somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নবিলাস

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিংটোন টা একটানা বেজেই চলেছে। নাহ্ ! আজ কোন মতেই ফোন রিসিভ করা যাবে না। ড্রেসিং টেবিলের মাঝখানের ড্রয়ারটি তে খুব যত্ন করে তালা দিয়ে রেখে দিয়েছি মোবাইলটা। আর চাবিটা যে কোথায় ফেলে দিয়েছি জানি না।
কে এমন বিরামহীন কল দিচ্ছে তা জানার জন্য আজ আমার মোবাইলের স্ক্রীণে চোখ রাখার দরকার নেই। আজকের পর থেকে আমার সবকিছু মিথ্যে হয়ে যাবে। ভাবতেই বুকের ডান পাশে একটা কষ্টের তীক্ষ্ম ব্যথা ছুয়ে যাচ্ছে। এটা তো অনেক আগে থেকেই হওয়ার কথা ছিল। তারপরও আমরা একসাথে ছিলাম।তারপরও আমরা প্রতিদিন অভিনয় করে গেছি আমরা দুজন দুজনকে কত কেয়ার করি। আমরা দুজন দুজনকে কতটুকু চিনেছি বলতে পারো ? এতোদিন কাছে থেকেও মনে হয় আমি তোমাকে একটুও চিনতে পারি নি। আজকে যা হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে এটাই আজ আমাকে তর্জনী দেখিয়ে পরিহাস করছে আমি এতো কাছাকাছি থেকেও তোমাকে চিনতে পারি নি। এই অনূভুতির কোন নাম নেই। এই অনুভূতি প্রকাশ করার নয়।
সম্পর্কের শুরুতে পই পই করে বলেছিলে "দেখো হিয়া, আমি তোমাকে একটুও ভালোবাসি না। আমি তোমাকে কখনই বিয়ে করতে পারবো না।"
এই বলে শক্ত করে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিতে।কোন এক অজানা কারণে আমি তোমার সব কথায় বিশ্বাস করতাম। আমি জানতাম তুমি যা বল তাই সত্যি সত্যি করে বস। তারপরও তোমাকে আমি ভালোবাসতাম। আমার আর কোন অতীত ভবিষ্যত থাকতো না যখন তুমি আমার কাছে থাকতে। আমি কেবল বর্তমানে বসে সময় গুণতাম। তোমার সাথে কাটানো বর্তমানের প্রতিটা ক্ষণ আমি হিসেব করে খরচ করতাম। যেন তোমার আর আমার মাঝে ঐ সময়টাতে অন্যকারও অনধিকার প্রবেশ না ঘটে।
আমরা যখন কাছাকাছি থাকতাম তুমি যে শুধু তোমার আমার কথা বলতে তাই নয়। বলতে সেই সুন্দরী ললনাদের গল্প যারা কোন না কোন সময় তাদের সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়ে তোমার মন জয় করেছিল। হিংসায় পুড়ে যেত ভিতরটা।কিন্তু তোমাকে বুঝতে দিতাম না একটুও। হাসিমুখে শুনতাম তোমার অবলীলায় বলে যাওয়া পুরনো কোন সুন্দরীর সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর কথা। ভেতরটা প্রতিবাদ করে বলে উঠত "কেন এসব কথা বলে আমাকে চূর্ণ করা? কেন আমি ই শুধু সেই একটি মেয়ে হতে পারি না যে তোমার মন জুড়ে থাকবে? কেন আমি পাশে থেকেও আমাকে এতো দূরে সরিয়ে রাখার তোমার আপ্রাণ প্রচেষ্টা?"
নাহ্ , বলা হয়নি এসব কথা কখনো মুখ ফুটে।
তবুও মনের গহীনে কোথাও আশা ছিল, হতে পারে আমি তোমার প্রথম ভালোলাগা মানুষটি নই। তবু মনে হয় যদি শেষ ভালোলাগা মানুষটি হতে পারি। জানি এটা ছিল আমার মতো মোটামুটি দেখতে সুন্দরীর জন্য বিলাসিতা মাত্র। আমি শত চেষ্টা করলেও তোমার মন ছুয়ে যেতে পারবো না। তুমি তো মাথার উপরে ছড়িয়ে থাকা ঐ বিশাল নীল আকাশ টার মতো। সবাই ভাবে তুমি যার কাছে আছো শুধুই তার , আসলে তুমি তো সবার মাঝেই ছড়িয়ে আছো।
আজ কতকিছু মনে পড়ে যাচ্ছে। অনেকগুলো বছর কিভাবে যেন হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেল। যে ক্ষণটির জন্য আমার মন সবসময় ভয়ে কুকড়ে থাকতো সেটি আর কিছুক্ষণ পরই ঘটে যাবে। তুমি চলে যাচ্ছো আজ সবকিছু পিছনে ফেলে রেখে। সাথে আমাকেও ফেলে। আমি পারলাম না তোমায় ভালোবাসার আলিঙ্গনে জড়িয়ে সারাজীবন তোমার পাশে থাকতে।

মোবাইলের রিংটোন বাজতে বাজতে সেই কখন চুপ হয়ে গেছে খেয়াল করিনি। অন্যকিছু বেজে চলেছে এখন। ভাবনার তার ছিড়ে খেয়াল করলাম রিংটোন নয়, দরজার কলিংবেল বেজে চলেছে অবিরাম।অনিচ্ছা স্বত্তেও দরজা খুলতে গেলাম।
আমি বিশ্বাস করতে পারলাম না আমার দরজায় এ আমি কাকে দেখতে পাচ্ছি। কিছু বলার আগেই ও বলে উঠলো, " কল করছি সেই কখন থেকেই । ধরছো না কেন? তোমার জন্য ফ্লাইট টা মিস হয়ে গেল।"
"তো আসলে কেন? ফিরে আসার তো দরকার ছিল না।"
" তা তো ঠিকই, আসার কি দরকার ছিল আমার! কল টা রিসিভ করলে বোধই আসতাম না। ভাবলাম যদি আবার কিছু করে বস তাই চলে আসতে হল।ফ্লাইট মিস হলে আবার তো ধরা যাবে।তোমার কিছু হলে তো অনেক বেশি কিছু মিস হয়ে যেতো।তাই আসলাম। কিন্তু ফিরে এসে যে কি হলো আর যেতে ইচ্ছে করছে না।"
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না । দরজা খোলা অবস্থায়-ই লাফ দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। লাফটা মনে হয় একটু বেশী হয়ে গিয়েছিল। ও ব্যথায় ককিয়ে উঠলো। আমি আরো জোরে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ও আবারো ককিয়ে উঠলো।তবে এটা তো ওর সেই ভরাট পুরুষালী কন্ঠস্বর নয়। কেমন যেন মেয়েলী নেকু আওয়াজ।হঠাৎ ও আমাকে শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।
আর পাশ থেকে অন্য কেউ নয় মেঝ আপু চিৎকার করে উঠলো, "তুই আর কাল থেকে আমার সাথে ঘুমাবি না। আরেকটু হলেই নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে যেতাম। আর ঘুমাবি না তুই আমার রুমে...................................।"

আমার রিয়েকশন বরং আপনারাই কল্পনা করে নেন। আমি আপাতত কাল থেকে কোথায় ঘুমাবো সেই চিন্তায় ব্যস্ত আছি।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×