somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাফ নদীর তীরে...কিম্বা তীরের পাশেই নাফ নদী...(3)

০৯ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোহিঙ্গারা আদতে কোন দেশী এই প্রশ্নটা এই মুহুর্তে জটিলতা তৈরী করে। যদিও বামর্ার ঐ ভূখন্ডে তাগো বাস কতদিনের সেইটা এক্কেরে স্পেসিফিক্যালি জানা যায় না, কিন্তু রোহিঙ্গাগো কথা অনুযায়ী তার ইতিহাসও প্রায় 500 বছর আগের। আর আমরা এমনে যদি ভাবতে চাই নাফ নদীর পূর্ব প্রান্তের এই ছোট্ট জনগোষ্ঠী ঐ এলাকায় আছে বহুকাল আগের থেইকাই, তারা ঐ ভূখন্ডে তাগো নিজেগো আইন প্রযোজ্য কইরা ফেলছিলো, ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ঐ এলাকার ভূমি কর্ষণ শুরু করছিলো বহুকাল আগের থেইকাই। ঐ অঞ্চলের পূর্ব নাম রোসাংগীর থেইকাই বৃটিশ উপস্থিতি আর নেটিভ অপভ্রংশের সুযোগে এই জনগোষ্ঠী আজকের রোহিঙ্গা নামাঙ্কিত হয় বইলা অনেকেরই ধারণা। বৃটিশ পূর্ববর্তী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক এই ভূখন্ডের নিয়ন্ত্রণ যেহেতু চাটগাইয়া নবাবগো হাতেই ছিলো তাই তাগো সংস্কৃতিতে চাটগাইয়া প্রভাব চিরকালই ছিলো। তখন এই ভূমি বার্মার নিকটবর্তী হইলেও চাটগাইয়া নবাবেরাই খাজনা তুলতো...তারাই ভোগ করতো ভূমিদাসের সুযোগ। যাইহোক পরবর্তীতে বৃটিশগো সব উদ্ভট বিভক্তিতে এই এলাকা চইলা যায় বার্মিজ নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তখন বার্মিজ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সাথে এই জনগোষ্ঠীর নিয়তঃ কাইজ্জা লাগতো। আর ক্ষমতার চচ্র্চা কেন্দ্রীক বহিঃপ্রকাশ তো অন্য সকল ক্ষেত্রের মতোই ছিলো এইখানে।

আশির দশকের শেষভাগেই বামর্ার সামরিক জান্তা রোসাং-এর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ণের মাধ্যমে আরো মূলধারার বার্মিজগো এই এলাকায় প্রবেশের সুযোগ তৈরী কইরা দিতে চায়। তারা রাস্তাঘাট তৈরী করনের লেইগা দলে দলে রোহিঙ্গাগো তুইলা নিয়া যায় কাম করনের লেইগা...এই চিত্র নাকি প্রায় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো ছিলো এইটা পাইলাম রোহিঙ্গাগো ভাষ্যে...বাস্তবচিত্র হয়তো উদ্ধার করা অদূর ভবিষ্যতে সম্ভবপর না, যতোদিন না বার্মার নিয়ন্ত্রণ সামরিক প্রভাবমুক্ত না হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের বার্মা সরকার রোহিঙ্গাগো নাগরিক সুবিধা দিতে অস্বীকার করলো আশির দশকের শেষভাগে। আর তাগো উপর বাস্তবিকই নির্যাতনে খড়গ নাইমা আসলো। আগের থেইকাই চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা গো চইলা আসনের নজীর ছিলো। আমারই এক কাছের বন্ধুর নানার বংশলতিকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ছিলো বইলা জানি।

রোহিঙ্গারা ব্যাসিক্যালি 91তে বার্মার সামরিক জান্তার পুশইনের কারণে দলে দলে এই এলাকায় চইলা আসতে বাধ্য হয়। দুই রাইতেই নাকি প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা নাফ নদীর তীরে আইসা উপস্থিত হইছিলো বইলা জনশ্রুতি আছে। প্রথম তারা আইসা ভেলুচীপালং বইলা একটা জায়গায় উপস্থিত হয়। সেইখানেই তাগো অস্থায়ী নিবাস গইড়া উঠে। পরবর্তীতে 91সালেরই শেষভাগ থেইকা ইউএনএইচসিআর এই রোহিঙ্গাগো দেখভালের দায়িত্ব হাতে তুইলা নেয়। বাংলাদেশী সরকার তাগো লেইগা লোহার বেড়া বানায়...পুলিশী চৌকির ব্যবস্থা করে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর লেইগা তখন বেশ কয়েকটা ক্যাম্প গইড়া তুলতে হয়। 94তে এই জনগোষ্ঠীরে আবারো পুশব্যাকের মাধ্যমে বার্মায় ফেরত পাঠানো হয়। কিছু থাইকা যায় কিছু পালাইয়া দেশের ভেতরে অবস্থান নেয়। কিন্তু যেই অংশ ফেরত যায় তারা কেরম ছিলো সেইটা জাননের কোন সোর্স কারো নাই।

98তে আবারো টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত চৌকি উত্তপ্ত। সেইদিনও বিডিআর বাহিনী গুলি চালানের কথা ভাবতেই পারে নাই। হাজারে হাজারে নৌকা নাফ নদীর পূর্ব পাড় থেইকা পশ্চিমে আসতে থাকে। আবারো জনশ্রুতি অনুযায়ী আড়াই লাখ রোহিঙ্গা আইসা উঠে। শুরু হয় তাগো সংগ্রাম। তারপর তাগো ব্যাপারে আবারো সরকার আর ইউএনএইচসিআর সজাগ। দুইটা ক্যাম্পে ঢুকানো হয় সবাইরে। গুইনা দেখা যায় 20 হাজারের মতো। বাস্তবিক সংখ্যাটা কতো কে জানে! নিউ রিফু্যজি ক্যাম্পে আরো আছে 7 হাজারের মতোন। এর বাইরের রোহিঙ্গারা সারা দেশেই ছড়াইয়া আছে বইলা দাবী আমার পরিচিত রোহিঙ্গা আলমগীর মাস্টরের। কক্সবাজার-সেইন্ট মার্টিন-নিঝুম দ্্বীপ তো আছেই, এর বাইরে পটুয়াখালী, বরিশালেও তাগো বিস্তৃতি ঘটছে। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার হইছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×