস, ড. মনজুরুল করিম, ড. শাকিলা নার্গিস খান এ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুজীবটিকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।
মোজাম্মেল হক আরো জানান, জাপান সরকারের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ ইন সায়েন্স প্রতিষ্ঠানে শিগগিরই একটি বায়োপ্রসেস পাইলট প্লান্ট চালু হবে। প্লান্টে বড় পরিসরে এনজাইমটি তৈরি হলে শিল্প-কারখানায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের রাস্তা খুলে যাবে। এখন প্রয়োজন শুধু সরকার ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সহায়তা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ১১ ভাগ আসে চামড়াশিল্প থেকে। যার পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। দেশে প্রায় ২২০টিরও বেশি চামড়াশিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। যার সঙ্গে লাখেরও বেশি কর্মী সরাসরি জড়িত। তাই ড. মোজাম্মেল হকের আশা, পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনটি চামড়াশিল্পে অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগতভাবে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এর মাধ্যমেই দেশি শিল্পে ঘটবে আধুনিক জৈব প্রযুক্তির সূচনা।

_তৌহিদ এলাহী
( লেখাটি পড়া হয়েছে ৩৪৭ বার )
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×