somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তর্জনীর যাদুই বাস্তবতা কি পারবো আমাগো বাঁচাইতে নাকি অন্যকিছু প্রয়োজন?

১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঙালী মধ্যবিত্ত মহলে রাজনীতি নিয়া সবচাইতে জনপ্রিয় মতটা হইলো, দেশে কয়েক বছরের লেইগা একজন স্বৈরশাসক লাগবো...যে সব রাজনীতিবিদেগো পিটাইয়া সোজা বানাইয়া ফেলবো। তারপর যদি কিছু হয়...

আমরা স্বপ্ন দেখতে জানি!
আমাগো রূপকথা সাহিত্য কিন্তু সারা বিশ্বের মানদন্ডে খারাপ না, আমাদের সোঁদা ভূখন্ডেও কিন্তু যাদু বাস্তবতা আছে ধূলিকনার মতোন...তাই আমরা ভাবি কোন একদিন গরীব কৃষকের পোলা আইবো চরম বুদ্ধিবৃত্তি লইয়া...দেশের রাজকণ্যা মোহিত হইবো, রাজার পরীক্ষা সে পাশ করবো অবলীলায়...তারপর রাজ্য সহ রাজকণ্যা...আমাগো মেইনস্ট্রিম চলচ্চিত্র ঠিক এই থিমেই গইড়া তোলে তার চিরাচরিত রূপরেখা। সাধারণ মানুষ তাগো স্বপ্নের প্রতিবিম্ব দেখতে হুমড়ি খাইয়া পরে...গরীবের দুঃখে আমরা কান্দি...তার সুপার হিরো হওনের প্রতীক্ষায় আমাগো প্রহর যায়...

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কেরম জানি ওলোট পালোট লাগতেছিলো! তার প্রভাব পরছিলো জনজীবনে পুরাপুরি...কেউ পিছনে থাকতে চায় না! সবাইরেই যাইতে হইবো সামনের জনরে টপকাইয়া...নাইলে কিছু একটা অপেক্ষা করতাছে সামনে, সেইটা পাওনের কোন আশা নাই। কিন্তু সেই কিছু একটা যে কি সেইটা আবার আমরা কখনো জানি না। অনিশ্চয়তারে আমরা বড় ভালোবাসি...যা কিছু অনিশ্চিত তাতেই আমরা 'ভালো' খুঁইজা পাই...এই ভালোরে পাওনের আশায় আমরা পাল্লা লাগাই...সামনের জনরে ল্যাঙ মারি...সব জায়েজ এই দৌড়ে...একটা জাতীয় সংস্কৃতির চেহারা পাইতে শুরু করনের সম্ভাবনা দেখা দিছে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির।

এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি স্বভাবজাত? একদম না! দেশে যেই সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলন হইছে সারা পৃথিবীতেই তখন এইরম পাল্লা পালি্ল চলতাছে... 60 দশকের অস্থিরতার প্রভাব সারা পৃথিবীতেই...পুঁজিবাদী বিশ্ব প্রকম্পিত! তাই তড়িঘড়ি! সবদেশে পুঁজিবাদ যেমনে হোক তেমনে সামনে আনতে হইবো। আর তারই ফল স্বরূপ সমাজের হঠাৎ বুর্জোয়ারা রাষ্ট্রের দায় দায়িত্ব নিয়া নেয়...ঐ সময়টারে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদে প্রায় সকলেই অবক্ষয়ী পুঁজিবাদ কইয়া আসতেছে...যার ছায়া পড়ে আমাগো দেশেও...পুঁজিবাদের দুর্নীতিবাজ ধারা আমাগো দেশেও শক্তিশালী হয়...আর ক্ষমতায় গেলেই অনেক টাকা আসে...ক্ষমতা মানেই আধিপত্যের সীমাহীন ব্যবহার, এই মানসিকতা আমার বাপ চাচারেও ধারন করতে দেখি সমানে!

তারই ধারাবাহিকতায় যতো দিন গেছে জাতি কেরম জানি হইয়া গেছে...যেই ধর্মের যথেচ্ছাচার প্রয়োগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কইরা নিজেরে আলাদা করছিলো একটা জাতি, সেইটার পালটা স্রোতরে প্রয়োজনে সামনে আননের চেষ্টা হইছে...আনা সম্ভব হইছে কখনো...কখনো হয় নাই...যা যা অনৈতিক তারে ব্যবহার করা হইছে ক্ষমতা নামের একটা পণ্য কিননের লেইগা। ক্ষমতারে পুঁজি কইরা মানুষের মধ্যে বাড়ছে সম্পদের বৈষম্য...আর বৈষম্যের মধ্যে আঁইকা দেয়া হইছে সম্ভাবনার হাতছানি...নির্ভরতা দেয়া হইছে অস্ত্রে...পেশী শক্তিতে...

