জীবনের উত্তাপের জন্য যেমন শরীরের রক্ত প্রবাহের প্রয়োজন ঠিক তেমনি মন ও মননের উত্তাপের জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন। আর জ্ঞানের জন্য বই পড়া অত্যাবশ্যক-এটি অত্যন্ত পুরনো কথা। আজকের এই লেখাটির প্রয়োজনবোধ করছি কযেকটি বিশেষ কারণ গোচরীভূত হওয়া জন্য। প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করে বারবার জর্জরিত হযেছি মানুষ কেন বই পড়ে! এর উত্তর আমি খুঁজে পেয়েছি মানুষ বই পড়ে তথ্য সংগ্রহ তথা জ্ঞানার্জনের জন্য এবং আনন্দের জন্য। জ্ঞান তো আর কিছু না অতীতের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা বা তথ্য যা আমরা জীবনদর্শন থেকে পাই। অভিজ্ঞতা আর কিছুই না-জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা। সুশীলন জ্ঞানের জন্য বই পড়া অত্যাবশ্যক এটিও অত্যন্ত পুরনো কথা। মানুষ নিছক আনন্দের জন্যও বই পড়ে যেখান থেকে তেমন কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে চায় না বা তথ্য নিয়ে মাথা ঘামায় না। এই ধরনের বইকে হালকা মানের বই হিসেবে অনেকেই বিবেচনা করেন। এই ধরনের বই একবার পড়ে আর কেউ সেটির দিকে ফিরে তাকান না। কোনো কোনো বই মানুষের মধ্যে কল্পনা সৃষ্টি করে, কল্পনার জগত প্রসারিত হয়, কল্পনা থেকে মানুষ অনেক কিছু সৃষ্টি করতে পারে, ভাবতে পারে-ভাবনা মানুষের চিন্তার খোরাক। মানুষের চিন্তাশক্তি বাড়ায়-মূলকথা চিন্তা থেকে সৃষ্টি হয় নতুন নতুন বিষয়ের। অন্যভাবে বললে বলতে হয় চিন্তা থেকেই হয় 'সৃষ্টি'।
বই তথ্যের এবং আনন্দের-এই দুয়ের জন্যই হওয়া উচিত। কেননা মানুষ সব সময় তথ্য সংগ্রহ করবে এমন ধারণা পোষণ করা সমীচীন নয়। মানুষ অধিকাংশ সময়ই চায় আনন্দ অর্থাৎ বিনোদন। সাধারণ মানের গল্প বা উপন্যাসকে এই শ্রেণীতে ফেলা যায়।
ইদানীং অনেক লেখক এবং পাঠককে বলতে শোনা যায় এটি এমনই বই যে একটানে পড়ে শেষ করা যায়, কোথাও থামতে হয় না, একটানে শেষ না করে উপায় নেই। কোনো কোনো লেখককে এ ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করতেও দেখা যায়। গত ২০০৭ সালের বই মেলার একটি মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এমন এক বক্তাকে বলতে শুনেছি যে, বইটি পড়তে গিয়ে কোথাও থামতে হবে না, এক টানে শেষ করা যাবে তা তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললেন। একটানে পড়ার মধ্যে কী আছে আমি বুঝতে পারি না। কোনো লেখা মানুষকে মনের খোরাক যোগাবে তা ঠিক কিন্তু পাশাপাশি কোনো লেখা যদি তথ্য দিয়ে পাঠককের চিন্তার আধারকে সমৃদ্ধ করে কিছুণ ভাবাতে না পারে তাহেেল অযথা সময় নষ্ট করে লাভ কী? আমি দেখেছি পৃথিবীর বিখ্যাত বইগুলে একটানে পড়া যায় না, থামতে হয়, ভাবতে হয়, চিন্তা করতে হয় এবং পড়ে গিলতে হয়। তাহলে একটানে বই পড়তে পারলেই এই বইটি ভাল হবে এমন ধারণা পোষণ করা ঠিক বলে মনে হয় না।
