somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটিকা: ফেসবুক মাতন্ড (পরিমার্জিত সংস্করণ)

১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

---------------------
পাত্র-পাত্রীর পরিচিতি -
---------------------
১. সাগর - কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি ইউ.বি.সির নতুন ছাত্র: কেবল বাংলাদেশ থেকে এসেছে পড়াশোনা করতে (ছেলে চরিত্র)
২. সীমা - এয়ারপোর্ট থেকে কিছু দিন আগে সাগরকে লিফট দিয়েছেন, বুয়েটে সাগরের সিনিয়র ছিলেন {মেয়ে চরিত্র}
৩. জাহানারা - সাগরের বোন - নিউ ইয়র্কে পরিবারসহ থাকেন {মেয়ে চরিত্র} (ঐচ্ছিক চরিত্র)
৪. জরিনা - সাগরের প্রেমিকা, এখনো বাংলাদেশে {মেয়ে চরিত্র}
৫. আজিজ - ইউ.বি.সির পুরাতন ছাত্র, বাঙালি কম্যুনিটির ফটোগ্রাফার (ছেলে চরিত্র)
৬. সাগরের মা - বাংলাদেশে থাকেন {মেয়ে চরিত্র}

---------------------
মূল ডিসক্লেইমার (যা নাটক শুরুর আগে বলে নেয়া হবে)
---------------------
এই চরিত্রগুলো এবং ধারণাগুলো একান্তই অলস মস্তিষ্কপ্রসূত আবজাব চিন্তা মাত্র। এর সাথে জীবিত বা মৃত কোন কিছুর সাথে কাকতালীয় সাদৃশ্য খুঁজে নেয়া দর্শক বা পাঠকের নিজস্ব সৃজনশীলতার ভয়ঙ্কর অপব্যয় বলে গণ্য হবে।

---------------------
দৃশ্য - ১
---------------------
[[সাগর ফোনে কথা বলছে, পাশ দিয়ে আজিজ হেঁটে যাচ্ছিল - সে আড়ি পেতে শুনতে লাগলো]]
সাগর: "হ্যা হ্যা, আমি ভালো আছি, আব্বা। ঢাকার থেকে একটু বেশি ঠান্ডা, তবে সহ্য করা যায়। আমি এখন ভিলেজে - একাডিয়ায় সীমা আপার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, তো এখন রাখি? পরে কল দিব? খোদা হাফেজ।"
[[সাগর ফোন রেখে দিল - আজিজ এগিয়ে আসে]]
আজিজ: এক্সকিউজ মি ..
সাগর: ইয়েস?
আজিজ: আপনি বাংলায় কথা বলছেন দেখে বুঝলাম বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। কবে এলেন?
সাগর: [[একটু অবাক হয়ে]] আমি নতুন এসেছি বুঝলেন কিভাবে?
আজিজ: হাহা - আপনার কোনো ছবি ফেসবুকে কারো ফটো এলবামে দেখিনি, যার অর্থ এখানকার কেউ আপনাকে চিনে না - দুয়ে দুয়ে চার মেলালাম আর কি।
সাগর: হুমম, আমি নতুন এসেছি এটা ঠিক, এই সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু। তবে আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে এখানকার মানুষেরা অনেক ফেসবুক ব্যবহার করে।
আজিজ: আপনার কথা শুনেও বোঝা যায় নতুন এসেছেন - বিদেশে যারা থাকে, তাদের মধ্যে সামাজিকতা করতে হলে ফেসবুক একাউন্ট থাকা আবশ্যক - যার ফেসবুক একাউন্ট নাই, তার আসলে কোনো অস্তিত্ব নাই।
সাগর: তাই নাকি? কি রকম?
