এরপর অনেক দিন চলে গেছে, এখনও পরিস্কার নিকষ কালো আকাশে, ছায়াপথ আর তারা ঝিকমিক করতে দেখলে কৌতুহল মিশ্রিত ভয় লাগে। তবে গুচ্ছস্তবকের প্রতি আগ্রহ অবশ্য এখনও আছে। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে এত ঘন সনি্নবিষ্ট তারাগুলো কিভাবে সাম্যাবস্থায় আছে চিন্তা করলে। যদিও পুরোপুরি সাম্যাবস্থায় আছে ব্যাপারটা তাও না। তবুও মহাকর্ষের কারনে কেন সবাই হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ছে না তাতেই আশ্চর্য হই। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এর মধ্যেই গুচ্ছস্তবকের কম্পিউটার মডেল তৈরী করে ফেলেছেন। গত লেখায় আমি আমার লেখা সিমুলেশন প্রোগ্রামের কথা উল্লেখ করেছিলাম, ওখানে অবশ্য মিলিয়ন নক্ষত্র সিমুলেশন করা সম্ভব না, তবে ছোটখাটো যেমন হাজার খানেক বস্তু নিয়ে সিমুলেট করে দেখতে পারি। কারো হাতে সময় থাকলে নিচের লিংক থেকে ডাউনলোড করে দেখতে পারেন। ভয় নাই কোন ভাইরাস নেই। এক হাজার অবজেক্ট নিয়ে শুরু করলে দেখব এখান থেকে কিভাবে একটা বা দুটা ভারী নক্ষত্র আর তার চারপাশে কয়েকটা গ্রহ তৈরী হতে পারে। আগের লেখায় যেমন প্রশ্ন করেছিলাম চাঁদ কিভাবে বিশেষ গতিবেগ পেল, যেন পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে পারে (পড়ে না গিয়ে)। যে কোন র্যান্ডম সিমুলেশন করলে দেখব কেউ না কেউ এরকম গতিপথ পাওয়াটাই স্বাভাবিক, চাঁদের গতিবেগ মোটেই বিশেষ কিছু নয়, বরং অনেক সম্ভাব্য পথের একটি।
প্রোগ্রামটা দিয়ে সিমুলেশন সেভ করে রাখতে পারবেন। আমি একটা স্যাম্পল সিমুলেশনের লিংক নীচে দিয়েছি। এই সিমুলেশন 100টা অবজেক্ট নিয়ে শুরু হয় (ছবি-2.1), ওপেন করার পরই দেখবেন বেশীরভাগ বস্তুগুলো নিজেদের মধ্যে আকর্ষন আর সংঘর্ষে ক্রমশ মিলিত হয়ে ওজনে ভারী হতে থাকবে (ছবি-2.2)। বস্তু গুলোর রং-এর সাথে ওজনের সম্পর্ক আছে, যেমন ব্রাউন ( brown dwarf) সবচেয়ে হালকা , তারপর ক্রমশ লাল, কমলা, হলুদ, নীল শেষমেশ খুব ভারীগুলো বেগুনী (super giant star)। মহাকর্ষের ক্রিয়াতেই অনেক বস্তুই দ্্রুত ক্লাস্টার থেকে বাইরে চলে যাবে। এই কৌশলকে কাজে লাগিয়ে নাসা'র বিজ্ঞানীরা আন্তঃগ্রহ নভোযানগুলোর গতিবেগ বাড়াতে সক্ষম হন (যেমন ভেয়েজার, গ্যালিলিও বা ক্যাসিনির ক্ষেত্রে)। এর অন্য নাম হচ্ছে gravitational sling shot। যাহোক কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলে সবকিছু স্থিতাবস্থায় আসবে (ছবি-2.5)। ব্লু জায়ান্ট একটা নীল তারার চারপাশে লাল ছোট তারা উপবৃত্তাকারে ঘুরতে থাকবে, আর দুরে একটা ব্রাউন গ্রহ অথবা বামন তারা ঘুরতে থাকবে (ছবি-2.6)। অনেকটা আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের মতো, আলফা সেঞ্চুরী (দুরত্ব 4 আলোকবর্ষ ) আসলে জোড়া তারা (যেমন এই সিমুলেশনে লাল এবং নীল তারাদ্্বয়), তাদের চারপাশে প্রক্সিমা সেঞ্চুরী নামে আরও ছোট একটা তারা ঘুরছে।
আরেকটা ব্যাপার, সিমুলেশনে দেখা যাচ্ছে লাল নক্ষত্রের আকর্ষনে ভারী নীল নক্ষত্র অল্প হলেও অবস্থান পরিবর্তন করছে, বাস্তবে চাঁদের আকর্ষনে পৃথিবীও তার কক্ষপথে এদিক ওদিক সরে যাচ্ছে। একই ঘটনা ঘটছে সুর্যের ক্ষেত্রেও, গ্রহগুলোর আকর্ষনে সুর্য তার গ্যালাক্টিক গতিপথে আকাবাকা ভাবে আগাচ্ছে। একে বলা যায় wobbling , সমপ্রতি আমাদের সৌরজগতের বাইরে যেসব গ্রহ আবিস্কার হচ্ছে তার অনেকগুলোই সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন নক্ষত্রের wobbling পরিমাপের মাধ্যমে।
লিংকঃ মুল প্রোগ্রাম - http://tinyurl.com/mxr2b
সিমুলেশন স্যাম্পল - http://tinyurl.com/m7lok
.net framework না থাকলে মাইক্রোসফটের এই লিংক http://tinyurl.com/b88mw থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


