somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবা

১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাবা মানুষটাকে নিয়ে আগে কখনও কিছু লিখিনি। লিখার কথাও ভাবিনি। এই মানুষটা বলতে গেলে আমার অপছন্দের তালিকাতেই ছিল। কারণে হোক আর অকারণেই হোক শাসনটা একটু বেশি করতো বলেই হয়তো। তাও আবার তিন ছেলের মধ্যে আমাকেই বেশি। কারণটা আর ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। সাধারণত যা হয়। মানুষটার উদ্দেশ্য কখনই খারাপ ছিল না। কোন বাবারই থাকে না। মানুষটা শুধু সব কিছু নিখুঁত চাইত। তাতেই ছিল আমার অনীহা। পড়াশুনা, সামাজিকতা কোনটাই আবার মধ্যে ছিল না। এখনও নেই। সেই তুলনায় আমার বাকি দুই ভাই আমার থেকে হাজার গুনে ভালো। তবে বাবা মারতে গেলে অবশ্যি চুপচাপ বসে থাকতাম না। বরং গলা ফাটিয়ে নির্বিঘ্নে চিৎকার করে যেতাম। পরে মানুষটা এক পর্যায়ে হাল পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই মানুষটার ছেলেগুলিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখনো আছে। আমিই খালি স্বপ্নে বাগড়া দিলাম। মানুষটার সাথে অনেক অনেক দিন কথা না বলে ছিলাম জিদ করে। এমনও হয়েছে। একি ঘরে দুজন বসে আছি, অথচ মনে হয়েছে আমি ছাড়া সেই ঘরে আর কেউ নেই। মানুষটা আমার ভালো চাইতো কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি। মানুষটা পরিবারের জন্যে সারাদিন খেঁটে ঘরে ফিরতো। বড় ভাইয়া আর পিচ্চিটা দৌড়ে যেত। আমি ঘরে থেকে বসে বসে আওয়াজ শুনতাম। অথচ, জন্মের পর থেকে আমি এই মানুষটার কাছে মানুষ হয়েছি। এই ছোটবেলায় এই মানুষটার হাতে মাথা রেখে ঘুমিয়েছি। জন্মের সময়ে মার অবস্থা খুব শোচনীয় ছিল। প্রচণ্ড রক্তপাত। ভাইয়ার বয়স মাত্র দু বছর। বাইরে তীব্র তুষারপাত। হাসপাতালে যাবারও উপায় নেই। এই মানুষটার অবস্থা তখন কি ছিল বলা যায়? তারপরও মা, ভাইয়া কিংবা আমার যত্নের এতটুকু কমতি হয়নি। এতটা অকৃতজ্ঞ না হলেও হতো।

এখনকার অবস্থা জানি না, মানুষটা আমাকে নিয়ে কি ভাবেন। এখন প্রায় রাতে টিভি দেখতে থাকা মানুষটার দিকে আমি উঁকি দিয়ে তাকিয়ে থেকে দেখতে থাকি। বয়সের ছাপ চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে চলে গেছে। এখন আর সারাদিন খাটাখাটনির পর আগের মত জেগে থাকতে পারেন না। মাঝে মাঝে সাহস করে কাধে একটু হাত রেখে বলি, "শুতে যাও।" এইটূকুই। মানুষটার এই কঠোর একটা খোলসের মধ্যে একটা বাচ্চা লুকিয়ে আছে। আমিই সে বাচ্চাটাকে বের করে আনতে পারিনি। সেই বাচ্চাটাও তো চায়, দিনরাত খাটাখাটনির পর ক্লান্তি হয়ে ঘরে ফেরার পর তাকে আরেকটা বাচ্চা এসে গলাটা জড়িয়ে ধরুক। শেষ কবে গিয়েছি জানি না। কখনও চোখ তুলে তাকাবারও সাহস হয়নি। গতবছর অনেক সাহস করে দূর থেকে ফোনে একবার বলেছিলাম, "হ্যাপি বার্থডে"। অথচ আজকে পাশের রুমে থেকেও বলতে পারছি না, "হ্যাপি ফাদারস ডে'"। শত শত মাইল দূর থেকেও মানুষকে বোঝা যায়। আবার খুব কাছে থাকা মানুষটার ভিতরে কি কাজ করে সেটা বোঝা যায়। খুব অদ্ভুত একটা ব্যাপার।

মানুষটাকে চিনতে আমার অনেক সময় লেগেছে। আবার ভয়টাও অনেক বেড়ে গিয়েছে। সবসময় এই মানুষটা আমার কাছে থাকবে তো ! অনেকের কাছেই হয়তো এখন নেই। তাদের কথা চিন্তা করলে অনেক খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে আপন মনেই বলি, "প্রকৃতি তুমি এতো নিষ্ঠুর কেন?"

লিখতে লিখতে দিনটা চলে গেল। এইবছরও বলা হল না। অনেকেই হয়তো বলবেন বাবা দিবস বিদেশে পালন করা হয় ওল্ড হোমে রেখে আসা বাবাকে দেখে আসার একটা উপলক্ষ হিসেবে। আমাদের সবার কাছে প্রতিটা দিনই হোক বাবা দিবস। কথাটা ঠিক। এবং এইটাই হওয়া উচিত। কিন্তু তারপরও আমার মত কিন্তু মানুষের জন্যে এই বাবা দিবসটা অনেক কিছু।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৪ রাত ১:১৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×