আজিজ: বাংলাদেশের মতন এইখানে বিকাল বেলা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খবর রাখা সম্ভব হয় না, এখানে মানুষ অনেক ব্যস্ত - কিন্তু ফেসবুকের বদৌলতে সবাই সবার সব কিছু জানে - কে কখন কি করছে, তাদের বাচ্চারা কি করছে, কে বাড়ি গাড়ি কিনলো, কে কতো বেতনের চাকরি পেল, কার পরীক্ষা শেষ হলো, কে কখন কনফারেন্সে যাচ্ছে বা ডিজনিতে ঘুরতে যাচ্ছে, কোন মুভি দেখছে, কার সাথে ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে, দাওয়াত দিতে হলে কাদেরকে একসাথে দাওয়াত দেওয়া যাবে, কাকে দাওয়াত দিলে হালাল গোস্ত দিয়ে রান্না করতে হবে আরো কত কি ...
সাগর: বলেন কি? তাহলে তো ফেসবুকে একাউন্ট খুলতে হবে।
আজিজ: একাউন্ট খুললেই চলবে না - ফেসবুক সামাজিকতার কিছু তরিকা আছে।
সাগর: মানে?
আজিজ: আচ্ছা, আপনার কাছে ল্যাপটপ আছে না? এখনি কিছু জিনিস বুঝাইয়া দেই।
সাগর: হ্যা আছে - এই নেন।
আজিজ: [[খানিকক্ষণ ল্যাপটপ টেপাটেপি করে]] এই নেন আপনার একান্ত খুলে দিলাম, আমি হলাম আপনার প্রথম বন্ধু আমি। আমি স্ট্যাটাসে বলে দিচ্ছি "আপনি ভ্যাঙ্কুভারে নতুন এসেছেন" - সাথে এই ছবি তুলে দিব।
[[আচমকা পকেট থেকে ক্যামেরা বের করে ছবির ফ্ল্যাশ]]
সাগর: আরে আপনি ক্যামেরা সাথে নিয়ে ঘুরেন নাকি?
আজিজ: অবশ্যই - ক্যামেরা মানে পাওয়ার।
সাগর: তাই নাকি?
আজিজ: হেহে - যার সাথে ভালো সম্পর্ক তার ভালো ভালো ছবি তুলে দেই, সে খুশি হয় - আমাকে আরো পার্টিতে দাওয়াত দেয়। আর যখন কারো উপর বিরক্ত হই, তার কালা মাড়ি বের করা ভেটকি মারা হাসির ছবি তুলে ট্যাগ করে দেই। আরো অনেক পলিটিক্স আছে - আস্তে আস্তে বুঝবেন। যাই হোক, আপনি এখনো আমার ব্ল্যাক লিস্টেড হন নাই - আপনার ভালো ছবিটা তুলে দিলাম।
সাগর: থ্যাঙ্কস - পরে যাদের সাথে পরিচয় হবে তাদের বন্ধু হিসেবে যোগ করে নেব।
আজিজ: উহু - এইখানেই সবাই ভুল করে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং রুল নাম্বার ওয়ান: ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন ধাপে ধাপে।
সাগর: বুঝলাম না।
আজিজ: আচ্ছা - ভাঙ্গাইয়া বলি - প্রথম ধাপে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন ব্যাচেলর এবং বিবাহিত ছেলেপেলেদের, তারা বুঝবে না আপনি কে - তখন তারা দেখবে আমি আপনার বন্ধু আর আমার স্ট্যাটাসে আপনার ছবি, তখন তারা এক্সেপ্ট করবে।
সাগর: তারপর?
আজিজ: তারপরের স্টেজটা ক্রিটিকাল - যেই সব বিবাহিত ছেলেরা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করবে, তাদের বৌদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন। তারা যখন দেখবে জামাইয়ের বন্ধু - তারাও এক্সেপ্ট করবে।
সাগর: তাহলে লাভ কি?
