somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুমঘর!

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেল! গলার কাছে কি যেন বেঁধে যাচ্ছে বারবার, শ্বাস নিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। উঠে বসলাম, নাহ! কোন উন্নতি নেই। অক্সিজেনের অভাববোধটা আরও বাড়ছে। এই শূন্যতাবোধটা খুব ভয়ংকর, সবকিছু তোলপাড় করে দিয়ে যায়। কিচ্ছু হয়নি, এরকম ভাব করে চুপচাপ তবু শুয়ে আছি।

‘আসলেই কি কিচ্ছু হয়নি? একটা সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক টুকরো হয়ে ভেঙ্গে পরে আছে, আমাদের কোন রা নেই, তবু কিচ্ছু হয়নি!...’

ওহ! অস্থির লাগছে খুব। ঘড়ির দিকে তাকালাম, ৫টা বাজতে চল। নাহ, এভাবে সম্ভব না। উঠে পরতে হবে, অক্সিজেনের অভাববোধটা তীব্র হচ্ছে আরও, তার থেকেও ভয়ংকর তীব্রভাবে শূন্যতা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সব গুলিয়ে যাবে। মনের ঝড়কে পাত্তা দিতে নেই। ঝড় চলুক, তবু স্থির হয়ে, শান্ত হয়ে বসে ভাবতে হবে কি করা যায়। বারবার ফ্যানের দিকে চোখ চলে যাচ্ছে, এই শীতের রাতে আমার এত গরম লাগছে কেন!

কি করা যায়! একটা চিঠি, হ্যাঁ, একটা চিঠি লেখা যেতে পারে! কিন্তু কাকে! যাকে একসময় চিঠির পর চিঠি না দিলে অভিমান করে বসে থাকতো, সে মানুষটিকে? এখনও কি তাঁর এই চিঠির জন্য আবেগ থাকবে! না থাকুক, লিখে চুপচাপ আবার ছিঁড়ে ফেলে টুকরো কাগজ গুলো উড়িয়ে দেয়া যাবে, ক্ষতি কি!

প্রিয় মানুষ,

নাহ! হচ্ছে না! আমি চিঠি লেখাও কি করে ভুলতে পারি!


হ্যাঁ, আমি ভুলে গেছি। আমি দিব্যি চিঠি লেখাও ভুলে গেছি। জানিস, আজ থেকে ঠিক কয়েকমাস পর আমি তোকেও ভুলে যাব? তুই শুধু একটা খণ্ড স্মৃতি হয়ে পরে থাকবি আমার মাথার ভেতর। নিউরনের যেই সেলে তোর নাম্বারের প্রতিটা ডিজিট জমা আছে, একদিন সেসব খালি হয়ে যাবে। আমি অনেক মনে করেও আর পারবোনা কোনদিন তোর মুছে ফেলা ডিজিট গুলো উদ্ধার করতে!

তোকে নিয়ে লেখা গল্প কবিতা গুলো জমা থেকে যাবে, শুধু তোর জন্য যে তীব্র আবেগ ছিল সেসব খুঁজে পাবোনা আর কোনদিন। আজকাল অনেক পুরাতন ডায়েরি হাতে নিয়ে যেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়, তুই ঠিক সেরকম অদ্ভুত অনুভূতি হয়ে থেকে যাবি। পুরাতন ডায়েরীর পাতার মতন, মলিন কিন্তু ঝকঝকে লেখার মতন।

আচ্ছা, তোর মনে পড়ে তো আমাকে? রাত জেগে তোরও কি এমন হাস ফাঁস হয়? তোরও কি ইচ্ছা হয় আমাকে চিঠি লিখতে? ইচ্ছা হয় তীব্র শূন্যতা বোধে আমার হাতটা শক্ত করে চেপে রাখতে? লিখিসনা তুই চিঠি? কাগজের ফুল বানিয়ে উড়িয়ে দিস না? নাকি সিগারেটের ধোঁয়ায় ইচ্ছা গুলোকে পুড়িয়ে ফেলিস! আমার জন্য করা আবেগ অনুভূতি গুলো ময়লা বিছানার ক্লান্তির মত পরে থাকে তোর ধোঁয়াবাক্সে?

শোন, তোকেও আমি ফুল চন্দন করছি না আর। তুইও আজকাল আমার কাছে ভীষণ তুচ্ছ। দেবতার আসন থেকে নামিয়ে দিয়েছি, তুই আর সেই স্বেচ্ছাচারী নেই, ইচ্ছে হলেই ভালবাসবি, ইচ্ছে হলেই বাসবি না তা হবেনা। তুইও এখন বড্ড বেশী সাধারণ। বাকি আর পাঁচটা ছেলের মতন, খুব সাধারণ। তোর চাহনি, ছোট্ট করে বাঁকা হাসি কিচ্ছু টানবে না আর আমাকে, তোর উথাল পাথাল সমুদ্রে মাতাল হব না আমি আর, আমার মুখে কোনদিন আর তো নাম আসবে নারে! শুধু আজ থেকে কয়েক বছর পর যখন তোর কোলে ছোট্ট একটা তুই দেখবো তখন ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে তুই মিশে যাবি আমার জীবনের সাথে। সেই ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস হয়েই তুই থেকে যাবি দিনের পর দিন, আজীবন।
আমি তোর পাঁজরের ভেঙ্গে যাওয়া হাড়।
তোর থেকে চুড়ি যাওয়া পাঁজরের হাড় ফিরিয়ে দিলাম তোকে।



সাড়ে ছয়টা বাজতে চলল! আমি মেয়েটা খুব অস্বাভাবিক! এত রাত করে শুধু শুধু জেগে বসে আছি! ওমা! এ কি! অশ্রু! হাহাহা, খুব হাসি পায় আমার। এসব পাগলামো কি এখন মানায়! আমি উঠে পড়লাম, চিঠিটা ছেড়ার সময় হয়ে গেল। টুকরো করে শুধু উড়িয়ে দেবার কাজ। সাদা ফুলের বৃষ্টিতে স্নান সেরে ঘুমাতে হবে আমার, অনেক দীর্ঘ একটা ঘুম। সহস্র শতাব্দীর ঘুম। খুব ক্লান্ত আমি, খুব বেশী ক্লান্ত। ঘুমঘরে পৌঁছানোর অপেক্ষা শুধু!


যারা এটা পড়েননি- Click This Link


সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:০১
৬৯টি মন্তব্য ৬৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ও আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো‼️আমরা’তো বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



লাল বদরদের আমরা কেন কোনোদিন বিশ্বাস করবো না, পছন্দ করতে পারবো না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচন্ড ঘৃণা করবো, তার একটা ভালো উদাহরণ এই স্ক্রীনশটটা।

সব মানুষ একই রাজনৈতিক আদর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানির ক্যানভাসে ডুবন্ত শহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



প্রতিবেদক: আশরাফুল ইসলাম
স্থান: প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম
সময়: সকাল ১০টা ৩০ মিনিট


ক্যামেরার লাল বাতিটা জ্বলছে। লেন্সের ওপর বৃষ্টির ছোট ছোট কণাগুলো অবাধ্য হয়ে জমছে। আমি মাইক্রোফোনটা শক্ত করে ধরে লেন্সের দিকে তাকালাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×