somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ যুগের সিক্সটিনথ ডিভিশন

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালে চাঁদপুরের টেকনিক্যাল স্কুলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী পদাতিক ব্রিগেড ঘাঁটি গেড়েছিলো। ডিসেম্বরের ৮ তারিখ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে চাঁদপুরের পতন হয়। মুক্তির ঠিক আগেরদিনই 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' ধ্বনি সহযোগে বিরাট এক মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি এতোই বড় ছিলো যে, এর আগা যখন গণি স্কুলের সামনে, পাছা তখন তালতলায়! সেই মিছিল দেখে কেউ ভাবেনি পরদিনই পাকিস্তান সেনাবাহিনী অত্র এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাবে। চাঁদপুরে কোন আত্মসমর্পণ হয়নি, কোন বিদেশি ফৌজও প্রথম প্রবেশ করেনি। পাক ফৌজের পলায়নের পর মুক্তিযোদ্ধারাই প্রথম চাঁদপুরে প্রবেশ করে।

যাহোক, সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ৮ তারিখ যখন মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করে, তখন গতকালের পাকিস্তানপন্থী মিছিলটিতে যোগ দেয়ারাই রাস্তায় উল্লাস করা শুরু করে। লাঠি হাতে, কেউ বা কোন পুরানো গাদা বন্দুক, এয়ার গান বা থ্রি নট থ্রি জোগাড় করে জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে মিছিল করতে থাকে। সে মিছিলও গতকালের মিছিলের মতোই বড় হলো।

এদেরকেই পরবর্তীতে সিক্সটিনথ ডিভিশন ফ্রিডম ফাইটার নামে অভিহিত করা হয়। কয়েক বছর আগে বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছিলেন, "দেশ আজ বাজিকরদের খপ্পরে।" এই বাজিকররাই এ যুগের সিক্সটিনথ ডিভিশন! অবশ্য ৭১ সালের সিক্সটিনথ ডিভিশনের অনেক বীর যোদ্ধাও এখন চেটেপুটে নিচ্ছেন। আর ধুঁকে ধুঁকে মরছেন জানবিবির সেই রিকশাওয়ালা মামা, নিজেকে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা বলতে এখন যিনি অাগে সাতপ্যাঁচ ভেবে নেন। অথবা বীরশ্রেষ্ঠ মুনশী আবদুর রউফের পরিবার, যার ছোট ছেলে এখন চায়ের টং চালিয়ে সংসার চালায়।

এরপরও আমি আশাবাদী। এসব সিক্সটিনথ ডিভিশনের আসলে কোন বল নেই। আচমকা দমকা হাওয়া বইলেই তারা মাথা নামাতে শুরু করে। আর এই বাংলায় পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ সবখান থেকেই দমকা হাওয়া বয়...!
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×