আজিজ: হেহে - লাভ হবে পরের স্টেজে - এইবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন অবিবাহিত মেয়েদের - তারা যখন দেখবে আপনার সাথে তাদের অনেক কমন ফ্রেন্ড, বিশেষ করে ভাবীরাও - তখন তারাও নির্ভয়ে আপনাকে বন্ধু বানাবে।
সাগর: বেশ কমপ্লিকেটেড প্রসিডিউর দেখছি।
আজিজ: কোনো কমপ্লিকেটেড কিছু না - এইযে আপনার একাউন্ট থেকে প্রথম ধাপের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিচ্ছি। [[খানিকক্ষণ ল্যাপটপ টেপাটেপি করে]] যাই হোক, এখন যেতে হবে - এক সুন্দরীর ফটো শুট করার জন্য যাচ্ছি। যাবেন নাকি আমার সাথে? একা না থেকে দোকলা থাকলে লোকে কম সন্দেহ করে।
সাগর: না ভাই - আমি আসলে একজনের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, তাছাড়া আমার পছন্দ আগে থেকেই আছে - অবিবাহিত মেয়েদের নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নাই।
আজিজ: অ - আগে বলবা তো - যাই হোক, তবুও ফেসবুক ভালো - দাওয়াত টাওয়াত পাইতে, মানুষে খোঁজ খবর রাখা সুবিধা আর কি।
সাগর: অনেক ধন্যবাদ - অনেক উপকার করলেন।
আজিজ: ব্যাপার না - মাঝে মধ্যে আমার অপ্লোডানো ছবিতে 'লাইক' দিয়েন আর কি।
[[গান গাইতে গাইতে]] আজিজের প্রস্থান: "এ মন কি যে চায় বল, ... যারে দেখি লাগে ভালো ...."
[[অবাক চোখে কিছুক্ষণ আজিজের দিকে চেয়ে থেকে সাগর আবার ল্যাপটপে কাজ করতে করতে এগিয়ে চলে ...]]

---------------------
দৃশ্য - ২
---------------------
[[পথে সীমা বিপরীত দিক থেকে আসতে থাকে, সাগর খেয়াল করে না]]
সীমা: সাগর না?
সাগর: [[ল্যাপটপ থেকে মাথা তুলে]] সীমা আপা - কেমন আছেন?
সীমা: [[বিরক্তির স্বরে]] খবরদার আমাকে সীমা আপা বলবে না - বলবে ছিম। এইটা আমার কানাডিয়ান নাম। ঐসব সীমা টিমা ধরনের গাইয়া নাম এইখানে কেউ জানতে পারলে সমস্যা আছে, আনস্মার্ট ভাববে।
সাগর: সরি ছিম আপা, বুয়েটের পুরাতন অভ্যাস এখনো যায় নাই। আর হবে না এমন।
সীমা: তো সাগর, তোমাকে একটা কথা বলি।
সাগর: [[উদগ্রীব হয়ে]] জ্বি, বলেন?
সীমা: দেখো বুয়েটে আমি তোমার কয়েক বছরের সিনিয়র ছিলাম বটে কিন্তু তারপরেও তুমি তো আমাকে চিন, ঠিক কিনা?
সাগর: [[অবাক হয়ে]] ইয়ে মানে .. অবশ্যই চিনি ... সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তো কানাডায় আসার সময় আপনি এয়ারপোর্ট থেকে লিফট দিলেন - অনেক উপকার হয়েছে তাতে আমার।
সীমা: [[বিরক্তির স্বরে]] তাহলে ফ্রেন্ড হতে আপত্তি কোথায়?
সাগর: বুঝলাম না ...
