somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রদ্ধাঞ্জলি : চলে গেলেন কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান - পর্ব ১

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান একজন বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি কবিতা দিয়েই তার লেখালেখির জীবন শুরু করেন। তার একটি কবিতা: কবিতায় আর কী লিখব?/যখন বুকের রক্তে লিখেছি/ একটি নাম বাংলাদেশ। কবিতাটি তার ‘প্রতনু প্রত্যাশা’ কাব্যগ্রন্থে গ্রন্থিত হয়েছে। এ কবিতাটির উচ্চারণ বাংলা কবিতার গণনার মধ্যে থাকবেই। আর একটি কবিতা: আগুন জ্বেলে ঘর জ্বালানো /গ্রাম জ্বালানো/খুবই সহজ?/ বুলেট ছুঁড়ে বুদ্ধিজীবী ছাত্রমারা/ কৃষক বণিক দোকানী আর মজুর মারা/ ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ মারা/ খুবই সহজ।/ সহজ বলেই/ বাংলাদেশে মানুষ মরে,/ সহজ বলেই/ বাংলাদেশে আগুন জ্বলে। এ কবিতাটিও কাব্যগ্রন্থ ‘প্রতনু প্রত্যাশা’তে প্রকাশিত। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা ভুলে না যাই, আমরা যদি স্বাধীনতা অর্জনের কথা না ভুলতে চাই। তাহলে কবি মনিরুজ্জামানের ‘সহজে নয়’ কবিতাটিও ভুলবো না।

কবি মনিরুজ্জামান শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়াও লিখেছেন। তার ছড়া বই-এর নাম ‘ইচ্ছে’। ইচ্ছে বই-এর একটি ছড়া: এই সব লাল ফিতে রোদ্দুর/ ওই সব নীলিমা সমুদ্দুর/ পাড়ি দিয়ে বীর বেশে/ চলে যাবে সেও-/ তখন কি ঘুম ভেঙে/মাস্টার, বাবা, আপা/ খুজবে না কেউ? একজন সফল কবির পক্ষেই এমন একটি মিষ্টি ছড়া লেখা সম্ভব। তার আরো ছড়ার বই থাকলে ভালো হতো। ছোটরা আরো মজা নিতে পারতো।

এখন কবি মনিরুজ্জামানের গানের কথা বলবো। তিনি মূলত কবি ছিলেন বলেই বাংলা গানের ভুবনে প্রচুর অমর গান রেখে যেতে পেরেছেন। তার গানের বাণী কাব্য প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। গান লেখা সহজ নয়। গানে একটি ভাবনা, একটি ঘটনা, একটা গল্প একটা দৃশ্যকল্প নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে প্রকাশ করতে হয়। শুধু প্রকাশ করলেই হবে না এমন ছন্দ ও মিল রাখতে হবে যাতে সুর আরোপে গান হয়ে ওঠে। গানের অন্যতম দিক সরলতা, সহজ কথন। যাতে শোনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতা গানের বক্তব্য বুঝে নিতে পারে। গান সহজ করে লিখলেই শ্রোতার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি না গানের বাণী গঠনে একেবারে নতুন ও পৃথক প্রকাশ না থাকে। আদি থেকে এ পর্যন্ত কোটি কোটি গান রচিত হয়েছে কিন্তু ক’টি গান বেঁচে আছে বা কালোত্তীর্ণ হয়েছে তা গবেষণা করে বলতে হবে। কথা ও বিষয়েরতো তেমন হের-ফের নেই। যেমন ধরা যাক প্রেম আগেও ছিল এখনও আছে। দেশ আগেও ছিল এখনো আছে, ভক্তি আগেও ছিল এখনো আছে এবং এ নিয়েই তো গান। তাইলে নতুন ক’রে গান লেখার প্রয়োজন কি? প্রয়োজন এজন্যে যে কোনো মানুষের সঙ্গে কোনো মানুষের যেমন মিল নেই তেমনি মত বা ভাবনা প্রকাশেও কারো সাথে কারোর মিল নেই। আবার সময় ও কালের বিবর্তনেও প্রকাশ ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। যেমন জ্ঞানদাস সেই কতকাল আগে লিখেছেন-‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।’ রবীন্দ্রনাথ লিখলেন-‘আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করবো নিবেদন।’ নজরুল লিখেছেন-‘নয়নভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল।’ একই বিষয়ে এ রকম হাজারো উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমি বলতে চাইছি-বিষয় দুঃখ! কিন্তু তিনজনের প্রকাশ তিন রকম। এবং প্রকাশগুলো শুধু ভিন্ন নয় উপস্থাপনাও একেবারে নতুন। আর নতুন বলে একই বিষয়ের তিনটি গানই শ্রোতার কাছে প্রিয়।


