somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের মত লেখা থামাচ্ছি_কিন্তু মন্তব্যের অপেক্ষায় আছি

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে ভাষায় মানুষ পড়াশোনা করে, সে ভাষা তার ভেতরে একটা বড়োসড়ো জায়গা করে নেয়। সেটা সাধারণতঃহয় তার ‘আপন’ ভাষা, বীরবল যখন দরবারের বহূভাষাবিদকে আচমকা ধাক্কা দিয়েছিলো, সে ‘সড়া অন্ধ অছি’ বলে চেঁচিয়ে উঠেছিলো, তাতে বোঝা গেছিলো সে ওড়িয়া। প্রথম ভাষাটি মানুষের মধ্যে এই জায়গাটি পায়। মাত্ত্রিভাষা মানে মায়ের ভাষা নয়, মাতৃ ভাষা হচ্ছে মানুষের ‘প্রাণের সুর’। একটি বাচ্চাকে বারোবছর ইংরেজীতে পড়াশোনা করিয়ে তার কাছ থেকে ‘মাতৃভাষা’ আশা করা অন্যায়, অন্যায্য। তখন আর তাকে বলা যায় না ‘বাংলায় ডায়েরী লেখো’, সাহিত্য চর্চা করছ? বাংলায় করো।
বাংলা মিডিয়ামে যারা পড়েছে তারাও, বিশেষতঃ ঢাকা শহরে, আজকাল নিজের সাকিন সম্পর্কে একটু হীন বোধ করে। দ্রুত কমতি টা পুষিয়ে নিতে চায় নীলক্ষেত থেকে কিনে ইংরেজী বই পড়ে বা অন্য কোন ভাবে।এবং নিজের ছেলেমেয়ের বেলায় এ ভুল শুধরে নেয় তাদের ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করে। সব বাবা মাই চায় তারা যে ‘আধুনিক’ ‘সুবিধা’ পায় নি, ছেলেমেয়ে যেন সেটা পায়।


বিশেষতঃ ছোটবেলা থেকে বাবা মা দের আমরা ইংরেজীর ওপর যে রকম গুরুত্ব আরোপ করতে দেখি, অবচেতনেই ধারণা হয়ে যায় যেনো বাংলার স্থান এর নিচে। একটা কাগজ এগিয়ে দিয়ে যদি বিশ জনকে নাম সই করতে দেন, অন্তত বারো জন করবে ইংরেজীতে। এটাকে আমি ভালো বা মন্দ বলছি না। কিন্তু এই প্রবণতাটা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা ধারণা দিচ্ছে ঠিকই।


আমাদের মুখে মুখে সংখ্যা-তারিখ-ঘড়ির সময়গুলি, সপ্তাহের বারের নামগুলি ইত্যাদি থেকে বাংলা উঠে ইংরেলী হয়ে যাচ্ছে।
একসময় হিন্দি চ্যানেলগুলিতে দেখতাম ওরা সংখ্যা হিন্দিতে বলেও না, লেখেও না।ওদের এই দৈন্য দেখে তখন মজা পেয়েছি,বিদ্রূপে হেসেছি।

বাংলা কোন প্রান্তিক ভাষা নয়। ধার করা বর্ণমালায় লেখা, দশ-বারোটি শব্দ ও চার পাঁচশো ভাষাভাষী সহ কোন অনগ্রসর, দূর্বল ভাষা নয়। এটি একটি সমৃদ্ধ সাহিত্য বহনকারী, অজস্র মানুষের মুখে বহতা ভাষা। আমাদের সাহিত্যে গর্ব করার মত অনেক অনেক বই আছে, বিভিন্ন প্রসঙ্গের, বিছিন্ন আঙ্গিকের, বিভিন্ন ধারার, ষাখা-প্রষাখা ও মতবাদের, অনেক সাহিত্য-আন্দোলন, গোষ্ঠী,তর্ক-বিতর্কে জীবন্ত সাহিত্য আছে। এখনো বাংলায় বেশ কটি প্রধান দৈনিক বেরুচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রতিষ্ঠিত বিষিয়ে এখনো চাইলে সম্পূর্ণ বাংলায় পরীক্ষা দেওয়া যায়। এ ভাষার কারো কৃপাপ্রার্থী হবার দরকার নেই। অথচ বাঙ্গালীদের বই পড়ার প্রবণতা সবসময়ই কম, আজকাল অনেক বাড়িতেই শুধু একটি ইংরেজী পত্রিকা রাখার চল হচ্ছে। বাংলায় এমনকি রাষ্ট্রবিজ্ঞান,নৃতত্ত,লোকপ্রশাসনও আর পড়া হয় না
আমেরিকানরা রেড ইন্ডিয়ান জাতিসত্বা ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে, এখন চলচ্ছিত্রে, সাহিত্যে, পাঠ্যবইতে অনুশোচনা করে। বাঙ্গালী ও অন্যান্য দূর্বল মেরুদন্ডের জাতি এখন নিজস্ব ভাষা গুলি নষ্ট করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আমাদের উত্তরাধিকারীরা আমাদের বোকামীর মাত্রা বুঝতে পারবে ও প্রত্নতত্মের মতো ভগ্নাংশ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।



টেলিভিশনে যখন কোন বিশেষজ্ঞ মতামত দেন, বা বাংলাদেশ ্জেতার পরে ইত্যাদি সময় সাধারণ মানুষ,প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়,বা যখন নামীদামী ব্যাক্তিদের সাংবাদিকেরা মন্তব্যের জন্য মাইক নিয়ে ছেঁকে ধরে, তখন বঝা যায় শিক্ষার দশা...।। এক এক জন যে শুধু পরপর গুছিয়ে পাঁচটা বাংলা বাক্য বলতে পারে না তা না, বাংলা ইংরেজী মিশিয়ে জগাখিচুড়িতেও তারা অনেকে কোন গোছানো বা অর্থবহ মতামত দিতে পারেনা।
টক শো গুলিতে ‘বিশেষজ্ঞ’, ‘সরকারী কর্মকর্তা’, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক’ প্রমুখদের বাংলার ছিরি দেখে হাসিও পায়, লজ্জাও লাগে। এমনকি আঞ্চলিক ভাষারও একটা ব্যাকরণ থাকে, সে ভাষাতেও অসংলগ্ন কথা বললে মানুষ তাকে ভুলটা চিহ্নিত করে দিতে পারবে, শুধরে দিতে পারবে। একজন শিক্ষিত প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ কেনো বলবে ‘we are looking for শত্রুS ?’
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×