লেখকের স্বাধীনতা তার লেখায়
(গত ২৬-০৪-২০১০ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ বিভাগে ‘আসছে
আইপি টেলিফোনী’ শিরোনামে যে লেখা ছাপা হয়েছে তা আমার লেখা থেকে কপি করা হয়েছে।)
লেখকের সম্পদ তার লেখায়, যে লেখাতে থাকবে লেখকের স্বকীয়তা, নিজস্ব
ভাষায় লেখার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং তথ্য উপস্থাপনের নিজস্ব স্টাইল ও অভিজ্ঞতা। কিন্তু এর বিপরীত কখনোই কাম্য নয়। বিশেষ করে দৈনিক যুগান্তরের মতো একটি মানসম্পন্ন পত্রিকায় অন্য কোনো পত্রিকা বা ম্যাগাজিন থেকে লেখার বেশির ভাগ অংশ এমনকি ভাষাগত পরিবর্তন ছাড়া হুবহু তুলে ধরা কতটুকু শোভনীয় তা পাঠকের নিকট ছেড়ে দিলাম। গত ২৬ এপ্রিল, ২০১০ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ বিভাগে ‘আসছে আইপি টেলিফোনী’ শিরোনামে যে লেখা ছাপা হয়েছে তা মূলত মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা থেকে ভাষাগত পরিবর্তন ছাড়াই যুগান্তরের ‘আসছে আইপি টেলিফোনী’ শীর্ষক লেখার অধিকাংশ লাইন সাজানো হয়েছে। পাঠকগণ দুটি লেখা পড়ার পর বুঝতে পারবেন কি ঘটেছে সেই লেখায়। উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ, ২০১০ দৈনিক আমারদেশ এ ‘চালু হলো আইপি টেলিফোনী’ এই শিরোনামে আমার আরও একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এবার পাঠকগণ প্রত্যক্ষ করুন সেই দুটি লেখা #ধন্যবাদান্তে সাদ আব্দুল ওয়ালী
০১. ক) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “আইএসপি প্রতিষ্ঠানসমূহ গত বছর আইপি টেলিফোনীর অনুমোদন পেলেও এই কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অপেক্ষার পালা শেষ এবার। আমরা সামিল হতে যাচ্ছি প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায়। গোটা বিশ্ব যেখানে অগ্রসরমানতার দিকে সেখানে আমাদেরই বা পিছিয়ে পড়া কী মানায়? অবশেষে বিটিআরসির উদ্যোগে দেশে উন্মুক্ত হলো আইপি টেলিফোনী।”
০২. ক) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক বছর আগে আইপি টেলিফোনির অনুমোদন পেলেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অবশেষে বিটিআরসির উদ্যোগে দেশে উন্মুক্ত হল আইপি টেলিফোনি।”
০১. খ) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি টেলিফোন সেবা আইপি টেলিফোনী। এটি ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিফোনী সংক্ষেপে আইপি টেলিফোনী নামেই পরিচিত। টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে আইপি টেলিফোনী ইন্টারনেট প্রটোকল নির্ভর এমন এক ফোন সার্ভিস যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে কথা বলার সেবা দিতে সক্ষম। দেশে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে আইপি টেলিফোনী প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এতে প্রত্যেক সার্ভিস প্রোভাইডার বা অপারেটরের একটি নিজস্ব কোড নাম্বার থাকবে। এই সার্ভিস পেতে হলে একটি মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক কিংবা একটি আইপি টেলিফোন সেট হলে চলবে।”
০২. খ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “আইপি মূলত ইন্টারনেটভিত্তিক একটি টেলিফোনি সেবা। টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল নির্ভর এমন এক ফোন সার্ভিস যাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে কথা বলার সেবা পাওয়া যাবে। এতে প্রত্যেক অপারেটরের একটি নিজস্ব কোড নাম্বার থাকবে। এ সার্ভিস পেতে আপনার থাকতে হবে একটি মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ অথবা আপনার যদি থাকে একটি আইপি টেলিফোন সেট।”
০১. গ) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “আইপি টেলিফোনীতে দুই ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। একটি হচ্ছে ভয়েস কল সার্ভিস। অন্যটি হচ্ছে ডেটা সার্ভিস। আইপি টেলিফোনী ব্যবহার করার জন্য প্রত্যেক গ্রাহককে দেয়া হবে আইডি নাম্বার| বিভিন্ন আইএসপি কোম্পানীর আইএসএন’র কোডসমূহ যেমন আইএসএন’র কোড ০৯৬০২, বিডিকমের ০৯৬৬৬, ঢাকা কমের ০৯৬১১, লিংক থ্রির ০৯৬৭৮, অগ্নির ০৯৬০৬ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কোড ও গ্রাহক আইডি নাম্বার মিলে পুরো আইডি হবে ১১ সংখ্যার। এই সেবা হ্যান্ডসেট, ফিক্সড সেট ও কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবে। কম্পিউটারে ও ল্যাপটপে কথা বলা যাবে হ্যাডফোনের সহায়তায়। আপাতত এই সুবিধা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই দেশের বাইরে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।”
০২. গ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “আইপি টেলিফোনিতে আপনি দুই ধরনের সেবা পাবেন। একটি হচ্ছে- ভয়েস কল সার্ভিস আর দ্বিতীয়টি হল ডাটা সার্ভিস। এটি ব্যবহার করার জন্য প্রত্যেক গ্রাহককে দেয়া হবে আইডি নাম্বার| এ সেবা হ্যান্ড সেট ফিক্সড সেট ও কম্পিউটারে ব্যবহার করা যাবে। কম্পিউটারে এবং ল্যাপটপে কথা বলা যাবে হ্যান্ডফোনের সহায়তায়। প্রাথমিকভাবে এ সুবিধা দেশের ভেতরে কিছু সীমাবদ্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই সর্বত্র এ সুবিধা পাওয়া যাবে।”
০১. ঘ) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “এই প্রযুক্তিতে যে কোনো আইপি টেলিফোন থেকে আইপি টেলিফোনে কথা বলা যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে আপাতত বিনামূল্যে কথা বলা গেলেও সরকার যে কোন সময় চার্জ নির্ধারন করতে পারে এমনটা জানা গেছে। এই চার্জ নির্ধারিত হতে পারে প্রতি মিনিটে ২০ পয়সা মাত্র। আইপি টেলিফোনীতে মোবাইল ফোন বা অন্য অপারেটরে কল করা যাবে সেক্ষেত্রে চার্জ যুক্ত হবে। জানা গেছে, মোবাইল ফোনে কল করতে গেলে চার্জ যুক্ত হবে মাত্র ৬৫ পয়সা। তবে সরকারী ল্যান্ডফোন কর্তৃপক্ষ বিটিসিএলের সঙ্গে অচিরেই এই সংযোগ পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আইপি টেলিফোন সেটের ইনস্টলেশনের জন্য কি চার্জ দিতে হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। এটি নির্ভর করবে সেট সংখ্যার উপরে যা আইএসপি (আইপি টেলিফোনী সেবাদাতা) প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্ধারন করবে। আইপি টেলিফোনীতে দেশের বাইরে থাকা প্রায় ১কোটি মানুষ কম খরচে কথা বলার সুযোগ পাবে।”
০২. ঘ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “আইপি ফোন ব্যবহারকারীরা কথা বলতে পারবেন খুব কম পয়সায়। এমন হতে পারে সরকার যে কোনও সময় চার্জ নির্ধারণ করতে পারে। আর এ চার্জ নির্ধারণ হতে পারে ২০ পয়সা মাত্র। আইপি টেলিফোনি থেকে মোবাইল ফোন বা অন্য অপারেটরে কথা বলা যাবে। সেক্ষেত্রে চার্জ যুক্ত হতে পারে ৬৫ পয়সা। সরকারি ল্যান্ডফোন কর্তৃপক্ষ বিটিসিএলের সঙ্গে অচিরেই এ সংযোগ পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে আইপি টেলিফোন সেটের ইনস্টলেশনের জন্য কি চার্জ দিতে হবে তা এখন নির্ধারণ হয়নি। এটি নির্ভর করবে সেট সংখ্যার ওপর যা আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারণ করবে। আইপি টেলিফোনিতে দেশের বাইরে থাকা প্রায় ১ কোটি মানুষ কম খরচে কথা বলার সুযোগ পাবে।”
০১. ঙ) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “ডেটা সার্ভিসের আওতায় যে সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবে তা নিম্নরূপঃ
ক. আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
