somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিঞ্জিরায় তৈরি হচ্ছে চাইনিজ মোবাইল

০৪ ঠা মে, ২০১১ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানবজমিন, বুধবার, ০৪ মে ২০১১

অবিকল চাইনিজ মোবাইল ফোন সেট, ফ্লাক্স, ওয়াটার হিটার। সিলমোহরও চাইনিজ। মেড ইন চাইনিজ লেখা এসব মালামাল তৈরি হচ্ছে ঢাকার জিঞ্জিরায়। আর অবিকল চাইনিজ এসব মালামালে ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পাইলট, সিনিজু, রিগ্যাল। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে আই ফোন, ম্যাক্সিমাস কোম্পানির নাম। কেরানীগঞ্জ থানার জিঞ্জিরা। নকল পণ্য তৈরির নামকরা স্থান।
গুলিস্তানের ফোন মার্কেট থেকে মোবাইল ফোনের ক্যাসিং, ব্যাটারি, চার্জারসহ নানা পার্টস কিনে নেয় তারা। আর এগুলো দিয়েই ইঞ্জিনিয়াররা ফটাফট তৈরি করছে নকল মোবাইল ফোন সেট। আর বসিয়ে দেয়া হচ্ছে চিনের নামী-দামি কোম্পানির সিলমোহর। এই জিঞ্জিরায় আগানগর, বাসপট্টি, কাঠপট্টি, থানাঘাট, ফেরিঘাট, এলাকার বাসাবাড়ি ও গুলশান সিনেমা হলের সামনে হাবীব কমপ্লেক্সে এসব পণ্য তৈরি হচ্ছে। আর বিখ্যাত সব কোম্পানির মালামাল তৈরি করছে লেখাপড়া না জানা কারিগররা। এদের ইঞ্জিনিয়ার নামে ডাকা হয়। এ রকমই একজন ইঞ্জিনিয়ার রাকিব। স্কুলের মুখ দেখেনি জীবনে। বয়স যখন ১০ বছর তখন এই জিঞ্জিরায় পা রাখে। প্রথমে ফুট-ফরমায়েশ খাটতো। এখন নামী ইঞ্জিনিয়ার। হাতের ইশারায় তৈরি করে ফেলে মোবাইল ফোন সেট। একটি ফোন সেট হাতে দিয়ে বলে, দেখুনতো চেনেন কিনা, ফোনটা জিঞ্জিরার না দেখে চেনার উপায় নেই। বলে, এখানে সবই নকল হয়। সরজমিনে দেখা যায়, বাঁশপট্টি বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি কার্গো ট্রাক থেকে কার্টন ভর্তি মালামাল নামছে। সামনের চায়ের দোকানদার জাফর জানালেন, এগুলো চায়না ফ্লাক্স তৈরির উপকরণ। এখানে বসেই তৈরি হবে চায়নার ফ্লাক্স। চা দোকানের পেছনে মনির হাজির কারখানা। এখানে ফ্লাক্সের বডি তৈরি হয় আর কার্টনগুলোর ভিতরে রয়েছে রিফিল (ফ্লাক্সের ভিতরের কাচের অংশ) সহ আরও অনেক বস্তু। ফ্লাক্স বানানোর মতো মেশিন ও জনবল তার রয়েছে। এখানে তৈরি ফ্লাক্স হয়ে যায় ‘মেড ইন চায়না’। খোঁজ নিতে গ্লোবাল মেটাল ও গ্লোবাল হারিকেন কারখানার ভিতর ঢুকতে চাওয়া হলে কারখানার দারোয়ান বাধা দিয়ে বলেন, ভিতরে কারও প্রবেশ নিষেধ। আপনার কোন কিছুর প্রয়োজন হলে মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। কারখানার কর্মচারী পরিচয় দানকারী বাবুলের সঙ্গে মালের উৎপাদন খরচ বিষয়ে কথা বলে জানা যায়, এখানে একটা ফ্লাক্সের বডি বানাতে ১০ থেকে ১২ টাকা খরচ পড়ে। আর রিফিল বাইরে থেকে আনতে খরচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সবমিলে একটা ফ্লাক্স ১০০ টাকার ভিতরে প্রস্তুত হয়ে যায়।
