somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

কিছু সুসময় লক্ষ করছি! যা দেখি তাই লিখি!

১৭ ই আগস্ট, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন ধরে টেবিলে রান্না করা পাতিল উঠে যেত, আজকাল আবার বাটি দেখা যাচ্ছে! আপা শেখ হাসিনার পলায়নের আগে মুলত পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সব কিছু ঝিমিয়ে পড়েছিল। যেখানেই যেতাম, রাস্তাঘাটে যাকেই দেখতাম, কেমন যেন সবাই মন মরা, কেহ যেন সুখে ছিলো না, প্রায় সবার মনের মধ্যে কি একটা যেন কাজ করত, কেহ অতিরিক্ত কাজ করতেই চাইত না, হাসতেও মনে হয় বাঁধা পেত। শেখ হাসিনার পলায়নে কোথায় যেন সাধারন মানুষের মনে একটা আনন্দ এসেছে, এটা আমি আমার দেখার চোখে দেখেছি!

আজকাল বাজার কেমন চলছে! আমি নিজে সব সময়ে বাজার করি, সব্জির কেজি এখন ৫০ থেকে ৬০টাকার মধ্যে। গতকাল আমি বেশ কয়েক পদের সবজি কিনেছি, অনেকদিন পরে মনে হল হাত ভারী করে বাসায় ফিরেছি। প্রায় ৪০০টাকার সবজি এক হাতে বাসায় নিতে খবর হয়েছে বেশ, অন্তত ১ সপ্তাহ চলে যাবে। যে কোন শাক আটি ১৫ থেকে ২০টাকার মধ্যে দেখলাম, লাল শাকের তিন আটি ৩০টাকায় দিতে চাইলো, অনেক সবজি কেনার পরে প্রিয়তমা স্ত্রীর কথার ভয়ে আর শাক কিনি নাই! মাছের দামে দেখলাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০টাকা কম আগের তুলনায়! যে চিংড়ি আগে ১১০০টাকায় তা দেখলাম ৯০০টাকা, তেলাপিয়া, রুই, পাঙ্গাসে ২০/৩০টাকা কমেছে কেজিতে। জিয়ল মাছের কাছে যাই নাই, ফলে বলতে পারবো না, তবে মশলাপাতিতে তেমন কমে নাই। পেঁয়াজ ইন্ডিয়ান ১০০, দেশি ১১০ থেকে ১১৫টাকার বিক্রি হচ্ছে, আদা রসুন গুড়া মরিচ হলুদ জিরা ও গরম মশলাতে দাম কমে নাই।

নিত্য পরিবারের ব্যবহার্য তেল, সাবান, স্যাম্পু, ওয়াশিং পাউডার ইত্যাদি কমে নাই। সব চেয়ে যা ভাল লেগেছে ফার্মের মুরগী কেজি ১৬০টাকা করে কিনলাম, ফার্মের মুরগী মধ্যবিত্তের একটা জরুরী পণ্য, সাধারন রান্না বা চিকেন ফ্রাই বা চায়নিজ কোন রান্নায় এর কদর বেশ, কত খাবি খা! বাজার ঠিক থাকলে মধ্যবিত্তের অনেক কষ্ট লাগব হয়ে যায়! কাঁচা মরিচ দেখলাম ২৮০টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ সংরক্ষণে আপা শেখ হাসিনার বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারলে ভাল হত! তিনি যা বলেছিলেন, যতদুর মনে করতে পারি, তিনি রেসিপি/টিপস দিয়েছিলেন, সিজনে কাঁচা মরিচ কিনে সিদ্ধ করে ডীপ ফ্রীজে রেখে দিতে, পরে বে-সিজনে তা বের করে তরকারীতে দিতে! উনার এমন নানান রান্নার টিপস এখন আমাদের আর কে দিবে? ভেবে কুল পাই না!

অফিসে আসতে যেতে আজকাল তেমন বেগ বা যানজট পাচ্ছি না, রাস্তা প্রায় দেখি ফাঁকা! রাস্তাঘাটের দামী গাড়ি গুলো গেল কই, বিএমডাব্লিও, নিশান, পাজারো, হ্যামার, প্রাডো গাড়ি আমাদের মালিবাগ মৌছাকে আজকাল তেমন দেখছি না। ছাত্রদের গাড়ি চেকিং এদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে! হা হা হা। শেখ হাসিনা সরকার প্রায় ১৬ বছর ধরে ধনীদের পক্ষেই কাজ করে গিয়েছে, গরীব ও সাধারন মানুষকে তিনি চোখে রাখেন নাই, ফলাফল পেয়ে গেছেন! আমি প্রায় এখন চিন্তা করি তিনি দিল্লীতে আজকাল ঘুমান কি করে? উনার কি ঘুম আসে এখন! আমি সাধারন ভুলে দুই টাকা হারালে প্রায় চোখের পাতা এক করতে পারি না, অথচ তিনি নিজের ভুলে, নিজের কর্মে এত বড় সিংহাসন হারালেন! ওহ, চিন্তা করলেই মাথা ঠনঠন করে!

যাই হোক, যা নিয়ে লিখতে বসেছি, যে ছবি দেখাতে বসেছি, তাই নিয়ে আলোচনা করি, আমাদের মত লোকেদের কাজ করেই এই জীবন পাড়ি দিতে হবে। সকালে উঠো, নাস্তা খাও , অফিসে যাও, কাজ করো, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরো, টিভি দেখো, প্রিয়তমা স্ত্রীর কঠিন মুখ দেখো, আবার খাও, ঘুমিয়ে যাও! এই তো আমাদের জীবন সাইকেল, দুই চাকার! (ক্রমশ)


সবাই ভাল থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৫
৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে থাকাই পরম বিস্ময়

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩


পথেঘাটে ঘুরিফিরি, যেকোনো সময়
পটল তুলতে পারি গাড়ির ধাক্কায়।
মাঝেমধ্যে থাকি এমনও আশঙ্কায়,
নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে
মাথা ফেটে রক্তক্ষরণে প্রাণটা যায়!
এমন পরিণতিতে লোকে দুঃখ করে।
গাড়ি, ট্রেন, প্লেন, হয়তোবা ইস্টিমার
দুর্ঘটনায় প্রাণটা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা'কে লেখা প্রীতিলতার শেষ চিঠি

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৯




আমায় তুমি পিছু ডেকো না'গো মা
আমার ফেরা সম্ভব  না।
দেশ মাতৃকায় উৎসর্গিতা আমি
আমি তো সেই ক্ষণজন্মা! 

আমায় তুমি আশীর্বাদ করো মা,
মোছো তোমার চোখের জল।
নিপীড়িতদের আর্তনাদ শুনছো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×