বনানীর অফিস থেইকা বাইর হইয়া 19 নাম্বার রাস্তার মাথায় গিয়া নামি...বড় রাস্তায় রিকশা প্রবেশ নিষিদ্ধ...কঠোর আইন! আগে দেখতাম ট্রাফিক পুলিশের হাতে 2টাকা ধরাইয়া রিকশারা এই পাড় থেইকা ঐ পাড়ে রওনা দিতো। তত্ত্বাবধায়ক ফখরুদ্দিনের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের পর বড়লোক আবুল খায়ের লিটু, আব্দুল আওয়াল মিন্টুর মতোই আমাগো মোড়ের ট্রাফিক আনসার আলী পাইছে ভয়! সে আর আজকাল পারতঃপক্ষে রিকশা ছাড়ে না। মাঝে মাঝে চায়ের তেষ্টা যদি পায়...
তো এখন মোড়ে রিকশার একটা জটলা বাইন্ধা যায় নিয়মিতই...তারা ঐখান থেইকাই গলির ভেতরে ভেতরে রিকশার প্যাসেঞ্জারের খোঁজে থাকে। তয় পরশুদিন দেখি এই জটলার থেইকা আনসার আলী 2টাকা কইরা তুলতেছে...তার ভাষ্য ঐখানে জটলা করনেরও নিয়ম নাই, এই নজরানার কারণে সে দয়াপরবশ হয়। মনে হয় র্যাব কিম্বা যৌথ বাহিনী আনসার আলীরে এই সুযোগটা দিতেছে...আনসার আলী আর কয় টাকা বেতন পায়!?
র্যাব সদস্যেরা বনানীর ভেতরে চক্কর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়...তারা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে, সন্ত্রাসীগো ভাচর্ুয়ালি জটলা করতে দেয় না, আরো কিযে করে তা আমার মাথায় আসে না...কিন্তু তাগো দেখি প্রতিদিন 2/3 বার আমাগো অফিসের সামনের বটগাছের পাশে তৈরী হওয়া একটা অবৈধ (?) দোকান থেইকা চা-সিগারেট খাইতে...ফিরোজার বাপ তাগো বেশ সমাদর করে...নাইলে একটা পরিবার যে আবার পথে বসবো!
আমার মনে হয় খানিকটা দুর্নীতি ছাড়া, নিয়ম ভাঙ্গনের নিয়ম ছাড়া আমাগো দেশের মানুষ আর এখন ভালো থাকনের...খাইয়া পইরা বাঁচনের কথা ভাবতেই পারে না! সিস্টেমটাই এইরম হইয়া গেছে, ব্যক্তিকেন্দ্রীক চিন্তা ছাড়া কোন উন্নয়ণের কথাও ভাবতে দেখি না মানুষেরে। আমার প্রচুর শিক্ষিত বন্ধু বান্ধবরেও বলতে শুনি সবাই আলাদা আলাদা ভালো হইলেই একসময় দেশটা ভালো হইয়া যাইবো। কিন্তু মানুষ ক্যান ভালো হইতে চাইবো? তার সামনে তো কোন আদর্শ নাই! কেবল বেহেস্ত নসীবের কথা ভাইবা। সমাজের সকল রম বৈধতার মোড়কে চলা মানুষ কে? আমি নিজে কাউরে চিনি না...
ব্যক্তিকেন্দ্রীকতাই এখন টিকা থাকনের একমাত্র উপায়, প্রতিদান ছাড়া কেউ কি আশা করতে পারে? বৈধতা অবৈধতার অনেক নিয়মের বেড়াজালেও যেই কারণে নিয়ম ভাঙে অনেকেই...অনেকেই সেইটারে অন্য কোনরম প্রতিদানের কিচ্ছাতে দেইখাও না দেখনের ভান করে...আমি যাদের উদাহরণ দিলাম তারা ক্ষুদ্র ক্ষমতার বলয়ে আছে বইলা তাদের ক্ষমতা চচ্র্চার এরিয়াও ছোট...কিন্তু যেই ব্যক্তি এই একই চচ্র্চার সুযোগ আরো বৃহৎ পরিসরে করনের সুযোগ পাইবো সেতো আরো vivid ভাবেই দেখবো, নাকি?
যেই কারণে এই পোস্ট লিখতেছি...এক্কেরে নিজের মনরে বুঝানের একটা প্রচেষ্টা...তারেক জিয়া ধরা পরনের পর অনেক ভালো লাগতেছিলো মনটা...মনে হইতেছিলো দেশের দুর্নীতির একটা শিকড় মনে হয় উৎপাটিত হইলো, কিন্তু আসলেই কি তাই? তারেক জিয়া কি ব্যক্তি হিসাবে খুব খারাপ ছিলো বইলা এইরম ভাবছে? তারে কি তার সৃষ্টিকর্তা অনেক দুর্বল কইরা বানাইছে যে সেই সৃষ্টিকর্তার প্রতিদ্্বন্দ্বী শয়তান জিতা নিছে তারেক জিয়ার হৃদয়? কিম্বা তার ইভিল সত্ত্বা অনেক শক্তিশালি ছিলো বেসিক ইনসটিংক্টে? আমি এর একটাও যুক্তিগ্রাহ্য মনে করি না। তারেক জিয়া এই সমাজের একটা অংশ হিসাবেই বড় হইছে, অন্যান্য যে কোন মানুষের মতোই সে এই সমাজে বড় হওনের চেষ্টা করছে ব্যক্তিকেন্দ্রীক উপায়ে...ক্ষমতা চচ্র্চার সুযোগ তার সামনে আনসার আলী কিম্বা ফিরোজার বাপের চাইতে বেশি ছিলো বইলা সে বেশি টাকার মালিক হইছে...বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ হইতে পারছে, এই হইলো স্বাভাবিক সত্য।
এই বোধটা আসনের পর আমার তারেক জিয়ার প্রতি কোন ব্যক্তিগত ক্ষোভ নাই আর, সে তো আসলে এই সিস্টেমেরই একটা আউটপুট...যেই সমাজে ধইরাই নেওয়া হয় মানুষ কিছু মাত্রায় অবৈধ কার্য্যকলাপ করতেই পারে, সেইখানে আর কি প্রত্যাশার থাকে? তারেক জিয়ারে শহীদ জিয়ার আমানতও বলা যায় সেই অর্থে...শেখ মুজিবেরও...এরা কেউই এই সমাজ ব্যবস্থা পালটানের স্বপ্ন দেখে নাই, বরং যারা স্বপ্ন দেখছে তাগো প্রতিনিয়তঃ দাবরাইছে! এখনো মাথা তুইলা দাঁড়ানের স্বপ্নই কেবল দেখতে পারে সেই সব মানুষ!
নিজেরেই প্রশ্ন করি...ঐ সব স্বপ্ন দ্রষ্টা মানুষরে কি দেখতে চাই না? যারা পালটাইয়া দিবো পুরা চিন্তার কাঠামোটারে! ব্যক্তিকেন্দ্রীকতা থেইকা অনেক বেশি শক্তিশালী করবো যারা যুথবদ্ধতারে...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