পাঠকদের মধ্যেও এমন একটা ঊন্নাষিক ভাব পরিলতি হয় যে, বই পড়তে গেলে যদি কোথাও একটু চিন্তা করতে হয় তাহলে তিনি বইটি আর পড়তে চান না। এটি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা চিন্তা করার সুযোগ আছে? যুগ যুগ ধরে উন্নত সাহিত্য নিয়ে মানুষ গবেষণা করছেন, উন্নত সাহিত্য মানুষের মধ্যে প্রাণের জাগরণ সৃষ্টি করেছে তা নিয়ে কারো দ্বিধা থাকার কথা নয়।
লেখকের কাজ কী? নেহায়তই আনন্দ দেওয়া নাকি পাঠককে কিছু চিন্তারও সুযোগ করে দেওয়া। আমরা দুটি বিষয়কেই গ্রহণ করতে পারি। তবে একটিকে গ্রহণ করলে চিন্তার বিস্তৃত অঙ্গন ফাঁকা হয়ে যাবে। লেখকদের মধ্যে অন্তত একটা গুণ থাকা দরকার যে, তার লেখার মধ্যে অভিনব সৃজনশীলতাকে স্থান দেওয়া যা নিয়ে মানুষ কিছুটা চিন্তার খোরাক পায়। লেখক একজন শিল্পী। তার লেখার মান উত্তীর্ণ পর্যায়ে নেওয়ার জন্য ভাষা-শৈলী, চিত্রকল্প, রসবোধ, সৃজনশীলতা স্থান পাবে এটিই কাম্য। যদি তিনি এই জায়গায় ব্যর্থ হন তাহলে তাকে বড় ধরনের লেখক বলা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হবে তা জানা নেই।
পাঠকের বয়স ভেদে পাঠের প্রতি বিভিন্ন অনুরাগ দেখা যায়। সাধারণ পাঠকদের মধ্যে দেখা যায় বিশ থেকে পঁচিশ বছর পর্যন্ত উপন্যাস, গল্প, কবিতা পড়ার প্রবণতা থাকে। যখন এই বয়স কাটিয়ে চাকরি জীবনে প্রবেশ করে তখন পেশাগত মান বাড়ানোর জন্য তাদের তৎপরতা বেড়ে যায় এবং সাহিত্যের প্রতি তাদের ঝোঁক কমে যায় এবং তখন তারা পেশাগত প্রবন্ধ বা বিষয় পড়তে আগ্রহী হন। তবে ব্যতিক্রম তো সবেেত্রই আছে। এটি কোনো বোদ্ধাশ্রেণীর জন্য প্রযোজ্য নয়।
কোনো পাঠক নিতান্তই লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য পড়ে থাকেন কিংবা পরীার প্রশ্নের উত্তরের জন্য পড়ে থাকেন। লজ্জা থেকে বাঁচার জন্যÑএর মানে হলো, বন্ধুদের মধ্যে কিংবা পরিচিত কেউ বলতে পারেন, অমুকের এই বইটা পড়েছেন কিংবা পড়েছিস? এর উত্তর যদি না দেওয়া যায় তাহলে মনে হয় অনেকের মাথা কাটা যেতে পারে। এভাবেও পাঠকের সংখ্যাও বাড়ে বিশেষ বিশেষ লেখকের বিশেষ বিশেষ বই পড়ার জন্য। এই ধরনের প্রশ্ন এড়ানোর জন্য এই বইটিই যে পড়তে হবে এবং তার উত্তর দিতে ‘হ্যাঁ’ পড়েছি তার জন্য যদি বই পড়া এতটা প্রয়োজন মনে করা হয় তাহলে এ ধরনের বই না পড়াই উচিত। আবার অন্যদিকে বিশেষ বিশেষ পরীায় উত্তর দেওয়ার জন্য খ্যাতিমান লেখকের কোনো কোনো বইয়ের নাম দিয়ে বলা হয় এই বইটি কোনো ধরনের বা লেখক কে? যেমন আমি একটি পরীায় দেখেছিলাম প্রশ্ন এসেছে শেষের কবিতা কোনো ধরনের বই ১. উপন্যাস, ২. কবিতা, ৩. নাটক