ফজল-এ-খোদা

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান একজন বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি কবিতা দিয়েই তার লেখালেখির জীবন শুরু করেন। তার একটি কবিতা: কবিতায় আর কী লিখব?/যখন বুকের রক্তে লিখেছি/ একটি নাম বাংলাদেশ। কবিতাটি তার ‘প্রতনু প্রত্যাশা’ কাব্যগ্রন্থে গ্রন্থিত হয়েছে। এ কবিতাটির উচ্চারণ বাংলা কবিতার গণনার মধ্যে থাকবেই। আর একটি কবিতা: আগুন জ্বেলে ঘর জ্বালানো /গ্রাম জ্বালানো/খুবই সহজ?/ বুলেট ছুঁড়ে বুদ্ধিজীবী ছাত্রমারা/ কৃষক বণিক দোকানী আর মজুর মারা/ ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ মারা/ খুবই সহজ।/ সহজ বলেই/ বাংলাদেশে মানুষ মরে,/ সহজ বলেই/ বাংলাদেশে আগুন জ্বলে। এ কবিতাটিও কাব্যগ্রন্থ ‘প্রতনু প্রত্যাশা’তে প্রকাশিত। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা ভুলে না যাই, আমরা যদি স্বাধীনতা অর্জনের কথা না ভুলতে চাই। তাহলে কবি মনিরুজ্জামানের ‘সহজে নয়’ কবিতাটিও ভুলবো না।

কবি মনিরুজ্জামান শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়াও লিখেছেন। তার ছড়া বই-এর নাম ‘ইচ্ছে’। ইচ্ছে বই-এর একটি ছড়া: এই সব লাল ফিতে রোদ্দুর/ ওই সব নীলিমা সমুদ্দুর/ পাড়ি দিয়ে বীর বেশে/ চলে যাবে সেও-/ তখন কি ঘুম ভেঙে/মাস্টার, বাবা, আপা/ খুজবে না কেউ? একজন সফল কবির পক্ষেই এমন একটি মিষ্টি ছড়া লেখা সম্ভব। তার আরো ছড়ার বই থাকলে ভালো হতো। ছোটরা আরো মজা নিতে পারতো।

এখন কবি মনিরুজ্জামানের গানের কথা বলবো। তিনি মূলত কবি ছিলেন বলেই বাংলা গানের ভুবনে প্রচুর অমর গান রেখে যেতে পেরেছেন। তার গানের বাণী কাব্য প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। গান লেখা সহজ নয়। গানে একটি ভাবনা, একটি ঘটনা, একটা গল্প একটা দৃশ্যকল্প নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে প্রকাশ করতে হয়। শুধু প্রকাশ করলেই হবে না এমন ছন্দ ও মিল রাখতে হবে যাতে সুর আরোপে গান হয়ে ওঠে। গানের অন্যতম দিক সরলতা, সহজ কথন। যাতে শোনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতা গানের বক্তব্য বুঝে নিতে পারে। গান সহজ করে লিখলেই শ্রোতার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি না গানের বাণী গঠনে একেবারে নতুন ও পৃথক প্রকাশ না থাকে। আদি থেকে এ পর্যন্ত কোটি কোটি গান রচিত হয়েছে কিন্তু ক’টি গান বেঁচে আছে বা কালোত্তীর্ণ হয়েছে তা গবেষণা করে বলতে হবে। কথা ও বিষয়েরতো তেমন হের-ফের নেই। যেমন ধরা যাক প্রেম আগেও ছিল এখনও আছে। দেশ আগেও ছিল এখনো আছে, ভক্তি আগেও ছিল এখনো আছে এবং এ নিয়েই তো গান। তাইলে নতুন ক’রে গান লেখার প্রয়োজন কি? প্রয়োজন এজন্যে যে কোনো মানুষের সঙ্গে কোনো মানুষের যেমন মিল নেই তেমনি মত বা ভাবনা প্রকাশেও কারো সাথে কারোর মিল নেই। আবার সময় ও কালের বিবর্তনেও প্রকাশ ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। যেমন জ্ঞানদাস সেই কতকাল আগে লিখেছেন-‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।’ রবীন্দ্রনাথ লিখলেন-‘আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে দিবস গেলে করবো নিবেদন।’ নজরুল লিখেছেন-‘নয়নভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল।’ একই বিষয়ে এ রকম হাজারো উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমি বলতে চাইছি-বিষয় দুঃখ! কিন্তু তিনজনের প্রকাশ তিন রকম। এবং প্রকাশগুলো শুধু ভিন্ন নয় উপস্থাপনাও একেবারে নতুন। আর নতুন বলে একই বিষয়ের তিনটি গানই শ্রোতার কাছে প্রিয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×