somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরআন যে সত্যি খোদা প্রদত্ত বানী তার আরো একটা প্রমান।

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরআন যে সত্যি খোদা প্রদত্ত বানী তার আরো একটা প্রমান।

আসলে কোরআন নিয়ে চিন্তা করলে অনেক তথ্য সামনে আসে যার ফলে কোরআন যে সত্যিই খোদা প্রদত্ত বানী তা অস্বীকার করার উপায় নাই। এমনি একটি প্রমান পাবেন যদি সুরা রোমের ভবিষ্যতবানী বা প্রিডিক্সন সংক্রান্ত ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করলে। এটা অবশ্য অনেক মুসলমানের জানার কথা তবু যারা অবগত নন বা ব্যপারটা সেভাবে চিন্তা করেননি তাদের সেবায় আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

তবে সুরা রোমের এই ভবিষ্যতবানী বা প্রিডিক্সন সংক্রান্ত আয়াতগুলো যখন নাজিল হয়েছিল তখনকার বিশ্ব পরিস্থিতি তথা জিওপলিটিকেল অবস্থা বিশেষ করে মুসলমানদের সত্যিকার অবস্থা সর্ম্পকে পরিস্কার ধারনা না থাকলে এ প্রমানটির তাৎপর্য বুঝা সম্ভব নয়।

এই সুরা যখন নাজিল হয় তখন রোমান সাম্রাজ্য এবং পারস্য সাম্রাজ্য নামে পৃথিবীতে দুটা সুপার পাওয়ার ছিল। আর তখনকার সেই উভয় শক্তি পরস্পরের বিরুদ্ধে করছিল সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। তখন হেরাকিালয়াস ছিলেন রোম সম্রাট আর এদিকে পারস্য সম্রাট ছিলেন খসরু। সে সময় আরবের সঙ্গে মিলিত জর্ডান, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন পর্যন্ত ছিল রোমানদের দখলে। পারস্য সম্রাট খসরু রোমানদের কাছ থেকে সে অঞ্চল দখল করতে যুদ্ধ শুরু করে এবং রোমানরা পরাজিত হয় । এ বিজয়ের পর পারস্য সৈন্যরা জর্ডান, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন ও সিনাই উপদ্বীপের সমস্ত এলাকা দখল করে মিশরের সীমানা পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিল। এদিকে মুসলমানদের আবস্থা তখন ছিল অতি দুর্বল। মুসলমানদের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে মুসলমানদের এক বড় সংখ্যা মক্কার মুসরিকদের অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে নিজেদের ঘরবাড়ী ছেড়ে আবেসিনিয়ার খৃষ্টান রাজ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। আর ঠিক সে অবস্থার পরিপেক্ষিতে যখন সুরা রোমের আয়াত নাজিল হল এই বলে,

''রোমানরা নিকটবর্তী ভূখণ্ডে পরাজিত হয়েছে। নিজেদের এই পরাজয়ের কয়েক বছরের মাঝে তারা বিজয়ী হবে। আসল এখতিয়ার আল্লাহরই রয়েছে পূর্বেও এবং পরেও। আর তা হবে সেইদিন, যেদিন আল্লাহর দেয়া বিজয়ে মুসলমানেরা আনন্দিত হবে"। (সুরা ৩০ আয়াত ২-৫)

উপরোক্ত আয়াতে দুটি ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছিল যার একটি ছিল রোমানদের ব্যপারে এবং অরেকটি ছিল মুসলমানদের ব্যপারে। তখনকার অবস্থার পরিপেক্ষিতে এর একটিরও সম্ভাবনার কোন লক্ষন ছিলনা বিন্দু মাত্র। এমন কোন এনালিষ্ট ছিলনা যে ভাবতে পেরেছিল যে রোমানরা আবার এত শীঘ্র বিজয়ী হতে পারবে পারস্যদের বিরুদ্ধে। ইংরেজ্ ঐতিহাসিক গিবন্ এর কথানুসারে কুরআন মজীদের ভবিষ্যদ্বাণীর পরও সাত আট বছর আবস্থ্ এমন ছিল যে, রোমান সাম্রাজ্য কোনদিন পারসিকদের উপর বিজয়ী হতে পারবে এমন ধারনা পর্যন্ত কেই করতে পারছিলনা। বিজয়ত দূরের কথা এ রাজ্যটি ঠিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল অনেকের।(Gibon, Decline and Fall of the Roman Empire. Vol 11, P 788, )

আর মুসলমানদের বিজয়ের ব্যপারটাত ছিল কাফিরদের কাছে আরো হাস্যস্কর ও খুবই ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয়।

বিজয়ের সময়ের ব্যপারে আল্লাহ কোরআনে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা হল '' বি ইজনী ছিনিন" যা আরবীতে তিন থেকে দশ বছরের সময়কে বুজায়। সেজন্য কাফেররা এর সত্যতা প্রকাশ হওয়ার উপর শর্ত করে মুসলমানদের সঙ্গে বাজী ধরে। আর ঠিক নয় বছরের মাথায় রোমানরা নৌবাহিনী দিয়ে আক্রমন করে পারস্যদেরকে পরাজিত করে । আর এদিকে ঠিক একই সময়ে মুসলমানেরা বদরের যুদ্ধে কাফিরদের তিনহাজার শক্তিশালী সৈন্যদের বিরুদ্ধে মাত্র একহাজার সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করে কাফিরদেরকে পরাজিত করে বিজয় আনন্দ লাভ করে !





অতএব কোরআন যে সত্যিই খোদা প্রদত্ত বানী এবং মোহাম্মদ (সঃ) তাঁর প্রকৃত সত্য নবী তার অকাট্য প্রমান সমুহের মধ্যে এটি এক অতীব উজ্জল প্রমান.। :((
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×