সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের নড়েচড়ে সব জায়গায় নির্দেশনা আর বিজ্ঞাপনের জেরে অনেকেই ভার্চুয়াল কারেন্সি বিটকয়েন, লাইটকয়েন ইত্যাদি নামের সাথে পরিচয় হয়েছেন। ভার্চুয়াল কারেন্সির মধ্যে সবচেয়ে পুরানো এবং পরিচিত হলে বিটকয়েন। বিটকয়েন নতুন কোন উন্মাদনা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরেই এর লেনদেন চলছে। বাংলাদেশেও অনেকেই বেশ আগে থেকেই এটা কেনাবেচা করছেন।

বিটকয়েনের শুরু ২০০৯ থেকে। এর উদ্ভাবক নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও সাতোশি নাকামতোকেই মোটামুটিভাবে পরিচিত। বিটকয়েন বেশ জটিল পন্থায় কাজ করে। ক্রিপ্টো-কারেন্সি বা গোপন মুদ্রা হিসেবে পরিচিত বিটকয়েনের লেনদেন গতিবিধি বোঝা বেশ মুশকিল।
বিটকয়েন লেনদেন করতে প্রকাশ্য নাম লাগেনা, ছদ্মনাম লাগে। তবে একেবারে যে ট্র্যাক করা যায় না তাও না। কিন্তু করা বেশ কঠিন। বিটকয়েন এর লেনদেন প্রসেস হয় ব্লক-চেইনের মাধ্যমে। দুই ব্যাক্তির মধ্যে লেনদেন অনেকগুলো মেশিনের মাধ্যমে চেক করা হয়, যাদেরকে বলা হয় মাইনার। এজন্য বিটকয়েন হ্যাক করা বা মিথ্যা লেনদেন করা খুবই কঠিন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে শঙ্কা থেকে বিজ্ঞাপন দিয়েছে তা অনেকটাই সঠিক। মূলত, বিটকয়েন কোন সর্বজন-গৃহীত মুদ্রা নয়। এমনও নয় যে, এটার মূল্যমান সর্বজন-গৃহীত। চাইলেই আপনি এটা দিয়ে সব জায়গায় পণ্য কিনতে পারবেন না বা বেচতে পারবেন না। এর ব্যবহার খুবই সীমিত এবং সবদেশে প্রচলিত নয়। এর বেশি ব্যবহার রয়েছে ডার্ক ওয়েবে। মূলত বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য ক্রয়ে এর ব্যবহার বেশি। তাছাড়া, সাথে সাথে চোখে পড়ে না বলেই অর্থ পাচারেও বেশ কিছু ব্যবহার চোখে পড়েছে। সম্প্রতি আইএসের জন্য অর্থ সরবরাহে বিটকয়েন ব্যবহারের কয়েকটি ঘটনাও বিদেশি গণমাধ্যমেও এসেছে। তাছাড়া, হ্যাকাররা ভার্চুয়াল র্যান্সম এর জন্য বিটকয়েন চাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এখন প্রশ্ন বিটকয়েন নিরাপদ কিনা অথবা আপনি কিনবেন কিনা? নিরাপত্তার প্রশ্নে জানা দরকার, মুদ্রার নিরাপত্তার দায়ভার বিশ্বের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর। যখন কোন মুদ্রার দাম খুব বেড়ে যায় বা কমে যায় তখন এরা বিভিন্নভাবে এর দাম সহনশীল অবস্থায় আনে। তাছাড়া, নিজের দেশের মুদ্রার অবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য তো কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো আছেই। বিটকয়েন একটি উন্মুক্ত মুদ্রা ব্যবস্থা, যা এসব প্রচলিত সংস্থার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সুতরাং দাম অকস্মাৎ বাড়লে বা কমলে কিছু করার থাকে না। যেমনটি ঘটেছে গত কয়েক বছরে। সম্প্রতি বিটকয়েনের দাম প্রায় ২০,০০০ ইউএস ডলারে চলে গিয়েছিল। আবার সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে প্রায় ১৪,০০০ ইউএস ডলারে নেমে এসেছে। (২/১/১৭ পর্যন্ত)
ভার্চুয়াল কারেন্সির দাম দেখতে
বিটকয়েনে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে কিনা সেটার ব্যাপার সম্পূর্ণই বিনিয়োগকারীর। তবে বিটকয়েনে ঝুঁকি অনেক বেশি। এর দাম কোন ঠিক ঠাক নাই। পাশাপাশি বাংলাদেশে কোন স্বীকৃত কোন এক্সচেঞ্জ অথবা কোন ওয়ালেট সার্ভিস নাই। এককথায় বিটকয়েনকে একরকম জুয়া বলা যায় যার কিছুই দেখতে পারবেন না। ওয়েবে অনেকেই চটকদার বিজ্ঞাপন আর ইউটিউব ভিডিও দেখেই এর পেছনে লাগা এবং এতে বিনিয়োগ করা বেশ বিপদজনক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


