একটা রিসার্চ টপিক নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বেশ ব্যস্ত। সুপারভাইসরও ডেড-লাইনে আছে - তাকেও দোষ দিয়ে লাভ নেই। সমস্যা একটা না - সাথে অনান্য অনেক চাপ আছে - কোর্স নিচ্ছি - হোমওয়ার্কে বেড়াছেড়া পরিস্থিতি। কাজ শেষে ফিরতে ফিরতে প্রায় প্রতিদিনই দেরী হয়। ডিপার্টমেন্টে বসেই ডিনার করি। তার উপর শুরু হয়েছে এই শহরের বিখ্যাত বৃষ্টিধারা। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে চেনা পথ ধরে বাসায় ফিরি। বৃষ্টির সাথে শুরু হয়েছে ঠান্ডা। ফেরার পথে একাই থাকি রাস্তায় - এতো রাতে কেউ বাহিরে থাকে না। অদ্ভুত ভাবে প্রতিদিনই পথে মনটা নস্টালজিক হয়ে যায়। দুই একটা গাড়ির হেড-লাইটের আলোতে চমকে বর্তমানে ফিরে আসি। বাসায় ফিরে সাধারণত সপ্তাহের টিভি সিরিয়াল দেখি। পূর্ণ-দৈর্ঘ্য ছায়াছবি দেখা হয় না আসলেই। নামানো আছে বেশ কিছু - কিন্তু দেখা হয়নি। আজ কোনো চিন্তা ছাড়াই একটাতে ক্লিক করলাম - "অবসার্ভ এন্ড রিপোর্ট"। মোটামুটি নতুন ছবি - ২০০৯-এ রিলিজ। মুভি প্লেয়ারে দেখাচ্ছে দেড় ঘন্টার ছবি। ঘড়ির দিকে তাকালাম - সকালে উঠতে হবে - দেখবো কিনা। প্রথম ১০ মিনিট দেখেই ঠিক করলাম দেখবো।

ঘটনাটা এরকম - ফরেস্ট রিজ মলে রনি প্রতিরক্ষা প্রধান। সে নিজের কাজকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নেয়। যথেষ্ট নিষ্ঠা আর স্টাইলের সাথে সে তার কাজ করে।

একই সাথে মলের কসমেটিকস সেকশনে কাজ করে ব্রান্ডি। রনি মনে করে সে মলের এবং জগতের সর্ব শ্রেষ্ঠ সুন্দরী।

রনিকে ব্রান্ডি পাত্তা না দিলেও রনি আশা ছাড়ে না।

নেল কাজ করে কফি সপে। রনি প্রতিদিন এক কাপ ফ্রি কফি খায় সেখান থেকে। নেলের সাথে টুকটাক কথা বলে। এমনিতেই পায়ে সমস্যা, তার উপর স্টোরের মালিক নেলের সাথে দুর্ব্যবহার করে বলে নেলের মন বেশ খারাপ থাকে।

বাবা অনেক আগেই ছেড়ে গেছে - ঘরে একা মা - এলকোহল নিয়ে ডুবে থাকে।

সমস্যা শুরু হলো যখন এক পাগল মলে এসে তার পিপি দেখানো শুরু করলো। এর মাঝে মলে কড়া নজরদারির হুকুম দিয়ে রাখলো রনি। এক গার্ড এতো কম বেতনে এতো কাজ দেখে গাইগুই করছে বলে রনি এক চরম ডায়ালগ ছাড়ল - "তোমাকে একটা প্রশ্ন করি - নর্মান্দিতে ঝড় তোলার জন্য কত টাকা পেয়েছিলো? মার্লিনকে মারার জন্য রাজা আর্থার কত টাকা পেয়েছিলো? টেলিভিশন আবিস্কারের জন্য কত? কিছুই না। তার পরেও তারা এতো সব করেছিলো কারণ এই কাজগুলো তারা উচিত কাজ মনে করেছিলো"।

পুলিশ ডেকে মলের মালিক সাহায্য চাইলেন। রনি তো ক্ষেপে কাই। আমি থাকতে পুলিশ কেন। পুলিশের সাথে চরম বাক বিতন্ডা। হাতি ঘোড়া গেলো তল - পুলিশ বলে কত জল।

সেই সূত্র ধরে পুলিশের হাতে হেনস্থাও হলো রনি। ঠিক করলো পুলিশে যোগ দিয়ে দেখিয়ে দেবে।

ব্যাপক ব্যায়াম, পরীক্ষা শুরু হলো পুলিশে যোগ দেবার প্রস্তুতিতে।

পারবে কি রনি পুলিশে যোগ দিতে? পারবে কি এলকোহলিক মাকে সুস্থ রাখতে? পারবে রনি ব্রান্দির মন জয় করতে? পারবে কি নেলকে তার বসের দুর্ব্যবহার থেকে রক্ষা করতে?

মুভিটি হাসি ঠাট্টার হলেও বেশ কিছু পর্যায়ে বেশ মন খারাপ হয়েছে। এক পর্যায়ে তো মনে হয়েছে 'ডার্ক নাইট' দেখছি, ফাটাফাটি মারামারি সিকোয়েন্স, সাইকোলজিকাল ব্যাপারটা খুব অপ্রত্যাশিত ভাবে আনা হয়েছে। বাস্তবতার সাথে মিল কম, উইশফুল থিঙ্কিং বেশি - তবে মুভির বক্তব্য আছে। বেশ কিছু বক্তব্য আছে যা বেশ কড়াভাবেই হজম করতে হবে। স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি - কিন্তু কোন পর্যায় পর্যন্ত তার পেছনে সততার সাথে লেগে থাকা যায় এই মুভি তার গল্প - একজন মানুষ পুরা দুনিয়া বদলে না দিতে পারলেও অধ্যাবসায় থাকলে নিজের ক্ষুদ্র পরিসরের পরিবেশকে অবশ্যই পারে, তার গল্প। হয়তো নিজে যেভাবে ভেবেছিলো সেভাবে না - সাফল্য একা নাও আসতে পারে - আসতে পারে ব্যর্থতার হাত ধরে - কিন্তু দিনের শেষে ছোট বড় সাফল্য ব্যর্থতা নিয়েই জীবন; অনেকটা একই থিওরি অনেকভাবে প্রমানের মতন ব্যাপার, দেখলে বুঝবেন। কমেডি মুভিতে এতো কিছুর কম্বিনেশন বেশ চমত্প্রদ। গল্পে আনন্দ, হতাশা, ফ্যান্টাসির খুব সহজে পার্থক্য ধরা যায় বা আলাদা করা যায়। শুধু কমেডি দেখতে চাইলে রেকমেন্ড করবো না - অনেকেই নিতান্ত ফালতু বলবে। তবে আমার কাছে দেড় ঘন্টা সস্তা হেসে কাটানোর চেয়ে মুভির ডেভেলপমেন্টের কারিশমা এবং বক্তব্য বেশি গুরুত্বপুর্ন - সে হিসেবে বলতে হলে আমি এই মুভির রেটিং বেশ ভালো দেবো।
উল্লেখ্য - দর্শক বয়স নিদেন পক্ষে ১৭ বলে প্রতীয়মান হয়।
ছবি © কপিরাইট - ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স।
লেখার সময়: ফেব্রুয়ারী, ২০১০
পরিমার্জিত সংস্করণ: জুলাই, ২০১০
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


