somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিলোত্তমা

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৫ ভোর ৫:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি সারাপৃথিবীর অধীশ্বর রাজা, সম্রাটের মতই আমার প্রনয়,
ধরণীর ঝিল থেকে ঘরছাড়া চিল, কবিতার মিল থেকে আকাশের নীল সব ই আমার সাম্রাজ্যভুক্ত,
তোমার তিলের সাথে করতে এলাম এখতিয়ার বিনিময়
তোমার তিলাবলির, শরীর জুড়ে উঁচুনিচু টিলাবলির আমি এমন একনিষ্ঠ অনুরক্ত ভক্ত!

যে মিহি তিল তোমার ঠোঁটের অদূরে গালে
অমন কারো প্রেমিক ছিলাম পূর্ব জন্মকালে,
এই তিলের বিনিময় করতে আমি চিরসঞ্জীব উষ্ণ অধীর,
ঠোঁটের উপর ঠোঁট মধুময়, চাঁদ থেকে দেখা চীনের প্রাচীর।
নিয়ে যাও তুমি চাঁদের পাহাড়, বালিয়াড়িজুড়ে প্রথম পায়ের ছাপ,
নিয়ে নাও রূপ সায়রের পত্রবাহার, এক জীবনের চায়ের কাপ ।

একটা তিল নাকের ভাঁজে যায় না দেখা প্রায়,
হালকা গোলাপি কারুকাজে দোজাহানের নবাব অসহায়
এমন তিলের জন্য আমি গ্রীক প্রেমের দেবতা কিউপিড
দিতেই পারি তোমায় লিখে দশ বারোটা পিরামিড !
আর নিয়ে যাও নাটক ঘর ল্যান, ঢাকা অথবা রোম,
শীতের নতুন ভাপা পিঠা, আগুনকাড়ির পাশের ওম।
নিয়ে যাও তুমি এক জীবনের সব বসন্ত মওসুম,
নিয়ে যাও শেষ যৌবনের আনকোরা কুলসুম!

একটা তিল চিবুক জুড়ে কুচকুচে কালো
কোথাও কোন খুঁত নেই বড্ড লাগে ভালো ।
তোমায় দেখে নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়েছি,
ঈশ্বর তার সৃষ্টি বিস্ময় তোমাতে পাঠাল ।
পাল্টে গেছে হিসেব নিকেশ ফারাও হবার ফন্দির,
তোমার জন্য বানিয়ে দিলাম আর্টেমিস এর মন্দির ।
বন্দী হব রে বন্দী, তোমায় নিয়ে নিগুর কোন বৃত্তে,
যুগলবন্দী হবার সন্ধি, তোমায় নিয়ে বেঘোর একাকিত্বে!

একটা তিল কপাল কোনে চুলের ধার ঘেঁষে,
খুঁজে পেলাম বছর বিশেক আবিষ্কারের শেষে ।
একগোছা চুল কানের ধার ঘেঁষে অহরহই সামনে চলে আসে,
তিলখানা খুব সলজ্জ লুকিয়ে তারই নিগুর অন্ধকারের অন্তর্বাসে!
এই খানেতেই জন্ম শুরু, এইখানেতেই মৃত্যু শেষ
এইখানেতেই কপাল লিখন, ভাগ্য মানে আমার দেশ,
এইখানেতেই প্রেম-ভালোবাসা-আশা-ভরসা জয় পরাজয়
বিনিময় এর নিয়ে লও তুমি, ‘মিওজিয়াম’ এর অবশেষ!
নিয়ে যাও তুমি মোরগ লড়াই, মহিষ মহিষ যুদ্ধকে,
রুদ্ধ করে যাও তোমার দেখার আগের কামশুদ্ধকে।
নিয়ে যাও তুমি নৌকা বাইচ, বর্ষপ্রাচীন বটবৃক্ষকে,
কামজাগিয়ে যাও তুমি সিদ্ধ গৌতম বুদ্ধকে!


