somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালো বাজার ও কালো টাকা

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালো টাকার উত্স হলো কালো বাজার | এই লেখায় আমি দেখাবো কালো বাজার কাকে বলে আর কালো টাকা সেখান থেকে কিভাবে তৈরী হয় |

যেকোন বেআইনি কারবারকে কালো বাজার বলে | যেসব পণ্য ও পরিসেবা আইনবিরুদ্ধ তার ব্যবসা করাটাই হলো কালো বাজার | এইসব পণ্যের মধ্যে আছে : দেহব্যবসা, মাদক চোরাচালান , অস্ত্র ব্যবসা, যৌন শোষন, কাঠের চোরাচালান, চোরাশিকার আর পশুর ব্যবসা, মদের ব্যবসা, দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যবসা, জাল ওষুধের ব্যবসা, জাল নোটের ব্যবসা, হাওয়ালা ইত্যাদি | ভারতে এইসব কারবার প্রায় মহামারীর মত ছেয়ে গেছে |

কে নেই এইসব কারবারে ? হরিদাস পাল থেকে বড় বড় নেতা মন্ত্রী ইত্যাদি সব্বাই জড়িত | এইসব কারবার থেকে যে টাকা আসে তা আইনের চোখে কখনই বৈধ বলে গন্য হতে পারে না | সেইটাই হলো অবৈধ টাকা বা কালো টাকা | এগুলিকে সাদা করা অর্থাৎ বৈধ আয়ের অংশ হিসাবে দেখানোই হলো "কালো টাকা সাদা করা" | এখন এই মূলটা উপরে না ফেললে কোনমতেই কালো টাকা বন্ধ করা যাবে না | বলা বাহুল্য ঘুষ হলো কালো টাকা | কোন নেতা সেটা না নেয় ?

এছাড়াও কালো বাজারের আরেকটা সংজ্ঞা আছে | সেটা হলো যদি আইন না মেনে ব্যবসা করা হয় তাহলে সেটাকেও কালোবাজার বলা হবে | অর্থাৎ আপনি দোকান খুললেন কিন্তু ট্রেড লাইসেন্স নেই, সপ এন্ড এস্টাব্লিশমেন্ট আইনে নথিভুক্তি নেই | তাহলে আপনার দোকান আইনের চোখে অবৈধ হলো | আর সেই দোকান থেকে আপনার যা আয় হয় সেটাও অবৈধ | অর্থাৎ কালো টাকা | আমার নিজের একজন মক্কেল আছে | তার বৈধ ব্যবসা হলো সোনার কারবার অর্থাৎ স্যাকরা | আর আইনি কাগজপত্র নেই এমন দুটো ব্যবসা তার আছে | একটা হলো বন্ধকী কারবার আর আরেকটা হলো ঘটকালি কারবার | এই দুই কারবার থেকে যে আয় (প্রচুর আয়) তা কালো |

এই কালো কারবার বন্ধ না হলে কোনভাবেই কালো টাকা বন্ধ করা যাবে না | তা সে যতই ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট বাতিল হোক না কেন | মোদী সরকারের ক্ষমতা নেই এই কালো কারবার বন্ধ করা , কারণ তার নিজের মন্ত্রীরা কি দলের সদস্যরাই হয়ত এর সঙ্গে জড়িত |এখন এই দেশের প্রায় ৯৯% মানুষ কালো কারবারে জড়িত | কারবারের সাইজ ছোট বড় যা খুশি হতে পারে | এই কালো কারবার প্রমান করা শক্ত কারণ কোনো কাগজপত্র নেই | আয় ধরা আরো শক্ত | বর্তমানে তা প্রমাণিত | টাকা ছিঁড়ে অথবা হাওয়ালার মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে | সুতরাং কালো ব্যবসা রুখে দেওয়া যাবে না | তাহলে কি করণীয় ?

আসুন একটা সিমিলার ঘটনা দেখা যাক | ধরুন কোনো মানুষের দেহের ৯৯% পুড়ে গেছে | ডাক্তার কি তাকে আর চিকিত্সা করবে ? তাকে কি ওষুধ দিয়ে বাঁচানো যাবে ? নিশ্চয় নয় | তখন তার মৃত্যুকে মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই | সেই রকম আমাদের দেশের যেখানে ৯৯% মানুষ কালোবাজারী সেখানে কালো কারবার তথা কালোবাজারকে আইনের ওষুধ দিয়ে আর চিকিত্সা করার কোনো অর্থ হয় না | tঅখন একটাই কাজ করা উচিত | তা হলো কালো কারবারকে বৈধ ঘোষণা করে দেয়া উচিত | এতে করে ওই কারবারগুলি থেকে আসা টাকা সাদা তথা বৈধ হয়ে যাবে | আর এভাবেই একমাত্র বাস্তবসম্মত ভাবে কালো টাকার চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব |

কথাটা খুব সিনিক-এর মত শোনাচ্ছে , তাই না ? কিন্তু এটাই এখন যুক্তিসম্মত কাজ | পৃথিবীর বহু দেশ এই পথে হাঁটছে | সুইজারল্যান্ড-এর জুরিখে ঘুষ নেয়া বেআইনি নয় | ইউরোপের কিছু দেশ যেমন ডেনমার্ক ইত্যাদিতে দেহব্যবসা বৈধ | আমেরিকার কয়েকটা রাজ্যেও বৈধ | থাইল্যান্ড তো সেক্স টুরিসম করে কোটি কোটি টাকা বিদেশী মুদ্রা কমিয়ে নিল | অস্ত্র ব্যবসা আমেরিকায় বৈধ | এই সেদিন মারিজুয়ানার উপর থেকে আমেরিকায় আইনি নিষেধাজ্ঞা হঠে গেল | এরকম বহু উদাহরণ দেখতে পাওয়া যাবে |

এছাড়া ব্যবসার উপর থেকে আইনের বন্ধন একটু শিথিল করলে বোধহয় ভালো হয় | এই পথে জাপান অনেক বেশি অগ্রসর | পিছিয়ে পড়ে শুধুই ভারত | দুঃখের কথা ভারত সরকার ও ভারতের জনতা এই সত্যটা কিছুতেই বুঝে না যে যখন সারা শরীর পুড়ে যায় তখন চিকিত্সা করে কোনো লাভ হয় না |

আপডেট ১৭/১১/২০১৬

এইভাবে কালো ব্যবসা বৈধ করার ফলে দেশের সরকারের প্রচুর রাজস্ব লাভ হবে | এক মদের ব্যবসা বৈধ করে তা থেকে অনেক টাকার রাজস্ব পাওয়া গেছে | বাকিগুলি বৈধ করলে না জানি আরো কত কি পাওয়া যাবে | এছাড়া কর্মসংস্থান হবে প্রচুর | মুম্বাই-এর ডান্স বার গুলিতে প্রচুর নারী পুরুষ কাজ করে | সরকারের লাভই লাভ |

এইভাবে কালো ব্যবসা বৈধ করলে আমরা মানুষ ভালো চিনতে পারব | কাউকে আর লুকোছাপা করতে হবে না | প্রকাশ্যে সবার ব্যক্তিত্ব আসবে | আমাদের ব্যবহার করা সহজ হবে |
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×