somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইনুস সাব রাজনীতি করতেই পারেন, তার রাজনৈতিক দলগঠনে আমি ক্যান বিরোধীতা করুম!?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইনুস সাবেরে লইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক আর ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনগুলি খেপছে। যেই কারনে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা পর্যন্ত দিছে। তাদের বক্তব্য ইনুস সাব এই অনুষ্ঠানে অতিথী বক্তা হওনের যোগ্যতা হারাইছেন, কারণ তিনি আর দল নিরপেক্ষ নাই, তার নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরী হইয়া গেছে...বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য মাফিক সমাবর্তনে বক্তা হিসাবে নির্দলীয়, সর্বজনগ্রাহ্য কোন ব্যক্তিত্যরেই এই দায়িত্ব দেওনটা যৌক্তিক!

শিক্ষক সমাজ আর ছাত্র রাজনৈতিক দলগুলির এই প্রতিবাদ আমার কাছে যুক্তিগ্রাহ্যই ঠেকে, অবশ্যই অতীতের সকল উদাহরণ পর্যবেক্ষণ করলে, সর্বজনগ্রাহ্যতা না আসলে সমাবর্তন বর্জণের ঘটনা আছে এর আগেও। আর ইনুস সাবে রাজনীতি করনের ঘোষণা দেওনের লগে লগেই তার এই কোয়ালিটি হারাইছেন। কিন্তু আমার একটা জিনিষ চোখে লাগলো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্য আর গুটিকয়েক ব্লগারের ইনুস বিরোধী বক্তব্যের কারনে। সকলেই ইনুস সাবের সুদখোর সত্ত্বার প্রতিবাদে দারুণ সোচ্চার...য্যান সুদখোর এই দেশে নাজায়েজ, রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সাথে সুদখোর চরিত্র বিরোধাত্মক!

ইনুস সাবের যে কোন কিছুর বিরোধীতা করনে এর আগে দেখা গেছে আমি সামনের সারিতেই থাকনের চেষ্টা করছি। ঋণ নির্ভর জাতি তৈরীতে তার ভূমিকা, স্থানীয় সরকার প্রশাসন লইয়া তার কিছু রাজনৈতিক ভূমিকা কিম্বা উন্নয়ণের যেই সহজ ফমর্ুলার কথা উনি বলেন তার বিরুদ্ধে আমি সকল সময় সোচ্চার! কিন্তু আমি এর আগেও আমার ব্লগপোস্টে এই বিষয়টা পরিষ্কার করনের চেষ্টা করছি, ইনুস সাবের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমার কোন বিরোধ নাই। এই দেশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের লেইগা যেইসব যোগ্যতা লাগে তা তার পুরাদমে আছে...সে এই দেশের নাগরিক, সে একজন পূর্ণ বয়স্ক ভোটার, তার টাকা আছে, সে বক্তৃতা দিতে জানে, সে সাংগঠনিক পরিকল্পণা করতে জানে ইত্যাদি।

আসলে ক্যাম্পেইনটা কিসের লেইগা? একটা অদ্ভুত যুক্তি আসে ইনুস সাবের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিরোধীতা করনে, তিনি নোবেল পাইছেন, রাজনীতি করলে এই কৃতিত্ব কলুষিত হইয়া যাইবো। হায়রে রাজনীতি! এইটার সম্পর্কে মানুষের ধারণা যে কি সেইটা খুব সহজে টের পাওন যায়। কিন্তু এর আগেও বলছি এখনো বলতেছি, ইনুস সাবে এমন কিছু মহাভারতের শুদ্ধ কইরা লেখেন নাই যে তিনি মহাপুরুষ হইয়া গেছেন! বরং তার অতীত সকল কর্মকান্ড আর ব্যবসা এই দেশের রাজনীতিতে পার্টিসিপেট করা সব রাজনৈতিক পার্টিজানগো লগে ভালই মিলে...(সালমান এফ রহমানের কোন কমপ্লেক্সে শুনছি 14,000 শ্রমিক আছে, তিনিও কইছিলেন এইটার আসল উদ্দেশ্য হইলো দেশের বেকারত্বের অভিশাপ কমাইয়া ফেলা)।