এর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটিকে খুঁজে বের করতে হবে। পরীার পরেই অনেকেই শেষের কবিতা কোনো ধরনের বই তা দেখার জন্য রবীন্দ্রনাথের বই ঘাটাঘাটি শুরু করেছে। কিন্তু শুরু করা পর্যন্তই শেষ। বইটির ভিতরে কী লেখা আছে বা এই লেখার মধ্য দিয়ে লেখক কী বলতে চেয়েছেন তা নিয়ে ভাববার কৌতূহল দেখা গেল না। এই ধরনের পাঠকের সংখ্যাও কিন্তু কম না। পড়ার অভ্যাস যদি এই কারণের জন্য হয় তাহলে পড়ার অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত। বাজারের গাইড বই-ই যথেষ্ট।
একজন লেখক যখন লিখবেন তখন যদি তার মাথায় নিজের চিন্তার ফসল দিতে না পারেন তাহলে সে লেখা কতটুকু জরুরি? পাঠককে চিন্তা করে যদি লেখা হয় তাহলে লেখা যেমন থেমে যাবে ঠিক তেমনি পাঠকের চিন্তাও এক সময় স্থবির হয়ে পড়বে।
বাংলা ভাষার বর্তমান কবিতা নিয়ে নানান কৌতূহল রয়েছে। পাঠক অনেক পিছনে পড়ে আছেন কিন্তু কবিরা অনেক এগিয়ে গেছেন। অনেকেই দুর্বোধ্যতার কারণে কবিতা পড়েন না বরং আধুনিক কবিতাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যঙ্গ করে থাকেন। এটিও নিজের অজ্ঞতাকে প্রকাশ করা ছাড়া কিছু না। কোনো কোনো পাঠককে বলতে শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল তো দুর্বোধ্য কবিতা লিখেন নি। তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে আমি প্রায়ই বলে থাকি রবীন্দ্রনাথের ক’টি কবিতা বা গল্প বা প্রবন্ধ বা উপন্যাস পড়েছেন? তাদের মুখ দেখে বোঝা যায় পাঠ্য বইয়ের বাইরে তারা আর কোনো লেখা পড়েছেন বলে মনে হয় নি। পাঠ্য বইয়ে বয়স অনুসারে সহজ থেকে কঠিন লেখাগুলি সাজানো হয় এবং তারা এগুলি পড়েই রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলকে বিবেচনা করে থাকেন। তাদের চিন্তার গভীরতা নিয়ে অনেক লেখা আছে সেগুলি পাঠ করে ধাতস্থ করতে হলে পাঠককে এগিয়ে আসতে হবে। অনুরূপভাবে খ্যাতনামা কবি সাহিত্যিকদের ভাল লেখা পড়ার জন্য আমাদের থামতে হবে, চিন্তা করতে হবে, পিছনে ফেরে যেতে হবে, বারবার পড়তে হবে এবং বুঝতে হবে। একটানে পড়ে শেষ করে ফেললেই সেটিকে ভাল মাপের বই বলা যাবে কিনা সন্দেহ থেকে যায়।
প্রতিটি ভাল লেখাতেই লেখকদের শিল্প-শৈলী থাকে এবং থাকা উচিত। পাঠককে অন্তত একটু চিন্তার খোরাক যোগাতে হবে। একজন বিদেশিকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, অরুন্ধতির দ্য গড অব স্মল থিং বইটি এত বিখ্যাত হল কেন কিংবা এলফ্রিডে ইয়েলিনেকের দ্য পিয়ানো টিচার নবেল পুরস্কার পেল কীসের জন্য? এতে এমন কী যার জন্য বইগুলি এত বিখ্যাত হয়েছে? তিনি বললেন, দু’টি বইতেই লেখকের নিজস্বতা আছে এবং ভাষা শৈলী ও শিল্পবোধ আছে। পাঠককে চিন্তা করার সুযোগ দেয়। এ’ছাড়া আরো কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন যেগুলি এখানে আলোচনা করা এতটা প্রাসঙ্গিক নয়।
