somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায়।

০৬ ই মে, ২০১৫ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১।১৯৯৫ সালে প্রণীত নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনের ৬(২) ও ৬(৪) ধারায় বলা আছে, ধর্ষণের পর কোনো ব্যক্তি বা একাধিক ব্যক্তি যৌথভাবে যদি কোনো নারী বা শিশুর মৃত্যুট ঘটান, তাহলে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড- দেবেন। এখানে মৃত্যুদণ্ড- ছাড়া আর কোনো সাজা দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের সামনে রাখা হয়নি। এ জন্য সর্বোচ্চ আদালত এ ধারা দুটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। এবং ১৯৯৫ সনের ওই আইনের রহিতকরণ ও হেফাজত সম্পর্কে ২০০০ সালের ওই আইনের ৩৪(২) ধারায় বলা হয়, ‘উক্তরূপ রহিতকরণের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত আইনের অধীন অনিষ্পন্ন মামলা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে এবং অনুরূপ মামলায় প্রদত্ত আদেশ, রায় বা শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল সংশ্লিষ্ট আদালতে এমনভাবে পরিচালিত ও নিষ্পত্তি হইবে যেন উক্ত আইন রহিত করা হয় নাই৷” এই ধারাটি কেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে এখন সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল। তাহলে ১৯৯৫ সালের অধীনে চলমান মামলাগুলো কীভাবে চলবে? মামলাগুলার কি ১৯৯৫ সালে প্রণীত নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনে নাকি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধিনে চলবে। ১৯৯৫ সালে প্রণীত নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনতো ২০০০ সালে রহিত করা হয়। জানি পুরনাঙ্গ রায় পাওয়ার পর এক বাবস্থা হয়ে যাবে। তবে এখানে উল্লেখ্য যে ২০০০ সালে ১৯৯৫ সালের আইনটি সংশোধন করা হয়। নতুন আইনের ৯(২) ধারায় ধর্ষণ করে হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এটা খুব ভালো কথা। ইহাত বড়ই অসংবিধানিক ছিল।আইনে একটা বিকল্প শাস্তির বিধান থাকাটা জাস্টটিস। এতো কিছু খারাপের মধ্যে এতো ভালো আদালত আমাদের। কিন্তু পরের ঘটনা একটা উদাহারন হিসাবে দেখালাম, দেখুন-
২। নারী ও শিশু নির্যাতনের একটা মামলা ছিল যেখানে, ১৩ বছর বয়সের গণধর্ষণের শিকার হয়ে অপহরণের এক মাস পর বাড়ির কাছের পাটখেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হয়। তার বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারা মোতাবেক অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলা করেন। ঘটনার ৪০ দিন পর মেডিকেল সনদ এই মর্মে প্রত্যয়ন করে যে, ভিকটিমের বয়স ১৭ বছর, তার শরীরে জোরপূর্বক যৌনসঙ্গমের চিহ্ন নেই, ভিকটিম যৌনসঙ্গমে অভ্যস্ত (বেশ্যা)। এই সনদের ভিত্তিতে সাতজনের মধ্যে পাঁচ অভিযুক্ত ব্যক্তি বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। বাকি দুজন অভিযুক্ত ব্যক্তির একজনের সঙ্গে ওই শিশুর পূর্বপরিচয় থাকায় আদালত পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ভিকটিমের ভালোবাসার সূত্রগুলো ভালোভাবে দেখিতে হইবে’—এই মর্মে তদন্ত চালানোর নির্দেশ জারি করেন। দুই অভিযুক্ত ব্যক্তির একজন সাক্ষ্য আইনের মাধ্যমে ভালোবাসার সম্পর্ক এবং শিশুটির সঙ্গে তার অপর বন্ধুর শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে, সে ‘খারাপ চরিত্রের’—এই সাক্ষ্যপ্রমাণের মধ্য দিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা থেকে খালাস পেয়ে যায়।

তার মানে কি অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকলে, অভিযুক্ত চেনা হলে, বাদিনী বেশ্যা হলে, নষ্ট মেয়ে হলে ধর্ষণ হয় না?
ইহাতে কিন্তু আমাদের সাংবিধানিক আদালতের কোন দোষ নেই, কারন সেকেলে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের ১৫৫(৪)ধারায় বর্ণিত আছে যে, যখন কোন পুরুষ লোকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা শ্লিলতাহানির চেষ্টার মামলা চলে, তখন দেখান যেতে পারে যে বাদিনী ছিল অনৈতিক চরিত্রের অধিকারিণী।আর সাক্ষ্যর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারলে অভিযুক্ত সুবিধা পাবে। নারীবিদ্বেষী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বাবস্থায় এমন বিধান থাকা কতোটা সাংবিধানিক সেটা সময় এসেছে জানার? ভারত সরকার ২০০৩ সালে এই ধারা বাতিল করেছে।তাহলে আমাদের টা বাতিলের জন্য আমাদের সাংবিধানিক আদালত কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার বিষয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×