সীমা: ফেসবুকে এখানকার অনেক নতুন নতুন ছেলেপেলের নোটিফিকেশনে দেখলাম তুমি তাদের ফেসবুক ফ্রেন্ড - অথচ তুমি তো আমাকে অনেক আগে থেকেই চেন, তার উপর আমি তোমাকে প্রথম এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসলাম, আমি নিজে তোমাকে প্রথম ম্যাকডোনাল্ডসে নিয়ে গেলাম, আমার সন্মানটা কই রাখলে? এত কিছু করার পরেও তুমি আমাকে ফ্রেন্ড হিসেবে যোগ তো কর নাই। মনে দুঃখ পেয়েছি।
সাগর: ও, এইবার বুজছি - আপনি ফেসবুকের কথা বলছেন। আমি আসলে এইমাত্র একাউন্ট খুললাম, আজিজ ভাই কিছু লোককে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে মাত্র, বললেন মেয়েদের এখনি না পাঠাতে। তবে আপনাকে আমি এক্ষুনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিচ্ছি - এই যে পেয়েছি আপনাকে "সীমা ছিম"। আসলে এখানে ফেসবুক যে লোকজন খুব সিরিয়াসলি নেয় তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আগেই পাঠানো উচিত ছিল - সরি।
সীমা: হুমম .. নতুন তো .. বুঝতে পারনি বোধহয় - শুনো তাহলে, জুনিয়র হিসেবে আপন মনে করে বলছি - স্ট্যাটাস, কমেন্ট এইসব দিবে সাবধানে। কারো স্ট্যাটাসে কমেন্ট করার চেয়ে লাইক করা বেশি সেইফ - তবে বুঝে শুনে: কেউ যদি লিখে "ছ্যাকা খেয়ে আজ আমার মন খারাপ", তাতে আবার লাইক দিও না, বুঝে শুনে লাইক দিও। বিশেষ করে কারো বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে সবার ছবি তুলে আপলোড করবে না। কার বাসায় কে দাওয়াত খায় - এইগুলা সিক্রেট বিষয়। অনেক গ্রুপ বিভাজন আছে বি,এস,এতে। কার সাথে অন্য কে কবে দাওয়াত খেল জানতে পারলে বাকিরা নাখোশ হয়।
সাগর: তাই নাকি?
সীমা: সমস্যা হলো - তুমি বিদেশে এসে কী খাও, কী কর - এইসব তোমার বাসায় তোমার মা, বাবা, ভাই, বোন জানতে চাবে - সেই জন্য ছবি আপলোড করতেই হবে।
সাগর: তাহলে উপায়?
সীমা: সেইটারও উপায় আছে ... ছবির এলবামের প্রাইভেসি সেটিং এমনভাবে সেট করবে যাতে দেশের লোক দেখতে পায়, বি,এস,এর লোকজন দেখতে না পায়।
সাগর: ও তাই নাকি? প্রাইভেসি সেটিং দেখে নেব তাহলে।
সীমা: হুমম, আরো ব্যাপার আছে - বুঝবা আস্তে ধীরে। তো এইদিকে যাচ্ছ কোথায়?
সাগর: আসলে আপনার সাথে দেখা করতেই আসছিলাম।
সীমা: তাই নাকি? কি কাজ?
সাগর: আমার আসলে চাল শেষ - সুপার স্টোর থেকে চাল আনতে হবে। একটু যদি হেল্প করতেন।
সীমা: অবশ্যই, আমার হাসবেন্ডকে বলব, এনে দেবে - কিন্তু থান্ডারবার্ড থেকে এত দূর না এসে তুমি কিন্তু আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করে দিতে পরতে। সবাই ফেসবুক পনের মিনিট অন্তর অন্তর চেক করে। তাছাড়া চ্যাট অপশন তো আছেই। এতে সবারই সময় বাঁচে।
সাগর: তাই নাকি? ভালো জিনিস জানলাম - পরের বার থেকে তাই করব।
সীমা: কোনো খবর থাকলে স্ট্যাটাস আপডেট দিও, আমি কমেন্ট দিব।
সাগর: জ্বি আচ্ছা। আসি তাহলে এখন ছিম আপা?
সীমা:বাই বাই।
[[সীমার প্রস্থান, সাগর উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করলো]]

---------------------
দৃশ্য - ৩ (ঐচ্ছিক দৃশ্য)
---------------------
[[ক্রিং ক্রিং]]
সাগর: হ্যালো?
জাহানারা: [[রাগত স্বরে]] তুই এইটা কাজ করলি?
সাগর: আপু তুমি? নিউ ইয়র্ক থেকে? তোমাদের ঐখানে কয়টা বাজে?