জীবনানন্দ দাসের সাহিত্যকর্মকে জানতে হলে থামতে হবে, ভাবতে হবে, চিন্তা করতে হবে-একটানে শেষ করা যায় না। ‘পাঠক যদি এক টানে পড়ে শেষ করে যান’ এই বাক্যের অর্ন্তনিহিত হতাশা কিংবা শান্তির জায়গাটি আবিষ্কার করা সম্ভব নয়।
আমি কোন মাপের পাঠক হতে চাই তাও চিন্তার বিষয়। আমরা অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে খালাস হতে চাই। আমাদের স্কুলে বা কলেজে পড়ানো হয়নি, শিক ভাল ছিলেন না, মাবাবা পড়তে দেননি ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক অজুহাত প্রায়ই শোনা যায়। এই দোষ চাপিয়ে পার পাওয়া যায় বটে তবে নিজের উন্নয়নের জায়গাটি কতটুকু বিস্তৃত হলো তা কিন্তু চিন্তার বিষয়।
প্রয়াত সাহিত্যিক আহমদ ছফা এক প্রবন্ধে খোয়াবনামা উপন্যাসটিকে বাংলা সাহিত্যের একটি মহাকাব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই খোয়াবনামা ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়েছিল ‘দৈনিক জনকণ্ঠে’। এই বইয়ের প্রথম লাইনটি কোনোক্রমে পড়ে শেষ করে দ্বিতীয় লাইনটিতে পাঠককে থামিয়ে দেয়। দ্বিতীয় লাইন দিয়ে প্রয়াত ঔপনাস্যিক নিয়ে যান সময়ের এক আবহে যেখান থেকে উপন্যাসের গোড়া পত্তন। এখানে যদি পাঠক না থেমে (সাধারণ পাঠক) শুধু পড়ে যেতে থাকেন তাহলে বইয়ের মাঝামাঝি পর্যায় থেকে আবার তাকে এই লাইনে ফিরে আসতে হবে। অনুরূপভাবে চিলে কোটার সেপাইয়েও তাই। দ্বিতীয় পরিচ্ছদে থামতে হবে এবং ওসমানের চরিত্রটির স্বরূপ উদঘাটন করে তবে অগ্রসর হতে হবে যদি উন্যাসটির রস আহরণ করতে কেউ চান। অন্যথায় শুধু পড়াই হবে এবং এর গভীর থেকে প্রাণ খুঁজে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
সেক্সপিয়ার থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের ভাল মানের সাহিত্যগুলিতে শিল্প রয়েছে। মোনালিসার হাসির রহস্যে যেমন শিল্প আছে ঠিক তেমনি শাহাবুদ্দিন কিংবা সুলতানের চিত্রকর্মের মধ্যেও শিল্প আছে। এখন কেউ যদি বলেন, এগুলি বোঝা যায় না তাহলে শিল্পীর ব্যর্থতা নয়, ব্যর্থতা শিল্প রসিকদের।
একজন লেখক এবং সরকারি পর্যায়ের অনেক উচ্চমানের কর্মকর্তা (যিনি নিজে নিজেই দাবি করেন এবং কয়েকটি বই বেরিয়েছে তাঁর) একটি ছবি দেখে বলেছিলাম ছবিটি চমৎকার। তিনি বলেছিলেন, যে ছবি বোঝা যায় না সেটা কোনো ছবিই না। আমি পুনরায় বলেছিলাম, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের শ্রোতা তো উচ্চ শ্রেণীর মানুষেরাই হয়ে থাকে। সে শ্রেণীতে যাওয়াও অনেকটা শুভ। তিনি বলেছিলেন, আমার উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চাই না আমি চাই নিম্নাঙ্গ সঙ্গীত। কারণ আমি যা বুঝি না সেটা শুনতে চাই না। যেটা বুঝি সেটাই চাই। যাক এ নিয়ে বিতর্কের যেতে চাই না। গুণাই বিবির পাঠক যেমন থাকবে বনপাংশুলের পাঠকও তেমন থাকবে। কোনো পর্যায়ে কম আবার কোনো পর্যায়ে বেশি। তবে কথা হল মানুষ হিসেবে আমাদের দেখতে হবে মেধা চর্চার প্রয়োজন আছে কিনা। যদি প্রয়োজন না থাকে তাহলে কোনো কথা নেই। শিল্প-ভাবনা নিয়ে কোনো কথা নেই। সৃজনশীলতা নিয়ে কোনো কথা নেই। কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। আর যদি মানুষ হিসেবে মনে করা হয় মেধা চর্চার প্রয়োজন আছে তাহলে লেখকের লেখা পড়ে থামতে হবে, ভাবতে হবে, নতুন পথ তৈরির চিন্তা করতে হবে। পাশাপাশি মনে করতে হবে পাঠক হিসেবে আমরা কী শুধু পিছেই পড়ে থাকবো না একটু এগিয়ে আসাও উচিত। একই কারণে আমাদের ভাবতে হবে বিশ্বমানের সাহিত্য পড়ে আমরা কী গৌরব অর্জন করতে চাই না শুধুই সাধারণ আনন্দ পেতে চাই। এই সিদ্ধান্ত আমাদেরকেই নিতে হবে। এখানে একটি কথা না বলে পারছি না, এক টানে লেখা শেষ না করে উপায় নেই যারা বলেন তাদের স্বপ্নে কোনো দিন সাহিত্য কর্মের জন্য পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চান না, তাই দেখা যাচ্ছে আমরা একটা নোবেল নিয়েই নাচানাচি করছি, আর পৃথিবীর অনেক দেশ যেমন ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য পেয়েছে ১২ বার। তাই লেখকদের মন ও মননের উন্নয়ন ঘটিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের বির্তনের সিঁড়ি তৈরি করার জন্য আমাদের এই ধরনের কথা বলে গর্ববোধ করার কিছু নেই বরং লেখকদের সৃষ্টিতে পাঠককে থামিয়ে দেওয়ার প্রয়াসটি থাকা অধিক যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
এই বলে শেষ করতে চাই, জাতি হিসেবে আমাদের মেধা কেমন তা পাঠকগণের কাছে রাখলাম, পাশাপাশিÑবাংলাদেশের মানুষ গড়পড়তায় প্রতিদিন কত মিনিট পড়ে সে চিন্তাটিও করবেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্নীতিতে ছাওয়া তার পিছনে কারণ আমরা পরিশ্রম না করেই শুধু চাই। ভাল ফল চাই, অনেক টাকা চাই ইত্যাদি। তবে এই অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের প্রয়োজন আছে। তার জন্য পাঠাভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে। কলা, বিজ্ঞান ইত্যাদি সব কিছুইকেই আমাদের উত্তীর্ণমানের পর্যায়ে নিতে হবে। সমুদ্রের কিনারে পানির উপরে ভেসে সাঁতার কেটে আনন্দ পাওয়া যায় ঠিকই কিন্তু পানির গভীরে কি আছে সে সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়, জানতে হলে ডুব দিতে হবে, ডুবুরি হতে হবে, পানির গভীরে যেতে হবে, তারপর না মনিমুক্তাপ্রবালের সন্ধান পাওয়া যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


