somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবিসিতে মাদকাসক্তির ভয়াল থাবা

০৮ ই জুন, ২০১১ রাত ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অল্পদর্শী

বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম বিবিসির বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধের সঙ্গে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাগ ও অ্যালকোহলের বেপরোয়া অপব্যবহার, চৌর্যবৃত্তি, পর্নোচিত্র প্রদর্শন এবং অসদাচরণের মতো অপরাধ। সেইসঙ্গে আছে যৌন হয়রানির অভিযোগও। বিশেষ করে মাদক জেঁকে বসেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, বছর দুয়েক আগে বিবিসির উপস্থাপক নাতাশা কলিন্স অতিরিক্ত কোকেন গ্রহণ এবং মদপানের ফলে মারা যান। এর তিন মাস পরই ভগ্নহৃদয় বাগদত্ত মার্ক স্পেইটের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সূত্র বিবিসি, সানডে নিউজ পেপার
বিবিসি তাই এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সংস্থাটির শৃঙ্খলা রক্ষায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিবিসির কয়েকশ কর্মীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। গত পাঁচ বছরেই এ সংখ্যা চারশর ওপরে। ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ৪১০টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের সাজা দেয়া হয়। এর মধ্যে মাদক গ্রহণের জন্য ১১ জনকে তিরস্কার করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, এরা কোকেন, অ্যালকোহলের মতো বিপজ্জনক মাদকে আসক্ত। ১৪ জনকে দায়ী করা হয়েছে অসদাচরণের জন্য। মজার ব্যাপার হলো, ১৯ জন জড়িত ছিলেন চৌর্যবৃত্তিতে। সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিবিসির যন্ত্রপাতির অপব্যবহারের। সংস্থার কম্পিউটারে পর্নো ছবি দেখার অভিযোগ আনা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে। আর খুব বেশি অভিযোগ অসদাচরণের। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ১১৯টি। এসব অপরাধে জড়িতদের বিভিন্ন ধরনের সাজাও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিবিসিতে ‘মাদক সংস্কৃতি’র বিষয়টি সবেেচয়ে বড় হয়ে দেখা দেয় নাতাশার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর। নাতাশা কলিন্স (৩১) ছিলেন বিবিসির শিশু বিষয়ক অনুষ্ঠানের সাবেক উপস্থাপক। তার বাগদত্ত ও সহকর্মী টিভি উপস্থাপক মার্ক স্পেইটের সঙ্গে এক পার্টিতে অতিরিক্ত কোকেন গ্রহণের ফলে তিনি মারা যান। সেটি ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসের ঘটনা।
অবাধ তথ্য অধিকার ঘোষণার পরই এসব অপরাধের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে বলে এখন বলা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বৃটেনে এখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে বিবিসির মতো একটি বিশ্বনন্দিত ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কীভাবে এসব অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে? তারা বলছেন, ড্রাগ চর্চার জন্য প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সব কর্মীর জন্য ড্রাগ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা দরকার।
বিবিসির কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। সারা পৃথিবীতেই বিবিসির অগণিত কর্মীর মধ্যে এ সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবু করপোরেশনের ভাবমূর্তি ধরে রাখার স্বার্থে এটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থাও নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিবিসির একজন মুখপাত্র বলেন, সংস্থাটি তার মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেবে না। কর্মীদের কাছ থেকে কর্তৃপক্ষ শুধু নয়, সাধারণ মানুষও ভালো আচরণ আশা করে। তাই কর্তৃপক্ষ অসদাচরণের সব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পেশাগত মান বজায় রাখাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেখা গেছে, বিবিসির কর্মীদের মধ্যে সম্প্রতি মাদক ও সহকর্মীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে নারীরা বিভিন্ন সময় পুরুষ সহকর্মীদের দ্বারা নাজেহাল হচ্ছেন। যদিও সরাসরি কোনো যৌন হয়রানির অভিযোগ এখনো নথিভুক্ত হয়নি। কিন্তু এ ধরনের ঘটনার কথা মুখে মুখেই ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নারী কর্মীরাও ড্রাগসহ পর্নোচিত্র দেখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। যাতে করে নষ্ট হচ্ছে কর্ম সময় ও মেধা এবং পরিবেশ। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে না কেউ। এ পরিস্থিতিতে বিবিসি এখন ঘর সামলাতে ব্যস্ত।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×