খ. স্টক তথ্য
গ. ই-মেইল ম্যাসেজ
ঘ. বাজার মূল্য
ঙ. খবর
চ. জরুরী তথ্য
অর্থাৎ এই সার্ভিসগুলো আইপি টেলিফোনের স্ক্রিনে প্রদর্শিত হতে পারে। তবে ডেটা সার্ভিস ছাড়াও আরেকভাবে আইপি টেলিফোনীতে সুবিধা পাওয়া যাবে। এটি হচ্ছে ভয়েস এনাবেল সার্ভিস।”
০২. ঙ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “ডেটা সার্ভিসের আওতায় যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে তা হল- আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য, স্টক তথ্য, ই-মেইল মেসেজ, বাজার মূল্য, খবর এবং ইমারজেন্সি তথ্য। তবে ডেটা সার্ভিস ছাড়াও অন্যভাবে আইপি টেলিফোনিতে সুবিধা পাওয়া যাবে। এটাকে বলা হয় ভয়েস এনাবেল সার্ভিস।”
০১. চ) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কথা বলা যাবে আইপি টেলিফোনী প্রযু্ক্িত ব্যবহারের মাধ্যমে। শুরুতে একটি ফরম পূরনের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্যে ফি নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। যারা কম্পিউটার ব্যবহার করবেন না তাদের জন্য একটি আইপি টেলিফোন সেট ক্রয় করতে হবে। সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য অ্যাডাপ্টার লাগবে। যাদের মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রয়েছে তাদের ইন্টারনেট সংযোগের জন্য মডেম লাগবে।”
০২. চ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কথা বলা যাবে আইপি টেলিফোনি প্রযুক্তির মাধ্যমে। শুরুতে একটি ফর্ম পূরণের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য ফি নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। যারা কম্পিউটার ব্যবহার করবেন না তাদের জন্য একটি আইপি টেলিফোন সেট ক্রয় করতে হবে। বাজারে এ ধরনের সেট পাওয়া যাবে যার দাম ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হবে।”
০১. ছ) মূল লেখা মাসিক টেকনোলজি টুডের এপ্রিল, ২০১০ সংখ্যায় প্রচ্ছদ রচনা "প্রগতির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশঃ দেশে এলো আইপি টেলিফোনী" যা ছিল= “আইপি টেলিফোনী বিস্তারের ফলে দেশে অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা অনেকাংশেই রোধ হবে। কারণ, আইপি টেলিফোনী অত্যন্ত সাশ্রয়ী প্রযুক্তি। এটা চালু হলে অবৈধ ভিওআইপি কলের দিকে মানুষের আগ্রহ হারিয়ে যাবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সেদেশের অভ্যন্তরে কল করতে যে খরচ হয় সে তুলনায় সেদেশের বাইরে কল করতে খরচ কম হয়। এটা একটা পলিসি। এভাবেও কিন্তু অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভিওআইপি রোধ করা যেতে পারে।”
০২. ছ) দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘যুগান্তর ডট কম’ এ যা ছিল= “আইপি টেলিফোনি বিস্তারের ফলে দেশে অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা অনেকাংশেই রোধ হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে সে দেশের অভ্যন্তরে কল করতে যা খরচ হয় সে তুলনায় সে দেশের বাইরে কল করতে খরচ কম হয়। এটা এক ধরনের পলিসি। এতে করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভিওআইপি রোধ করা যেতে পারে।”
লেখকের স্বাধীনতা কিসে? মেধা, পরিশ্রম আর প্রতিভায় না অন্যকিছুতে। যদি কাট, কপি এবং পেস্ট করে লেখা দিলে একটি জাতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়, তবে মেধা দিয়ে ও পরিশ্রম করে লেখার কি দরকার আছে? আরো জানতে ক্লিক করুন-
Click This Link
[email protected] ফেসবুক একাউন্ট
এখন আপনারা বলুন, মতামত জানাবেন প্লিজ
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১০ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