ইনুস সাব রাজনীতি করবেন, তার ঘোষণা দিছেন, তার দলের নাম ঘোষণা দিছেন, অপরিপক্ক হইলেও একটা দলীয় সংগঠনের পদ্ধতি নির্দেশ করছেন। এইভাবেই তিনি তার দল গড়বেন। আর ভবিষ্যতে নির্বাচন করবেন। যেই নির্বাচন হইবো বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক সংঘটিত একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। মানুষ ভোটার আইডি নিয়া ভোট দিতে যাইবো, তারা কারে নির্বাচিত করবো তা আমরা এখনো জানি না। কিন্তু উদ্ভট হইলেও এই দেশের একদল শহুইরা মধ্যবিত্ত অতি আগ্রহী হইয়া তারে ক্ষমতায় দেইখা ফেলছে অলরেডি! এরা আবার এক দলের না! এদের এক অংশ ইনুস বিরোধী (মনে হইতেছে এই অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ) আরেক অংশ খুব স্বাভাবিক ভাবেই আশাবাদী।

আমি নিজে ইনুস সাবের উপর নির্ভরশীলতার বিরোধী। তার জীবন যাত্রা আর পূর্ববর্তী সব আদর্শিক অবস্থান আর উন্নয়ণের ফরমু্যলায় আমার আদৌ নির্ভরতা নাই। তিনি ক্ষমতায় আইসা জাতির ভাগ্য পালটাইয়া দেওনের কোনই ক্ষমতাই রাখেন না। বরং দেশের জাতীয় উন্নয়ণে যেইসব সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পণা বাস্তবায়নের চেষ্টা অতীতে আওয়ামি লীগ-বিএনপি চালাইছে, সেইটারই একটা কার্যকরী ব্যখ্যা উনি দিছেন, তারে গ্রহণযোগ্য কইরা গিলানের ধান্দা উনি করতেছেন। আমি মনে করি ইনুস সাবে ক্ষমতায় যদি চইলা আসেন, তাইলেও তার উপর আশা রাখনের কোন যৌক্তিক ভিত্তি নাই।

অনেক কথা লেইখা ফেললাম কাজের ফাকে...আসল কথা যেইটা কইতে চাই তা হইলো ইনুস সাব রাজনীতি করেন...তার দলে মধ্যবিত্ত আর গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নির্ভরতায় থাকা মানুষগুলি জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ! কইরা গলা দিয়া রক্ত বাইর কইরা ফেলুক! কিচ্ছু আসে যায় না। কেবল এইটা উন্নয়ণের বিকল্প পথ এই ভাবনা যাতে এই জাতিরে আশান্বিত না করে আমি সেই বক্তব্য প্রচারে আছি...

(তয় একটা কথা বলতে চাই, সিরিয়াসলি নিয়েন না কেউ, আটরশির পীরের মুরিদ নাকি 3 কোটি!)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামীলীগ ও তার রাজনীতির চারটি ভিত্তি, অচিরে পঞ্চম ভিত্তি তৈরি হবে।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সনদ জালিয়াতি

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২


গতকাল দুটো সংবাদ চোখে পড়লো যার মূল কথা সনদ জালিয়াতি ! একটা খবরে জানা যায় ৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে জাল জন্ম মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য, আরেকটি খবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিন বুদ্ধিজীবী

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪




বুদ্ধিজীবী হওয়া এখন খুব কঠিন কিছু না- শুধু একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই হলো। মাথার ভেতর কিছু আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় না; আসল বিষয় হলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের বৃষ্টি

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


বিকেলের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলে চুপ,
তোমার ওমন ঘন মেঘের মতো চুলে
জমে ছিল আকাশের গন্ধ,
কদমফুলের মতো বিষণ্ন তার রূপ।

আমি তখন পথহারা এক নগর বাউল,
বুকের ভেতর কেবল ধোঁয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×