somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্টেফেন কিং -কিং অব থ্রিল এন্ড চিল

০৯ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


স্টেফেন কিং এর জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭,পোর্টল্যান্ডের মেইনি তে।তিনি ইউনিভার্সিটি অব মেইনির ইংলিশে স্নাতক।লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠার সময়ে নগন্য মামুলি কাজ করেছেন।তার প্রথম হরর উপন্যাস "ক্যারি" বিপুল সফলতা লাভ করে।লেখালেখির শুরুর দিকে "রিচার্ড ব্যাচম্যান " ছদ্মনামে লিখেছেন।কিং এর বই বিশ্বব্যাপি ৩৫০ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয়েছে এবং অসংখ্য মুভি বানানো হয়েছে তার কাহিনী অবলম্বনে।
শৈশব ও কৈশর:
স্টেফেন কিং কে বিবেচনা করা হয় অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল হরর গল্প লেখক হিসাবে।তার বাবা মা ডোনাল্ড এবং নেলি রুথ পিলসবারি কিং আলাদা হয়ে যান,যখন তার বয়স খুবই অল্প।তাকে এবং তার ভাই ডেভিড কে বেশ কিছু বছর ইন্ডিয়ানা ও কানেক্টিকাটে পালাক্রমে থাকতে হয়।পরে কিং তার মা এবং ভাই এর সাথে মেইনিতে ফিরে আসে।
তিনি ডারহাম গ্রামার স্কুলে ভর্তি হন,পরে লিসবন ফলস হাই স্কুলে ১৯৬৬ সালে গ্রাজুয়েশন করতে থাকেন।ইউনিভার্সিটি অব মেইনি, অরোনো 'র দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তিনি সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন স্কুল ম্যাগাজিন, দ্যা মেইনি ক্যাম্পাসে।তিনি ছাত্র রাজনিতি তে সক্রিয় ছিলেন এবং স্টুডেন্ট সিনেটের মেম্বার হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।কনজারভেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তে প্রভাবিত হয়ে তার মত ছিল যে ভিয়েতনাম যুদ্ধ অসংবিধানিক এবং তিনি মেইনি ক্যাম্পাসের যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেইনি থেকে ইংরেজিতে স্নাতক করেন এবং হাইস্কুল লেভেলে পাঠদানের জন্য অনুমোদন পান। ইংরেজীতে স্নাতক করার পর তিনি শিক্ষকতার চেষ্টা করেন কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না,লন্ড্রির দোকানে কাজ নেন এবং গল্প লেখা চালিয়ে যান ১৯৭১ এর শেষ দিকে,যখন তিনি হ্যাম্পডেন একাডেমিতে ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষকতার চাকুরী পান। এক পরীক্ষায় দেখা যায় তার দৃষ্টি শক্তি সীমিত,ব্লাডপ্রেসার উচ্চ,কানের পর্দা ফুটো এবং তার ফ্ল্যাট ফুট সমস্যা আছে।
কিং অব থ্রিল এন্ড চিল:
কিং তার প্রথম উপন্যাস "ক্যারি" বিক্রি করেন ১৯৭৩ সালে,-এক যন্ত্রনাক্লিষ্ঠ তরুনের প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প।পরের বছর প্রকাশের পর,এটি বিশাল হিট হয় যা তাকে পূর্ণকালিন লেখক হবার সুযোগ করে দেয়।এটি অবলম্বনে সিনেমাও বানানো হয়।আরো জনপ্রিয় উপন্যাস লিখতে থাকেন-সালেমস লট,দ্যা সাইনিং,ফায়ার স্টার্টার,কুজো এবং ইট।