এইসব এখন সবাই জানে। কিন্তু জানা কথাই আমাগো এখন বারবার কইতে হয়, জানা কথাই আমাগো স্বপ্নে আসে ওহীর মতো। আমরা এখন অনিশ্চিতের কাছেই সকল ক্ষমতা, ওহী নাজেল হওনের সম্ভাবনা নিয়া যেই কথা প্রচলিত হয় তাহাই সত্য...যাতে আছে যুক্তির নির্ভরতা, যাতে আছে কষ্টকর সংগ্রামের পথ সেইসব অপ্রায়োগিক...কারণ প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আছে পাল্লা, প্রতিযোগিতা। সেইখানে এই সংগ্রাম কোনদিন ফলপ্রসু হইবার নয়। আমরা আন্দোলন কইরা কোনকিছু পাইতে উৎসাহী নই, আমরা কোন দাবী আদায়ের মাধ্যমে অর্জনরে সঠিক মনে করি না। আমরা চাই কেউ আমাগো 'নিক সু মাকাসা' কইয়া তর্জনী নির্দেশ করবো আর সব পাইয়া যামু মুফতে...জীবন যাত্রা নাইলে কঠিন হইয়া যাইবো।

কিন্তু এই তর্জনী আসলে মুফতের তর্জনী যে না, তা বুঝনের সময় আমাগো নাই। আমাগো টাইম নাই এতো কিছু জাননের...ঐ তর্জনী যে হুদাই কোন প্রতিদান ছাড়া নির্দেশিত হয় না তা বুঝনের ক্ষমতাও আমাগো নাই। কথাটা সত্য হইলো না...আমরা বুঝি কিন্তু তারে নিয়া চিন্তা করনের টাইম আমাগো নাই। আমরা চলতে চাই তর্জনী নির্দেশণামাফিক...আমরা কথা বলতে চাই সেই বাবার ভাষ্যে...কদাচ বহুবচনে বাবাগো ভাষ্যে। যা তারা কইবেন তাহা নিশ্চিত ভালোর তরেই টাইপ ভাবলে আমাগো বিপদ কম। তা'ও আমরাতো বাঁচি! অবরোধ হইবোনা, মিছিল হইবো না! হরতাল হইবো না! ছাত্ররা নির্বিঘনে তার পড়ালেখা চালাইবো। কিন্তু জাইনাই ভাবতে রাজী না...এইসব না থাকলে যা ইচ্ছা তা'ই করবো বড়লোকেরা, তারা নির্বিঘন থাকবো বৈষম্যের আরো বিস্তৃতিতে। ছাত্ররা তার জীবন শেষে চাকুরীজীবী হইতে ভুইলা যাইবো। জিনিষপত্রের দাম ক্রমাগত বাড়বো, জীবন যাপনের ব্যয় বড়বো কিন্তু আয়?

দরকার একজন স্বৈরশাসকের...কিন্তু সেই স্বৈরশাসক কোন শ্রেণীর প্রতিনিধি হইবো এইটা ভাববো সব আকাইম্মা বামপন্থীরা। তারা আকাইম্মা আর সুযোগসন্ধানী হয় সমাজে...কারণ সুযোগ সদ্্ব্যাবহার করতে পারে খালি বুর্জোয়ারা ঐটা জায়েজ...বামপন্থীরা বিচু্যত হইতে পারে না! যাউগ্গা অনেক ফাও প্যাচালে গেলাম...আসল কথা কই, দেশ এখন খুবই উদ্ভট কাল কাটাইতেছে...কারা যে কি কোত্থেইকা কি অঙ্গুলী হেলাইতেছে, আমরা বুঝি না। দেশের সারফেস থেইকা অনেক দুর্নীতিবাজগো সরাইয়া ফেলনটাই হয় তো সম্ভবপর হইবো মনে হইতাছে, মামুন, কামাল সেলিমেরা ধরা খাইয়া যাইবো, তারা নিশ্চুপ হইয়া যাইবো খুব শীঘ্রই। কিন্তু তারপর? মানুষের চাওয়া পাওয়া আসলে কিসে? আমরা চাওয়া পাওয়া ভুইলা যাইতে বসছি...আমরা ভুইলা থাকতে শুরু করতে পারছি...এক্সপেক্টেশন এখন অনেক সময়েই অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু নিজের মানুষ ছাড়া আসলে কোনদিন জাতিগত বিচ্ছুরণ ঘটে না। কারণ হুদাই এখন কোন অঙ্গুলী হেলন হয় না...এই সব মনে করাইয়া দেওনের লোকেরা এখন কেরম আছে আমরা জানি না। আমরা রাজনীতিবিদগো জাতির শত্রু মনে করি...কিন্তু তারাই কি আমাগো প্রতিনিধি হওনের কথা না!? সেই সংস্কৃতি আসলে কিসে পালটাইবো? এইরম যাদুই কাহিনীতে? এতো সহজ আর শক্তিশালি এই তর্জনী?

কোন প্রশ্নের উত্তর পাই না...জাতি এখন ক্রান্তিকালে...আমরা অপেক্ষা করি, স্বপ্ন বুঝি এইবার সত্যি হইলো...কিন্তু স্বপ্ন কি আসলেই তর্জনীর ক্ষমতায়? নাকি জনরোষ প্রয়োজন?
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:১৪
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫



মসজিদে বসে মদ খেতে দাও, অথবা সেই জায়গাটা দেখাও যেখানে আল্লাহ নেই।

বহুদিন ধরে গল্প লেখা হয় না!
অথচ আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। সস্তা প্রেম ভালোবাসা বা আবেগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×