somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কানাতা - আমাদের গ্রাম।

০১ লা জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




কানাতা - আমাদের গ্রাম (পূর্বের পর)

১৮৪০ সালে আপার এবং লোযার কানাডা একত্রিত করে কানাডার একটি প্রদেশ (প্রভিন্স অফ কানাডা) হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই সময় স্যার লা ফনটেন, রবার্ট বাল্ডউইন এবং নোভা স্কোশিয়ার সংস্কারবাদী জেমস হাও মিলে জনপ্রতিনিধিত্ত্বশীল সরকার কায়েমের লক্ষে এক যোগে কাজ করেন। ফলস্স্রুতিতে লন্ডনের সরকারএর উত্সাহে একীভূত কানাডার গভর্নর লর্ড এলগিন ১৯৪৮ সালে তা কার্যকর করেন। ব্রিটিশ নর্থ আমেরিকার মধ্যে নোভা স্কোশিয়াই হচ্ছে প্রথম যেখানে রেস্পন্সিবল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এখনকার কানাডার সরকার ব্যবস্থার সুচনা হচ্ছে তা। গণতন্ত্রের অগ্রদূত এবং ফরাসী ভাষার অধিকার আদায়ের প্রবক্তা লা ফন্টেন কানাডা সরকারের প্রথম নেতা। ১৮৬৪ থেকে ১৮৬৭ সালের মধ্যে নোভা স্কোশিয়া, নিউ বার্নসউইক এবং প্রভিন্স অফ কানাডার প্রতিনিধিরা চার্লেটটাওন, কুইবেক ও লন্ডনে বার তিনেক বৈঠক করে বৃটিশের সহযোগিতায় একটি নতুন দেশ ডমিনিয়ন অফ কানাডা প্রতিষ্ঠিত করেন.যেখানে দুই পর্যায়ের সরকার ব্যবস্থা রাখা হয়, যেমন ফেডেরাল এবং প্রাদেশিক। প্রত্যেক প্রদেশের যার যার নিজেদের আইন সভা থাকবে ও শিক্ষা এবং স্ব্যাস্থ্য ব্যবস্থার উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৮৬৭ সালে নর্থ আমেরিকা এক্ট পাশ করে। ১ জুলাই ১৮৬৭ সালে জন্ম হলো কানাডার যা কনফেডারেশন নামে অভিহিত হয়, যা নিজেদের দ্বারা শাসিত হবে। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত, ১ জুলাই ডমিনিয়ন দিবস হিসেবে উদযাপিত হোত। ১৯৮২ সালের পর হতে এখন সরকারী ভাবে ১ জুলাই "কানাডা দিবস" হিসাবে উদযাপিত হয়।

পরবর্তিতে ১৮৭০ সালে ম্যানিটোবা, নর্থ ওয়েস্ট টেরিটরিস, ১৮৭১ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ১৮৭৩ সালে প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড,১৮৯৮ সালে ইউকন টেরিটরি, ১৯০৫ সালে আলবার্টা, সাসকাচুয়ান, ১৯৪৯ সালে নিউ ফাওল্যান্ড এবং ল্যাব্রাডর এবং সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে নুনোভুট কানাডার অঙ্গীভূত হয়। স্যার জন আলেক্সজেন্ডার ম্যাকডোনাল্ড হলেন কানাডার প্রথম প্রধান মন্ত্রী। স্কটল্যান্ডে জন্ম নেয়া তুখোড় ওই রাজনৈতিক ১৮১৫ সালের জানুয়ারীএর ১১ তারিখে তার শৈশবে আপার কানাডায় অভিবাসন করেন। পড়াশুনা শেষে তিনি অন্টারীয়র কিংস্টনে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি ছিলেন একজন সত রাজনীতিক এবং বর্ণময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কানাডার পার্লামেন্ট ১১ জানুয়ারীকে স্যার জন এ. ম্যাকডোনাল্ড দিবস ঘোষণা করে। কানাডার দশ ডলারের নোটে তার ছবি মুদ্রিত আছে।

