সরাইলে ১১ বছর বয়সের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের পর গ্রাম্য সালিশকারকরা ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করেছেন ৬০ হাজার টাকা তবে বকেয়া ৫৯ হাজার ।
এদিকে থানায় মামলা হওয়ার পরও সর্দারদের অবদানে এখন বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে ধর্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাকসার গ্রামে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত রোববার ছিল লায়লাতুল বরাতের রাত। সকলেই ছিল নামাজ নিয়ে ব্যস্ত। কালিকচ্ছের চাকসার গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মহিলা মাদ্রাসার পড়ুয়া ছাত্রী ১১ বছর বয়সের শিশু কন্যা নিজ বাম গৃহে ঘুমিয়েছিল। রাত ১টায় প্রতিবেশী প্রবাসী প্রভাবশালী নজু মিয়ার ছেলে সোহেল (২২) ওই ঘরে প্রবেশ করে। ঘুমন্ত ওই শিশুটিকে একাপেয়ে ধর্ষণ করতে থাকে।
শিশুটির আর্তচিৎকারে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসে। হাতেনাতে ধরে ফেলে ধর্ষক সোহেলকে। প্রভাবশালী হওয়ায় কৌশলে সোহেলকে ছাড়িয়ে নেয় সর্দাররা । দরিদ্র অসহায় ওই শিশু কন্যার বড় ভাই বশির মিয়া বাদী হয়ে গত ১৮ জুলাই সরাইল থানায় সোহেলকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। দৌড়ঝাপ শুরু করে গ্রাম্য মাতাব্বররা । সর্দারদের প্রচন্ড চাপের মুখে সালিশে বসতে বাধ্য হয় শিশুটির পরিবার।
গত সোমবার রাতে ধর্ষিতার বাড়িতে সালিশ সভা বসে। আলি হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশ সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. জজ মিয়া, হাজারী মিয়া, জিতু, আমজাদ, নূর মিয়া হাদিম ও ইউপি সদস্যা জাহিদা বেগম। তারা সকলে ধর্ষিতা শিশুটির ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করেন ৬০ হাজার টাকা ও জুতার মালা।
রায় ঘোষণা করেন গ্রাম্য মাতাব্বর কাশেম মিয়া। রায় ঘোষণার পরই ১ হাজার টাকা প্রদান করেন ধর্ষক সোহেলের পরিবার। বাকি ৫৯ হাজার টাকা আদৌ বকেয়া। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, জজ মিয়া থানাপুলিশের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এলাকার এমন অনেক ঘটনাই ধামাচাপা দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই গোলাম ফারুক ধর্ষণের শিকার শিশুটির বড় ভাই দিনমজুর বশির কর্তৃক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি শতভাগ সত্য। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এম ডি ইয়াছিন মিয়া
[email protected]...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