নর্দমার দৈত্য ও ক্রুদ্ধ কুকুরের গল্প যেমনটা দেখা যায় ইট ও কুজো তে, লেখার সময় তিনি কিছু উপন্যাস লিখেন রিচার্ড বাচম্যান নামে। শুরুর দিকের চারটি বই- রেজ,দ্যা লং ওয়াক,রোড ওয়ার্ক এবং দ্যা রানিং ম্যান প্রকাশিত হয়েছিল অন্য নামে কারন কিং ভেবেছিলেন একই বছরে একজন লেখকের চারটি বই পাঠক গ্রহন করবে না।
টেলিভিশন ও সিনেমাতে স্টেফেন কিং:
স্টিফেন কিং এর লেখা অবলম্বনে অনেক সিনেমা এবং টিভি সিরিজ নির্মিত হয়েছে-ফায়ার স্টার্টার ছবি হিসেবে আসে ১৯৮৪ তে,এতে অভিনয় করেছেন ড্রিও ব্যারিমোর।কুজো ছবি হিসেবে আসে ১৯৮৩ তে।ইট নিয়ে মিনিসিরিজ হয় ১৯৯০ তে।জ্যাক নিকলসন অভিনীত "দ্যা সাইনিং" মুক্তি পায় ১৯৮০ তে,যা বর্তমানে একটি ক্ল্যাসিক হরর থ্রিলার।
সাম্প্রতিক কাজ:
কিং চমৎকার সব লেখা লিখে আসছেন।তিনি টিভির জন্য ডেড জোন সিরিজ এবং স্টিফেন কিংস কিংডম হসপিটাল সিরিজ লিখছেন।২০১১ তে তিনি ১১।২২।৬৩ প্রকাশ করেন।জন এফ কেনেডির হত্যাকান্ড ঠেকানোর জন্য টাইম ট্রাভেলের অবতারনা করেছেন বইটিতে।কিং আরো লিখেছেন জয়ল্যান্ড(২০১৩)-পাল্প ফিকশন টাইপ থ্রিলার যা পাঠক কে নিয়ে যাবে অমিমাংসিত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের অভিযানে।তার দ্বিতিয় উপন্যাস দ্যা সাইনিং এর সিক্যুয়াল "ডক্টর স্লিপ" মুক্তি দিয়ে করে দর্শকদের চমৎকৃত করেন ২০১৩ তে।সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলিং লিস্ট এ বইটি ১ নম্বরে ছিল।
ব্যাক্তি-জীবন:
কিং এবং টাবিথা স্প্রুস ১৯৭১ সালে বিয়ে করেন।তিনি টাবিথা কে খুজে পান ইউনিভার্সিটি অব মেইনির ফলগার লাইব্রেরিতে।সেখানে তারা দুজনেই ছাত্র হিসাবে কাজ করতেন।কিং এর তিন সন্তান-নাওমি র‌্যাচেল,জো হিল ,ওয়েন ফিলিপ এবং চারজন নাতী-নাতনী।
স্টেফানের পূর্বপুরুষগণ স্কটিশ-আইরিশ।তার উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ,ওজন ২০০ পাউন্ড,চোখ নীল ,চুল ঘন ও কালো।
স্টেফান ও টাবিথা, স্থানীয় হাইস্কুলের ছাত্রদের জন্য বৃত্তির ব্যাবস্থা করেছেন এবং বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে আসছেন।
আমেরিকান সাহিত্যে স্বতন্ত্র অবদানের জন্য স্টেফান ২০১৩ সালে নাশনাল বুক ফাউন্ডেশন মেডেল পান।
লেখা-লেখির বাইরে স্টেফেন কিং গান পছন্দ করেন।এমনকি তিনি মাঝে মাঝে "রক বটম রিমাইন্ডার" ব্যান্ডে সাহিত্যিক তারকা বন্ধু ডেভ ব্যারি ও এ্যামি টানের সাথে গান গান এবং গিটার বাজান।দাতব্য প্রতিষ্ঠানে টাকা তোলার জন্য ব্যন্ডটি বছরজুড়ে বেশ কয়েকবার গান গেয়েছে।
"জয়ল্যান্ড" বইটি ডাউনলোড করতে Ekhane
মাত্র ১৩০০কিলোবাইট। (বইটির বাংলা অনুবাদ আসছে "আদি প্রকাশনি "থেকে কয়েকমাসের ভিতরে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×