কালচে খয়েরি তিল চিরনগ্ন পিঠের ক্যানভাসে,
পাঁজরের শেষ হার যেখানে মিশেছে ফনা তোলা দুধরাজের মত শিরদাঁড়ার ঠিক আশেপাশে ।
এ জায়গাটা একটা শহর হতে পারত, হতে পারত একটা সাগর
হতে পারত তারার আলোতে ফুলসজ্জা, বেহুলার লোহার বাসর ।
কি দেব তোমার এমন আদিগন্তনগ্ন পৃষ্ঠকে
যাও নিয়ে যাও অলিম্পিয়াসের যীশু খ্রিস্টকে !
আর নিয়ে যাও হঠাৎ হঠাৎ গুনগুনিয়ে ওঠা লালন গান,
স্বর্গ,নরক, সপ্ত সাগর, তেরনদী, সাত আসমান!
নিতেও পার মোঘল হেরেম, বাইদি ডাক দাঁতের পোকা ফালান,
নিয়ে যাও এই আমাকে পলি মাটির সন্তান ।

আহ কি যে তিল বাম বুকের ঝুল বারান্দার নিচের দিকে
দাঁতের চিল সারাক্ষণ ছোঁ মারার আশে থাকে, আকাশে ডাকে ।
এর বিনিময়ে নিয়ে যাও ব্যাবিলনের শুন্য শহর,মনখারাপ বিকেল
নিয়ে যাও হু হু আমার একলা একার ঘর, রাতজাগা আইফেল ।
বুক জুড়ে উপুড় করা চাঁদের বাটি,
নিয়ে যাও তবে সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি।
নিয়ে যাও তুমি জোস্না বিলাস, থই থই আলোয় ভাসা পুকুর,
নিয়ে যাও তুমি তালের তলে রাখাল রাজার উদাস সুর।
নিয়ে যাও আরও টিনের চালে রিমঝিম ঝিম গজল নূর,
নিয়ে যাও তুমি বুকের ভেতর আগলে রাখা অচিনপুর ।

একটা তিল বেজায় গোপন মাউন্ট অব ভেনাসে
তার বিনিময় করব এমন আমার কিবা আছে??
আমি কি ভিখারি তবে হা নির্দয় নিঠুর বর্বর ঈশ্বর ,
এমন সৌন্দর্য তারে দিয়েছ কেন আগে পাইনি খবর
কি দেব তারে কি আছে আমার প্রেমিক প্রবর
নিয়ে যাও সব আলো, নাও নাও আলেকসান্দ্রার বাতিঘর ।
নিয়ে যাও তুমি রাতের উত্তাপ, স্বপ্ন দেখা আকাশ কুসুম,
নিয়ে যাও শোক-সন্তাপ, আলমারি তাকে রাখা কুমকুম,
নিয়ে যাও তুমি শৌর্য বীর্য সদম্ভে ফেলার চরণ,
নিয়ে যাও একটি তিলের জন্য গোটা জীবন জুড়ে রক্তক্ষরণ !
নিয়ে যাও ক্ষুধার খাবার, ত্তৃষ্ণা মেটাবার বারি,
নিয়ে যাও হাতি ঘোড়ার খামার, সিপাহসালার,পূর্বপুরুষের তরোয়ারি !
একটি তিলের যথোপযোগ্য বিনিময় নেই, হে আমার নারী,
কিসের রাজার দাবি, সব নিয়ে যাও, করে যাও ভিখারী !

তিল কি আছে উরুতে তার, তিল কি আছে ভুরুতে?
তিল কি আছে তাহার ফেব্রুয়ারীর শুরুতে?
তিল কি আছে আঁচল সামলানো, কপাল কুঁচকানো মেঘের গুরু গুরুতে,
তিল কি আছে পা চুলকানো, কোমরের বাঁক সরুতে ।
তিল কি আছে ওমে-রোমে, হৃদয়ের দুরু দুরুতে,
তিল কি আছে বুকের নরমে, নিতম্বের মেদ পুরুতে?
তিল তিল করে যে তিল আদর দিয়ে মাখি,
কতটুকু আবিষ্কৃত তার, কতটা এখনো বাকি??

হে নির্লিপ্ত তিলোতমা আমার, শরীর জুড়ে তিলের অনন্ত প্রাচুর্য
ভুয়া পৃথিবী নামক গ্রহের সপ্তম আশ্চর্য,
তোমার আগে ও পরে কেউ নেই আর , তুমিই প্রথম, তুমিই শেষ
হে অবিনশ্বর অলৌকিক ঐশ্বর্য,তুমি ই পৃথিবীর একমাত্র আশ্চর্য! ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×