রোহিঙ্গারা আদতে কোন দেশী এই প্রশ্নটা এই মুহুর্তে জটিলতা তৈরী করে। যদিও বামর্ার ঐ ভূখন্ডে তাগো বাস কতদিনের সেইটা এক্কেরে স্পেসিফিক্যালি জানা যায় না, কিন্তু রোহিঙ্গাগো কথা অনুযায়ী তার ইতিহাসও প্রায় 500 বছর আগের। আর আমরা এমনে যদি ভাবতে চাই নাফ নদীর পূর্ব প্রান্তের এই ছোট্ট জনগোষ্ঠী ঐ এলাকায় আছে বহুকাল আগের থেইকাই, তারা ঐ ভূখন্ডে তাগো নিজেগো আইন প্রযোজ্য কইরা ফেলছিলো, ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ঐ এলাকার ভূমি কর্ষণ শুরু করছিলো বহুকাল আগের থেইকাই। ঐ অঞ্চলের পূর্ব নাম রোসাংগীর থেইকাই বৃটিশ উপস্থিতি আর নেটিভ অপভ্রংশের সুযোগে এই জনগোষ্ঠী আজকের রোহিঙ্গা নামাঙ্কিত হয় বইলা অনেকেরই ধারণা। বৃটিশ পূর্ববর্তী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক এই ভূখন্ডের নিয়ন্ত্রণ যেহেতু চাটগাইয়া নবাবগো হাতেই ছিলো তাই তাগো সংস্কৃতিতে চাটগাইয়া প্রভাব চিরকালই ছিলো। তখন এই ভূমি বার্মার নিকটবর্তী হইলেও চাটগাইয়া নবাবেরাই খাজনা তুলতো...তারাই ভোগ করতো ভূমিদাসের সুযোগ। যাইহোক পরবর্তীতে বৃটিশগো সব উদ্ভট বিভক্তিতে এই এলাকা চইলা যায় বার্মিজ নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তখন বার্মিজ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সাথে এই জনগোষ্ঠীর নিয়তঃ কাইজ্জা লাগতো। আর ক্ষমতার চচ্র্চা কেন্দ্রীক বহিঃপ্রকাশ তো অন্য সকল ক্ষেত্রের মতোই ছিলো এইখানে।
আশির দশকের শেষভাগেই বামর্ার সামরিক জান্তা রোসাং-এর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ণের মাধ্যমে আরো মূলধারার বার্মিজগো এই এলাকায় প্রবেশের সুযোগ তৈরী কইরা দিতে চায়। তারা রাস্তাঘাট তৈরী করনের লেইগা দলে দলে রোহিঙ্গাগো তুইলা নিয়া যায় কাম করনের লেইগা...এই চিত্র নাকি প্রায় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো ছিলো এইটা পাইলাম রোহিঙ্গাগো ভাষ্যে...বাস্তবচিত্র হয়তো উদ্ধার করা অদূর ভবিষ্যতে সম্ভবপর না, যতোদিন না বার্মার নিয়ন্ত্রণ সামরিক প্রভাবমুক্ত না হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের বার্মা সরকার রোহিঙ্গাগো নাগরিক সুবিধা দিতে অস্বীকার করলো আশির দশকের শেষভাগে। আর তাগো উপর বাস্তবিকই নির্যাতনে খড়গ নাইমা আসলো। আগের থেইকাই চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা গো চইলা আসনের নজীর ছিলো। আমারই এক কাছের বন্ধুর নানার বংশলতিকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ছিলো বইলা জানি।
রোহিঙ্গারা ব্যাসিক্যালি 91তে বার্মার সামরিক জান্তার পুশইনের কারণে দলে দলে এই এলাকায় চইলা আসতে বাধ্য হয়। দুই রাইতেই নাকি প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা নাফ নদীর তীরে আইসা উপস্থিত হইছিলো বইলা জনশ্রুতি আছে। প্রথম তারা আইসা ভেলুচীপালং বইলা একটা জায়গায় উপস্থিত হয়। সেইখানেই তাগো অস্থায়ী নিবাস গইড়া উঠে। পরবর্তীতে 91সালেরই শেষভাগ থেইকা ইউএনএইচসিআর এই রোহিঙ্গাগো দেখভালের দায়িত্ব হাতে তুইলা নেয়। বাংলাদেশী সরকার তাগো লেইগা লোহার বেড়া বানায়...পুলিশী চৌকির ব্যবস্থা করে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর লেইগা তখন বেশ কয়েকটা ক্যাম্প গইড়া তুলতে হয়। 94তে এই জনগোষ্ঠীরে আবারো পুশব্যাকের মাধ্যমে বার্মায় ফেরত পাঠানো হয়। কিছু থাইকা যায় কিছু পালাইয়া দেশের ভেতরে অবস্থান নেয়। কিন্তু যেই অংশ ফেরত যায় তারা কেরম ছিলো সেইটা জাননের কোন সোর্স কারো নাই।
98তে আবারো টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত চৌকি উত্তপ্ত। সেইদিনও বিডিআর বাহিনী গুলি চালানের কথা ভাবতেই পারে নাই। হাজারে হাজারে নৌকা নাফ নদীর পূর্ব পাড় থেইকা পশ্চিমে আসতে থাকে। আবারো জনশ্রুতি অনুযায়ী আড়াই লাখ রোহিঙ্গা আইসা উঠে। শুরু হয় তাগো সংগ্রাম। তারপর তাগো ব্যাপারে আবারো সরকার আর ইউএনএইচসিআর সজাগ। দুইটা ক্যাম্পে ঢুকানো হয় সবাইরে। গুইনা দেখা যায় 20 হাজারের মতো। বাস্তবিক সংখ্যাটা কতো কে জানে! নিউ রিফু্যজি ক্যাম্পে আরো আছে 7 হাজারের মতোন। এর বাইরের রোহিঙ্গারা সারা দেশেই ছড়াইয়া আছে বইলা দাবী আমার পরিচিত রোহিঙ্গা আলমগীর মাস্টরের। কক্সবাজার-সেইন্ট মার্টিন-নিঝুম দ্্বীপ তো আছেই, এর বাইরে পটুয়াখালী, বরিশালেও তাগো বিস্তৃতি ঘটছে। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার হইছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


