somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ইউনুস নৃত্য!

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে "বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর" বোমা বানানোর মালমসলা সর্বসাধারনের ব্যাবহারের জন্য সাজিয়ে রেখেছিল। তারপর সে সকল মালমসল্লা ব্যাবহার করে বোমা বানানো ও বোমা ফাটানোর হুড়োহুরিতে প্রথমে পত্রিকাওয়ালা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো, তারপর ব্লগ ও আন্তর্জালিক বিভিন্ন সাইট, অতঃপর সর্বসাধারন মায় দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যেন দিওয়ালী উৎসবের বাজী ফাটানোর আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠলো। কয়েকদিন খুব চললো এ নিয়ে, তারপর হরিষে বিষাদ। মানুষকে পচানো এবং তাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করায় একপ্রকার আনন্দলাভ হয়, উপরন্তু সে মানুষটি যদি হয় অপছন্দের কেউ, তাহলে আনন্দের আর সীমা পরিসীমা থাকে না, ব্যাপক আনন্দে হৃদয়মন তিড়িংবিড়িং করে নাচতে থাকে।
ইউনুস কি হাসিনার অপছন্দের মানুষ? একেবারে অপরিণত একটি সংবাদের ত্বড়িৎ প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা যে সকল নিন্দাবাক্য যে ভাবে উচ্চারণ করলেন, তাতে বোঝা যায় ইউনুস সম্পর্কে হাসিনার অনুরুপ একটি পূর্ব সিদ্ধান্ত ছিল। হাসিনা সরকারের প্রথম টার্মে সিটিসেলের মনোপলি ভেঙ্গে গ্রামীনফোনকে সর্বব্যাপী করার পেছনে ব্যাক্তিগতভাবে ইউনুসের উপস্থাপনা এবং হাসিনার সরকারী আনুকূল্য প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল বলে শোনা যায়। হাসিনা সরকার পতনের পর ইউনুস নাকি একটি মিশন নিয়ে দেশে দেশে বক্তৃতা দিয়ে বেড়িয়েছেন, হাসিনা সরকারের দুর্নীতি নাকি ছিল সে সকল বক্তৃতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। গ্রামীনফোনকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার কি দুর্নীতি করেছিল, জনান্তিকে হাসিনা একবার ইউনুসের উদ্দ্যেশ্যে সে প্রশ্নও রেখেছিলেন। বিএনপি যখন ইয়াজুদ্দিন-হাসান-আজিজ গংদের সামনে রেখে নির্বাচন করে ফেলার তোড়জোরে ব্যাস্ত, ইউনুস তখন যেনতেন প্রকারে সেই নির্বাচন হওয়া উচিৎ, এমন ফতোয়া দিয়ে আওয়ামী মহল থেকে আরও দূরে সরে যান। হাসিনার ইউনুস বিরাগ সেসবেরই ফলস্রুতি, নাকি নতুন অন্য কোন অজানা কারন এর পিছনে আছে, তা জানার জন্য বোধ হয় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিএনপিও যে ইউনুসের ব্যাপরে উচ্ছসিত ছিল তা নয়, গোড়া থেকেই তাদের সন্দেহ ছিল বিশেষ কোন উদ্দ্যেশ্য হাসিলের জন্য ইউনুসকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইউনুস যখন রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টায় ছিলেন, সে সন্দেহের সত্যতা তারা বুঝতে পেরেছিল। আর বলিহারি যাই আমাদের সংবাদকর্মীদের বিবেচনাবোধ দেখে। সংবাদ সন্মেলনটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর কয়েকদিনব্যাপী তিনটি দেশ সফরের প্রাপ্তিযোগ বর্ণনা সংক্রান্ত বিষয়ে, কিন্তু পত্রিকায় সে সংক্রান্ত কোন প্রশ্নোত্তর তেমনভাবে দেখা গেল না, অথচ গুরুত্বের বিবেচনায় সে বিষয়টিরই অগ্রাধীকার পাওয়ার কথা।
নোবেলপ্রাপ্তি আমাদের মত একটি দেশের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি সন্দেহ নেই, এ ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে অনেক বড় হয়ে দেখা দেয় জাতীয় প্রাপ্তির বিষয়টি, ব্যাক্তির অর্জনকেও তাই জাতীয় অর্জন হিসেবেই গন্য করা হয়। অধ্যাপক ইউনুসের নোবেলপ্রাপ্তি কতটা আমাদের জাতীয় প্রাপ্তি হয়ে উঠেছিল সে বিষয়টি বেশ প্রানিধানযোগ্য। তিনি যে নোবেল পেতে পারেন, আগে থেকেই সে আভাষ পাওয়া যাচ্ছিল। যখন পেলেন, বাংলাদেশের অনেকেই তখন বিস্মিত হয়েছিলেন, কারন ক্ষুদ্রঋন নামক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সামনে রেখে তিনি নোবেল পেয়েছিলেন শান্তিতে। অর্থনীতিতে কেন নয়? এটা যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যুগান্তকারী কোন মডেল নয়, নোবেলের কর্তাব্যাক্তিরা কি তা বুঝতে পেরেছিলেন? তাহলে শান্তিতেই বা কেন? গ্রামীন ব্যাংকের কার্যক্রম দেশে শান্তির কি নহর বইয়ে দিয়েছিল? হয়তো এসব প্রশ্নের উদয় হয়েছিল বলেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ঘনিষ্ট জনাকয়েক অর্থনীতিবিদ ছাড়া সর্বমহলে তেমন বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস পরিলক্ষিত হয় নি, কারনে অকারনে বাঙালীর উচ্ছাসপ্রিয়তার বৈশিষ্টের সংগে যা মোটেই সাজুয্যপূর্ণ নয়।
হাসিনা গণমানুষের নেত্রী। তাঁর নিজের এবং তাঁর দলের একটি আলাদা হিসেব থাকলেও বিডিনিউজের সংবাদের সূত্র ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইউনুস বিষয়ক যে সকল মন্তব্য প্রকাশিত/প্রচারিত হয়েছে তার বক্তব্যও তার অধিকাংশের অনুরুপ। তবে যে সংবাদের সূত্র ধরে হাসিনা এমন সব মন্তব্য করেছেন, সে সংবাদের উৎসস্থলে যে ভিন্নস্রোত বইতে পারে সে সম্পর্কে কি হাসিনার কোন পূর্বানুমান ছিল না? নাকি সেখানেও রয়েছে ভিন্ন কোন হিসাব নিকাশ?

গুরুত্বপূর্ন সব ব্যাক্তিত্বের গুরুগম্ভীর কথাবার্তার পাশে আমার মনে ছোট্ট দুটি প্রশ্ন জেগেছে-
১. সংবাদটি প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল নরওয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টিভিতে, সে অর্থে সেটা নরওয়ে সরকারেরই ভাষ্য। একটি অসত্য ভাষন কেন তারা প্রচার করলো?
২. ইউনুস গ্রামীন ব্যাংক থেকে গ্রামীন কল্যান ট্রাষ্টে টাকা স্থানান্তরের সময় কারন হিসেবে যা উল্লেখ করেছিল, করের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তা করা হয়েছিল, বাংলাদেশকে ছলাকলার মাধ্যমে ন্যায্য কর থেকে বঞ্চিত করা ইউনুস এবং নোরাডের জন্য আদৌ সত্যনিষ্ঠ ছিল কি?
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×