এক হলো নামায পড়া আর তারপর সুরের সাধনা। সারেগামা নয়, আমার প্রিয় কিছু গান গাই, প্রতি ভোরে। বড় পবিত্র সেই প্রারম্ভন!
আমাকে মাঝে মাঝে আমার পরিচিতরা প্রশ্ন করে , নামায পড়ো কেন? বাড়িতে কোন বাধ্য বাধকতা নেই। কেউ ভয় দেখায় না। দোযখের । কেউ লোভ ও দেখায় না [ ছিঃ] , বেহেস্তের । আমি এই দুটো জায়গা নিয়ে মোটেই বিচলিত নই। আমার অনুভূতি খুব সহজ এবং সরল। "ভালো লাগে, তাই পড়ি"। আর কোন যুক্তি নেই। আল্লাহকে ডাকার জন্য ঘটা করে পাঁচবার বসতে হবে কেন, এইটা আমার কাছে একটা আজব কেরফা! সারাক্ষনই তো কথা বার্তা বলি। এত সেবার লাইন না যে পট করে কেটে যায়। দিনে পাঁচবার ডায়াল করা লাগে। নিয়মটা হয়তো যারা ভুলে থাকে , তাদের জন্য! নামায পড়ে উঠার পর মন, শরীর কেমন ফুর ফুরে হয়ে যায়। ইউফোরিয়া পেয়ে বসে আমাকে। দারুন মজা লাগে। এই সময়টা গান গাওয়ার জন্য "নিখুঁত"।
আমার প্রিয় কিছু গান আছে । বেশির ভাগই রবীন্দ্রনাথের পূজা বা প্রেম পর্যায়ের গান। এই জায়গাটাতে রবি বাবুর আসল কেরামতি। একই গান, প্রেমিক অথবা স্রষ্টা , যে কোন কাউকেউ নিবেদন করা যায় । এই রকম কোন গান, যেন প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া । একবার একটা ছবি দেখেছিলাম। অনেক উঁচু পাহাড়ের চুড়ায় , একেবারে প্রান্তে একটা মেয়ে ধ্যানস্ত। সূর্য উঠছে । ক্যাপশন ছিলো , "টু বি ওয়ান উইথ দা ওয়ার্ল্ড"। এই গান গুলো গাওয়ার সময় মনে হয় , আমি , প্রকৃতি আর স্রষ্টা- মিলে মিশে একাকার।
এই রকম একটা তুলে দিলাম - ভোরের সংগীতঃ
অন্তর মম বিকশিত করো, অন্তরতর হে-
নির্মল করো, উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে।।
জাগ্রত করো , উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে ।
মঙ্গল করো , নিরলস নিঃসংশয় করো হে ।।
যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে ,মুক্ত করো হে বন্ধ ।
সঞ্চার করো সকল কর্মে শান্ত তোমার ছন্দ ।
চরণপদ্মে মম চিত নিস্পন্দিত করো হে ।
নন্দিত করো , নন্দিত করো, নন্দিত করো হে ।।
ঢাকা
৮ই জানুয়ারী ২০০৭
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


