রুমে কেউ নেই, রাত হবে তিনটা । আশে পাশের কেবিনের সব রুগীই মনে হয় ঘুমাচ্ছে। বেশি কেউ নেই অবশ্য , ঈদের ছুটি । ডাক্তার, নার্স , সব এর ওর ঘাড়ে ডিউটি চাপিয়ে বাড়ি গেছে। ইমুও যেত, যদি প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষা নিয়ে ভয়ে না মরতো।
পরীক্ষায় বরাবর ভালো রেজাল্ট করা ইমু বাবাকে বড় ভয় পায়! কিচ্ছু বলে না। আজন্ম দুঃখী মানুষটা শুধু ভয়ংকর বিষন্ন কন্ঠে বলে, " মা , পড়ালেখা ছাড়া আর কোন কাজ যাতে তোমাদের করতে না হয়, সেই জন্য তোমার মা আর আমি এখনো , এই বয়সেও উদয়াস্ত পরিশ্রম করি। তার পর এই টুকু কি আশা করতে পারি না যে তুমি ক্লাসে প্রথম হয়ে আমাদের কষ্টটা সার্থক করবে? " এ রকম কথা যদি আবার শুনতে হয়, ইমু আত্মহত্যা করবে। ঠিক মরে যাবে। ছিঃ , কি লজ্জা!
এই জন্যই থেকে যাওয়া। ইন্টার্ন আপুদের সাথে, হোস্টেলে আছে। রিতা আপু একলা হাতে এ্যাডমিশন সামলে এই একটু আগে বমি টমি করে অস্থির!
ঃ ইমু, ছেলেটাকে একটু দেখে আয় না, প্লিজ, আমি কথা দিয়েছিলাম , প্লিজ! কেবিনে আছে। পাঁচ তালার কেবিনে!
গুষ্টি কিলাই উপকারের। ইমুর ইচ্ছা করে মাথার হিজাবটা খুলে ছেলেটার গলায় বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়।
ছাড়, হারামজাদা ! আমি অন্য কারো বাগদত্তা। তুই কোন সাহসে আমার গায়ে হাত দিস।
ইমুর মাথার ভিতর অগ্ন্যুৎপাত ! কিন্তু মুখে কিছুই আসছে না। জীবনে কোন দিন কাউকে গালি দেয় নাই, আজকে দেওয়া উচিত মনে হলেও পারছে না।কি ভাবে দিতে হয়?
নামায পড়া, আপাদমস্তক মেহজাবিন ইমু , অনাঘ্রাতা কুমারী ইমু, একটা পর পুরুষের সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিত , অনধিকার স্পর্শকে গায়ে মেখে তড়িতাহতের মত দাঁড়িয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড। তারপরেই , রিফ্লেক্স কাজ করে।সাঁই করে ঘুরে দাঁড়ায় , হাতে বেরিয়ে আসে চকচকে ড্যাগার!
[রাত আর ভোরের মাঝামাঝি
৮ আর ৯ এর মাঝামাঝি
ঢাকা ' জানুয়ারী
চলবে! ]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


