somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বাবার জবানবন্দি-২য় পর্ব

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসলে মুজাহিদর মতো এত জানা একটা ছেলের মনোজগত সম্পর্কে জানা আমার মতো ব্যবসা বুদ্ধির অশিক্ষিত এক মানুষের কাছে অসাধ্য ছিল বললে খুব বেশী বলা হয় না। আমি শুধু অনুমান করতে চাইতাম। তার মনের কি অবস্থা। আমার ইচ্ছা ছিল আমার ছেলে পড়ালেখা শেষ করে গ্রামে ফিরবে, আমার ব্যবসাটাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। তারপর এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আমি জানতাম না আমার শাসন ব্যবস্থা ভেতরে ভেতরে ক্ষুদ্ধ করে তুলেছে তাকে। ধীরে ধীরে আমি যা করি সে তার বিরোধীতা করতে লাগল। মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছে করতো তাকে পিষে ফেলি। আমার সাথে সে কথা বলা বন্ধ করে দিল। যা বলার তার মাকে বলতো।
যাইহোক ব্যবসার কাজে এত বেশী ব্যস্ত ছিলাম যে কয়েক মাস আমি তার কোনো খোঁজই রাখতে পারিনি। বাড়ীতেই ছিলাম না বলা যায় দীর্ঘদিন। বুঝতে পারি নিজের সন্তানের সাথে দূরত্ব তৈরী হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আমার কি করার ছিল, কিছুই না। আমি ইচ্ছে করলেই তার সাথে সখ্যতা করতে পারতাম না। কারন যে বিচিত্র খাতে সে নিজেকে ঢেলে দিয়েছে সে পটভূমিতে তাকে বুঝা আমার দ্বারা কখনোই সম্ভব না। আমি শুধু তাকে আমার মতো করতে চাইতাম। একজন বাবা হিসাবে আমার সন্তান আমার পরিকল্পনা মতো এগোবে এটাতো স্বাভাবিক একটা ব্যাপার আর প্রক্রিয়া। কিন্তু তার গোর্য়াতুমি আমাকে রাগের সপ্তচুড়ায় নিয়ে যায়। একদিন বাসায় আছি। দেখি তার নতুন আরেক অভ্যাস শুরু হয়েছে। একদিন সকালে বাড়ীর দাওয়ায় বসে রোদ পোহাচ্ছি। সকালে সারা শরীরে খাটি সরিষার তেল মেখে রোদ পোহানো আমাদের পারিবারিক উত্তরাধিকার বলা যায়। সদর দরজা খুলে দেখি গুটি গুটি পায়ে অনেক গুলো ছন্নছাড়া ছেলেমেয়ে ঢুকে মুজাহিদের রুমের দিকে যাচ্ছে। আমি তার মার কাছে জানতে চাই এসব কি? তার মা জানায় এটা তার নতুন ঝোক। পাড়ার যে সব ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে পারেনা । তাদেরকে সে প্রতিসকালে একঘন্টা পড়ায়। এতে আমি আরো রেগে যাই। নিজের পড়ার কোনো খবর নাই। সে শিক্ষা দেয় অন্যকে। আমি গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে পড়ি এ ছেলের ভবিষ্যত ভেবে। তাকে আমার নিজের সন্তান বলেই মনে হয় না। তার মায়ের উপর রাগারাগি করি।
ভোরে জেগে প্রথমেই কোরাণ তেলওয়াত করতে হবে সবাইকে এটা ছিল আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ। মুজাহিদ সকালে কোরাণ পড়া বন্ধ করে দেয়। সে এখন নিয়মিত মসজিদে যায় না। বিভিন্ন কানাঘুষা আসতে থাকে যে সে নাকি গ্রামে বিভিন্ন মানুষজনকে বলে বেড়াচ্ছে। ধর্ম নাকি এক ধরনের বিণোদন। নামাজ পড়ে নষ্ট করার মতো সময় তার নেই ইত্যাদি। এলাকার মানুষজনের ভেতর তার বিরুদ্ধে একটা চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করলাম। আমার অভ্যন্তর নীল হয়ে গেছে এসব শুনে। আমাদের এলাকাটা খুবই ধর্মান্ধ এলাকা। এমনিতে লোকজন খুব একটা ধর্মকর্ম করেনা। সামুদ্রিক এলাকা হওয়াতে সবাই যার যার মাছ ধরা, লবন উৎপাদন নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু ধর্ম নিয়ে কথা উঠলে সবাই ধর্মান্ধ।
কোন এক সালমান রুশদি নাকি ইসলামকে ব্যঙ্গ করে বই লিখেছে। এলাকার মানুষরা সেটা নিয়ে মাতে।
সোলেমান তো মুসলমানের নাম! মুসলমানের পোলা হইয়া ! নাউজুবিল্লাহ। ইহুদির টাকা খাইছে মাদারচুদ। এই হচ্ছে মনোভাব।
বাড়ীতে তার কথা উঠলেই আমি রাগারাগি করি । তার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করি। মুজাহিদ যে শুধু ঘরের ভেতরই একা হয়ে গেছে তা নয় এলাকার যে কোনো বন্ধুবান্ধবের সাহচার্যও সে ত্যাগ করেছে।
চলবে....?

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×