জাহানারা: এইখানে যতটাই বাজুক - তুই আমার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিস।
সাগর: আমি কি করলাম আবার?
জাহানারা: তর দুলাভাই বলল তুই নাকি ওকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাস নাই? ও খুব মাইন্ড করসে।
সাগর: আমি এই ফেসবুক গজবে ক্লান্ত - আমাকে রেহাই দাও।
জাহানারা: মানে? বিদেশ আইসা অনেক লায়েক হয়ে গেছে, না? আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইলে সমস্যা কি? তাছাড়া তর ভাইগ্না মাত্র একটা - অর একটা ছবিতেও লাইক দেস নাই! ঘটনা কি?
সাগর: [[বিরক্তির স্বরে]] আমি তোমার ভাই - আমাকে ফেসবুকে এখন এটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে প্রমান করতে হবে? এইটার আসলে কোনো অর্থ নাই, এক ক্লিকেই এরকম হাজার মানুষকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড হিসেবে যোগ করা যায়।
জাহানারা: এর অর্থ কি? তুই হাজার মানুষের ফ্রেন্ড হবি - কিন্তু আমার ফ্রেন্ড হবি না?
সাগর: এই কথাবার্তার আর কোনো অর্থ হয় না।
[[ক্রন্দন রত গলায় জাহানারা]]
জাহানারা: আমার ভাগ্যটা এমন কেন? আমার ভাই আমাকে বলে আমি ফ্রেন্ড হিসেবে অর্থহীন।
সাগর: আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে - আমি তোমাকে আর দুলাভাইকে এখনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছি।
জাহানারা: তোর ভাইয়ের প্রমোশন হয়েছে বলে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে - ঐটাতে লাইক দিস।
সাগর: আচ্ছা ঠিক আছে।
জাহানারা: নিয়মিত ছবি দিবি - কি খাইলি - কোথায় গেলি - এইসব।
সাগর: আচ্ছা দিব, এখন রাখি - ঠান্ডায় হাত জমে গেল।
[[জাহানারা ফোন রেখে দিল]]
সাগর: [[ফোন রেখে পকেটে হাত ঢুকিয়ে]] কোন পাপে যে এই গজবে এসে পড়লাম!

---------------------
দৃশ্য - ৪
---------------------
[[ক্রিং ক্রিং]]
সাগর: কে ফোন করলো? [[পকেট থেকে আবার মোবাইল বের করে]] হ্যালো?
জরিনা: এইসব কি দেখতাসি?
সাগর: জরিনা তুমি? ডার্লিং কেমন আছে? তুমি দেশ থেকে লং ডিসটেন্স কল করসো কেন?
জরিনা: আজকে তোমার বিচার আছে।
সাগর: আমার?
জরিনা: ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে পার না ভাব দেখিয়ে লাভ নেই। তোমার ফেসবুক একাউন্ট খুলছ দেখলাম, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিছ সিঙ্গেল - বিদেশ গিয়া ধলা মাইয়া দেইখা কি আমারে ভুইলা গেলা নাকি?
সাগর: আরে না না - এইমাত্র একজন আমারে ফেসবুক একাউন্ট খুইলা দিসে - সব কিছু এখনো আপডেট করি নাই।
জরিনা: এইধব ধোঁকা-বাজি বন্ধ কর - তোমার প্রোফাইলে লেখা "ইন্টারেস্টেড ইন ওমেন" - আবার লেখা সিঙ্গেল - এর মানে কি আমি বুঝি না?
সাগর: কি যে মুসিবতে পড়লাম! বললাম তো আপডেট করা হয়নি - নতুন একাউন্ট।
জরিনা: বোঝা আছে - থাক তুমি সিঙ্গেল।
সাগর: আমি এখনি রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস ঠিক করে দিচ্ছি।
জরিনা: শুধু তাই না - প্রোফাইল পিকচার দিবে আমাদের যুগল ছবি দিয়ে। ছবি আছে তোমার কাছে?
