somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইএসআইর কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ ভুয়া!

২১ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পর্যবেক্ষক
পাকিস্তানের আইএসআই’এর কাছ থেকে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার টাকা নেয়ার যে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেছেন তা একটি ভুয়া সংবাদের ভিত্তিতে করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে টাইমস অব আসাম। পত্রিকাট...ি দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকার খালিজ টাইমস পরিবেশিত ভুয়া সংবাদের মাধ্যমে এধরনে ভুল করছে। বুধবার ভারতের আসাম থেকে প্রকাশিত ‘টাইমস অব আসাম’-এর ‘বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট মিসলেড বাই খালিজ টাইমস’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। (Bangladesh Government Misled By Khaleej Times)
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালিজ টাইমসের নয়া দিল্লি প্রতিনিধি দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেনস’র (আইএসআই) সাবেক প্রধান আসাদ দুররানীর বক্তব্যের একটি কল্পিত ব্যাখ্যা দাঁড় করান। আসাদ দুররানী সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে এক সাক্ষ্যে বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের তহবিলে টাকা দিয়েছেন। তবে তিনি তার সাক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বা দলটির কোনো নেতার নাম উল্লেখ করেননি।
টাইমস অব আসাম বলছে, ‘অথচ খালিজ টাইমস’র এই ভুয়া রিপোর্টটি প্রকাশ হবার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশে অভিযোগ তোলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আইএসআই থেকে টাকা নিয়েছেন।
টাইমস অব আসাম অনুসন্ধানে দেখতে পায়, ভারতের সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীকে গত ২ মার্চ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) শীর্ষ কর্মকর্তারা দেখা করার নির্দেশ দেন। তাকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এসকর্ট দিয়ে নয়া দিল্লিতে র’-এর সদর দফতরে নিয়ে যায়। এরপর দুবাইভিত্তিক খালিজ টাইমসের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালিক এ ধরনের সংবাদ তৈরি করার জন্য দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীকে বিশেষ এসাইনমেন্ট দেন।
পত্রিকা বলছে, দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর তৈরি করা জাল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজানো রিপোর্টটি খালিজ টাইমসে যথারীতি প্রকাশিত হয়। খালিজ টাইমসে রিপোর্টটি প্রকাশিত হবার পর ভারত সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশের দুটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদককে ফোনের মাধ্যমে খালিজ টাইমসের রিপোর্ট চোখে পড়ার মতো জায়গায় যত্নের সঙ্গে ছাপানোর জন্য অনুরোধ জানান।
টাইমস অব আসাম পত্রিকায় এও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক খালিজ টাইমসের রিপোর্টটি ছাপানোর পাশাপাশি এটাও দাবি করা হয়, রিপোর্টটি পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ‘দি নিউজ’ ও ‘দি বিজনেস রেকর্ডার’-এ ছাপা হয়েছে। তথ্যের উদ্ধৃতির বেলায় দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী যেমন জালিয়াতি করেছেন, বাংলাদেশের সম্পাদকটিও একই কাজ করেন।
পত্রিকাটি আরো লিখেছে,আইএসআই’র সাবেক প্রধান দুররানী বলেছেন, পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের তিনি টাকা দিয়েছেন। অথচ দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী খালিজ টাইমসে লিখেছেন, আইএসআই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপিকে টাকা দিয়েছে। দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর এই জাল রিপোর্টটি গত ১৫ মার্চ ভারতের ডেইলি মেইল পত্রিকায়ও ছাপা হয়।
টাইমস অব আসাম আরো লিখেছে, চলতি বছরের ১৬ মার্চ একই প্রতিবেদক (দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী) ইন্ডিয়া টুডে সাময়িকীতে লিখেছেন, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক একটি দৈনিক পত্রিকা এটা লিখেছে যে আইএসআই বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে ৫০ কোটি রুপি দিয়েছে এবং এই নির্বাচনে বিএনপি জিতে সরকার গঠন করে।
টাইমস অব আসাম বলছে, ইন্ডিয়া টু-ডেসহ ভারতের যেসব পত্রিকায় প্রতিবেদনটি ছাপিয়েছে, তারা কেউ এটা লেখেনি যে খালিজ টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে এবং তা লিখেছেন দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী এবং দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীও ইন্ডিয়া টু-ডে সাময়িকীতে এটা উল্লেখ করেননি যে, খালিজ টাইমসের রিপোর্টটি তিনি নিজেই লিখেছিলেন।
টাইমস অব আসাম লিখেছে, বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস তথ্য যাচাই না করে ইন্ডিয়া টু-ডেতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হুবহু ছাপিয়ে দেয়।
টাইমস অব আসাম আরো লিখেছে, সফল গল্প ফাঁদার পর নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ধন্যবাদ দিয়েছে। এটাও জানা গেছে, বাংলাদেশের একটি বিশেষ পরিবারের একজন সদস্য খালিজ টাইমসের রিপার্টটির জন্য দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাতে ভারত সফর করেছেন।
টাইমস অব আসাম এটাও লিখেছে, আইএসআই’র সাবেক প্রধান দুররানী পাকিস্তানের সুপ্রিমকোর্টে তার সাক্ষ্য কি বলেছেন, তার কপি পেতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া চিঠি ১৯ মার্চ পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুররানীর সাক্ষ্যে কী ছিল, তা জানাজানি হবার আগেই বাংলাদেশ সরকার বিষয়টির সমাপ্তি টানতে চায়।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×