somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকান বাহিনীর আত্মত্যাগে ওবামা বিস্মিত!

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এড়িয়ে গেছেন ইরাক বিজয় প্রসঙ্গ : নিহতদের জন্য ব্লেয়ারের দুঃখ প্রকাশ


পর্যবেক্ষক
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মঙ্গলবার ইরাকে সাত বছর পাঁচ মাস ১১ দিনের সেনা অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আমেরিকান অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বিষয়ে তার দেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছেন। ইরাক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে বেতারে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ওবামা বলেন, আমেরিকান সেনাবাহিনী এবং তাদের পরিবারবর্গের আত্মত্যাগ আর কর্তব্যবোধ দেখে তিনি বিস্মিত। তবে ইরাক যুদ্ধে তাদের বিজয় হয়েছে কিনা এ বিষয়টি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন।
যে ওভাল অফিস থেকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ ইরাক আগ্রাসনের (আমেরিকার ভাষায় যুদ্ধ) ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে অফিসের ওই ডেস্ক থেকেই ওবামা বলেন, ‘পট পরিবর্তনের এখনই সঠিক সময়।’ ওবামা বলেন, ইরাকি নেতাদের এখন ‘জরুরি ভিত্তিতে’ এগিয়ে যাওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান শেষ হচ্ছে। কিন্তু ইরাকের ভবিষৎ সম্পর্কে আমাদের অঙ্গীকার এখনো বজায় আছে।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রচার অভিযানে ইরাকে যুদ্ধ শেষ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়েছে। সেইসঙ্গে তিনি ইরাকি জনগণকে নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরাক যুদ্ধের দায়িত্ব ওবামা পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট বুশের কাছ থেকে পেয়েছেন। এ তালিকায় আফগান যুদ্ধও রয়েছে। অবশ্য আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল কায়েদা দমন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৮ মিনিটের বেতার ভাষণে ওবামার মুখে সেনাবাহিনীর প্রশংসার শেষ ছিল না। বলা হয়, ইরাক যুদ্ধের সমর্থক কোনোদিনই ছিলেন না ওবামা। যুদ্ধটাকে ‘মারাত্মক রকমের ভুল’ বলে চিহ্নিত করেন তিনি। ভাষণের কোথাও একবারের জন্যও ‘বিজয়’ শব্দটা উল্লেখ না করলেও বারবার করে মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ যুদ্ধ এবং যে বিপুল সেনা ক্ষয়, সেনাদের আত্মত্যাগ, তাদের পরিবারের যন্ত্রণা দেখে তিনি বিস্ময় বোধ করেছেন। তবে তাদের আগ্রাসনের সাড়ে সাত বছরে যে ইরাকের বহু নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো কথা বলেননি। প্রসঙ্গত, সাড়ে সাত বছরের অভিযানে দেশটিতে মারা গেছে এক লাখ ছয় হাজার ৩৪৮ বেসামরিক ইরাকি (মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য থেকে ওয়েবসাইট আইক্যাজুয়ালিটিসের হিসাব)। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর কয়েকগুণ হবে। কারণ হাজার হাজার ইরাকির এখনো হদিস নেই। অন্যদিকে দখলদার আমেরিকান সেনা মারা গেছে চার হাজার ৪০০ জনের মতো। এদিকে ওবামা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হলেও এখনো ইরাকে ৫০ হাজারের মতো সেনা অবস্থান থাকবে। আমেরিকার ভাষায় তাদের কাজ হবে- ইরাকি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সমর্থন দেয়া। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ইরাকে এক লাখ ৭০ হাজার আমেরিকান সেনা অবস্থান করছিল।

ইরাক যুদ্ধে নিহতদের জন্য ‘দুঃখিত’ ব্লেয়ার

ইরাক যুদ্ধে নিহতদের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। একইসঙ্গে তিনি গর্ডন ব্রাউনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনাকে ‘বিপর্যয়’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ‘এ জার্নি’ নামে তার একটি স্মৃতিকথামূলক বইয়ে ব্লেয়ার এসব কথা বলেছেন। ওই স্মতিকথায় মূলত তার ক্ষমতায় থাকার সময়কাল ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সালÑ এই এক দশক উঠে এসেছে। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের পেছনের দরজা দিয়ে তার চলে যাওয়ার কারণও উন্মোচিত হয়েছে এ বইয়ে।
টনি ব্লেয়ার যেসব তার স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মধ্যে আছে- ইরাকে হামলার বিভিন্ন ঘটনা, নর্দান আয়ারল্যান্ডের শান্তিপ্রক্রিয়া, দেশের বিভিন্ন সংস্কার এবং অর্থমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গে তার অস্থিতিশীল সম্পর্ক ইত্যাদি। ব্লেয়ার বলেছেন, বৃটিশ সেনা ও তাদের মিত্রবাহিনী, ইরাকের বেসামরিক নাগরিক, বিভিন্ন কূটনীতিকসহ সব মৃত্যুর জন্য তিনি ‘অত্যন্ত দুঃখিত’। তবে তিনি এও বলেছেন, ইরাকে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত নন। তিনি মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনায় কেঁদেছেন। তারপরও যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। কারণ একনায়ক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতায় রাখা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হতো। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:২৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×