সাগর: আছে আছে - আচ্ছা ঠিক আছে - এক্ষুনি করলাম। এখন শান্তি?
জরিনা: হুমম, তোমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি - এক্সেপ্ট কর।
সাগর: এইমাত্র করলাম ... কিন্তু এ কী?
জরিনা: কী?
সাগর: তুমি নিজে রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস দিয়েছ 'ইটস কম্প্লিকেটেড!'
জরিনা: এইটা মেয়েদের একটা ফ্যাশন - এইগুলা তুমি বুঝবে না।
সাগর: তোমার প্রোফাইলেও তো আমাদের যুগল ছবি নাই। অথচ আমাকে দিতে বললে?
জরিনা: [[বিরক্তির স্বরে]] তুমি তো দিয়েছই! আবার কয় জায়গায় দিতে হবে? দেখো তুমি আমার উপর এইসব জোরাজুরি করবে না - মেয়েদের প্রাইভেসি একটা বড় ব্যাপার।
সাগর: ও আচ্ছা!
জরিনা: আমার ফেসবুকের ওয়ালে আবার কিছু লিখবে না - কথা থাকলে থাকলে পার্সোনাল মেসেজ করবে।
সাগর: ঠিক আছে।
[[জরিনা ফোন রেখে দিল]]
সাগর: [[ফোন রেখে]] উফ্ফফ্ফ্ফ্ফ! আন-সোশ্যাল ছিলাম ভালো ছিলাম - এই একাউন্ট তো জীবনের একটা জ্বালা হয়ে গেল দেখছি।


---------------------
দৃশ্য - ৫
---------------------
[[ক্রিং ক্রিং]]
সাগর: হ্যালো?
সাগরের মা: বাবা সাগর?
সাগর: হ্যা, মা - কেমন আছ?
সাগরের মা: এইগুলা কী দেকতাছি বাবা?
সাগর: কী হয়েছে মা?
সাগরের মা: আমাদের বংশের সন্মানে চুনকালি লাগাইলি তুই শেষ পর্যন্ত?
সাগর: আমি আবার কী করলাম?
সাগরের মা: তোর বড় ভাই ইন্টারনেটে কোন মেয়ের সাথে তোর ছবি দেখালো ফেসবুক নাকি কোথায়? বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা বাদ দিয়া এইগুলা কী করতেছ?
সাগর: ইয়ে মানে - ঐটা তো বিদেশে না - দেশের ছবি - তোমারে আসলে জরিনার কথা বলা হয় নাই ...
সাগরের মা: এই দেখতে আল্লা আমারে বাচাইয়া রাখছে? কলি কাল তো আইসা পড়ল! হে খোদা আমারে উঠাইয়া নিয়া যাও!
সাগর: এইগুলা কি বলতাছেন? শান্ত হন।
সাগরের মা: আমি শান্ত হব? কাজটা কি করলি তার মাজেজা বুঝছ? নিজেরা নিজেরা পছন্দ করছ তো করছ - তাও আবার ইন্টারনেটে ছবি বিলি করতেছ। আমি তোর মা, আর আমি কিছু জানি না। ১০ মাস ১০ দিন তোরে পেটে ধরছি এই জন্য? তোরে ত্যাজ্য করলাম!
[[সাগরের মা ফোন কেটে দেয়]]
সাগর: হ্যালো হ্যালো? আয় হায় - মা রেগে গিয়ে ফোন কেটে দিয়েছে! স্টুপিড ফেসবুক - এর জন্য এত ঝামেলায় পড়লাম। দেশে থাকতে বছর বছর প্রেম কইরা ধরা খাইলাম না - আর ফেসবুক খুইলা একদিনে চিচিং ফাক। দূর হোক এইসব রংবাজি - এই সবের মধ্যে আমি আর নাই। ফেসবুক একাউন্ট ডিলিট করলাম!!!
[[ল্যাপটপ বন্ধ করে রাগত ভাবে চলে যায় সাগর]]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:৫৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×