বিভিন্ন অঞ্চলের কানাডার অন্তর্ভুক্তি কিন্তু নির্বিঘ্ন ছিল না। ১৮৬৯ সালে মেটিসদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই বিস্তীর্ণ উত্তর পচ্চিমাঞ্চল হাডসন বে কোম্পানি থেকে কানাডার অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। ফলে লুইস রিলের নেতৃত্বে মেটিসদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়। তারা ওই অঞ্চলের রাজধানী ফোর্ট গ্যারি দখল করে নেয়। ১৮৭০ সালে অটোয়া সৈন্য বাহিনী পাঠিয়ে ফোর্ট গ্যারি পুনর্দখল করে। রিলে আমেরিকাতে পালিয়ে যায়। ওই অঞ্চলে কানাডা একটি নতুন প্রদেশ গঠন করে যার নাম মানিটোবা। পরে রিলে ফিরে এসে পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন, কিন্তু কখনই সংসদে তার আসন গ্রহণ করেন নাই। এরই মধ্যে কানাডা পচ্চিমাঞ্চলে তার বিস্তৃতি ঘটাতে থাকে যা ছিল মেটিস এবং ইন্ডিয়ানদের অধিকার হরণের হুমকি স্বরূপ। ফলে আবার ১৮৮৫ সালে রিলের নেতৃতেই আবার বিদ্রোহ দেখা দে। এবার আর রিলে রেহাই পেলোনা। তার বিচার করে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ফরাসী অধ্যুষিত কুইবেকের মানুষ এর প্রচন্ড বিরোধিতা করে। অনেকেই রিলকে বীরের চোখে দেখতেন। তিনি ছিলেন মেটিসদের অধিকার আদায়ের প্রবক্তা এবং মানিটোবার জনক। মেটিসদের প্রথম বিদ্রোহের পর প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড ১৮৭৩ সালে নর্থওয়েস্ট মাউএনটেন পুলিশ ঘঠন করেন। তাদের দায়িত্ব ছিল ইন্ডিয়ানদের সাথে আলোচনা পূর্বক ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য বেশ কয়েকটি জায়গায় যেমন ফোর্ট ক্যালগ্যারি, ফোর্ট ম্যাকলেওড, রেজিনা এবং অনান্য অঞ্চলে ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। পরবর্তী কালে ওই ঘাটি সমূহ শহর নগরে পরিনত হয়। রেজিনা ছিল তাদের সদর দফতর। বর্তমানে নথ ওএস্ট মাউনটেন পুলিশ কানাডার জাতীয় পুলিশ বাহিনী এবং কানাডার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সর্বপরিচিত প্রতীক। বর্তমানে তা রয়াল মাউন্টেন পুলিশ নাম পরিচিত। এর মধ্যে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ১৮৭১ সালে কানাডার সাথে অঙ্গীভূত হয়, অটোয়া ওই অঞ্চল পর্যন্ত রেল লাইন নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলে।

নভেম্বর ১৮৮৫ সালে কানাডিয়ান পাসিফিক রেলওয়ের নির্মান কাজ সমাপ্ত হয়, যাতে ব্রিটিশ এবং আমেরিকান বিনিযোগকারীরা অর্থের যোগান দেয়। ইউরোপিয়ান এবং চীনা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কাজটি সমাপ্ত হয়। যদিও চীনা শ্রমিকরা ছিলো চরম বৈষম্যের শিকার। বহু বছর পরে ২০০৬ সালে কানাডা সরকার চীনাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। কানাডিয়ান পাসিফিক রেলওয়ে প্রতিষ্ঠার ফলে কানাডার অর্থনীতির শনৈ শনৈ উন্নতি হতে থাকে। এর পরের ইতিহাস চরম উন্নতির ইতিহাস, সমৃদ্ধির ইতিহাস। বর্তমান বিশ্বে কানাডা একটি মুক্ত অবাধ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে উন্মুক্ত ও কল্যাণকর রাষ্ট্র। জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দীক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র ও সামাজিক নিরাপত্তায় কানাডা বিশ্বের একটি শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র। আজ ১ লা জুলাই কানাডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। টরন্টো অন্টারিও কানাডা থেকে কানাডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা। হ্যাপি কানাডা ডে। সমাপ্ত।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ২:৪৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×