চায়না পাইলট, সিনিজু ও রিগ্যাল ফ্লাক্সের প্রকৃত বাজারদর আড়াইশ’-তিনশ’ জোর সাড়ে তিনশ’ টাকা। চায়না থেকে এই মালগুলো আনতে দুইশ’ টাকার উপরে খরচ পড়ে বলে জানায় চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ফ্লাক্স বিক্রেতা ও আমদানিকারক ভাই-ভাই ক্রোকারিজের মালিক বাদশা।
হাবীব কমপ্লেক্সের আধুনিক কম্পিউটার সেন্টারে নানান ব্র্যান্ডের চায়না মোবাইল ফোন সেট চায়না চার্জার, ওয়াটার হিটার ও ফ্লাক্স দেখা যায়। ব্যবসায়িক কাস্টমার পরিচয়ে দোকানের কর্মচারীর রফিকের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলাপের এক পর্যায়ে আর্থিক দুর্বলতার কথা জানালে সে বলে, আপনার দোকান কোথায়? কামরাঙ্গীচরে বলতেই সে বলে, সমস্যা নেই চালাতে পারবেন। আমাদের কাছ থেকে চরের অনেকে মাল নিয়ে যায় এবং খুব ভাল চলে। দাম কোন সমস্যা না, চালাতে পারবেন কিনা ভেবে দেখেন। কোন ধরনের মাল লাগবে। এমন কথার জবাবে মোবাইলসহ চায়না সামগ্রির জিনিসপত্র লাগবে বলতেই সে মালামাল বের করে দেখাতে থাকে। দাম সাধারণ বাজারের থেকে অর্ধেক। কিভাবে অল্প দামে দিচ্ছে জানতে চাইলে সে বলে, জিঞ্জিরায় মাল কিনতে এসেছেন আর এটা বোঝেন না। সে আরও বলে, গুলিস্তানের মার্কেট থেকে দোকানের মালিক শবনুর আক্তার ক্যাসিং, ব্যাটারি, চার্জার, নিয়ে আসে। আমরা বাজার থেকে প্যাকেজিং প্যাকেট, ওয়ারেন্টি-গ্যারান্টি কার্ড বানাই। তারপর বাসায় বসে কারিগর রেখে ফিটিং করি। তাতে খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। আর টুকটাক মালামাল আমরা নিজেরাই বানিয়ে ফেলি- এমন কারিগরও আমাদের আছে। লালবাগের শিমুল জানায়, মোবাইল মেলায় কমদামে চায়না সেট কিনেছিলাম ২৪শ’ টাকায়। কেনার সময় অনেক কথা বলা হয়েছিল। এখন মেলা শেষ আমার মোবাইল সেটও শেষ। ওই দোকানে গেলে শুধু বলে, রেখে জান ঠিক করে দিবো। একবার ঠিক করে দিয়েছিল। আবার যা-তাই হয়ে গেলো। ওদের পিছনে ঘুরতে ঘুরতে আমার আরও অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে। শুধু-শুধু ২৪শ’ টাকা ধরা খেলাম। শুধু শিমুল না, এভাবে প্রতিনিয়ত ধোঁকা খাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের লাখ-লাখ মানুষ।
গ্লোবাল মেটালের মালিক হাজি মনিরের সঙ্গে তার কারখানায় চায়না মালামাল উৎপাদন বিষয়ে কথা বললে সে বলে, আমি বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমতি নিয়ে বানাচ্ছি। বিনিয়োগ বোর্ডের চায়না মালামাল বানানোর অনুমতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কাগজপত্র আছে বলে সে দাবি করে। তার কারখানায় উৎপাদিত ফ্লাক্সের নাম জানতে চাওয়া হলে কোন নামই সে বলতে পারেনি। শুধু বলেছে, যেগুলো বানানো হচ্ছে তার কাগজ আছে।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×