somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Road To December........2014.

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সব কিছু মিলে গত বছরটা খারাপ গিয়েছে বলব না। এই বছরে অনেক কিছু শিখেছি, অনেক কিছু বলেছি, অনেকের সাথে দেখা সাক্ষাত হয়েছে, মান অভিমান হয়েছে। নতুন বন্ধু জুটেছে, পুরনো আবর্জনা জীবন থেকে বাদ দিয়েছি, রাজনীতি আগের চেয়েও শতগুনে খারাপ হয়েছে, আশার কথা আমি আমার অবস্থান থেকে দেশ মাতৃকা রক্ষার আন্দোলনে শরীক হতে পেরেছি, অর্থনীতির চাকাও ভালোয় মন্দে সচল ছিল। ভালো ছিলাম।

বছরের শেষ প্রান্তে এসে অহেতুক ঝামেলায় জড়িয়েছি। অকারন মনঃ যাতনায় দগ্ধ হয়েছি। সংসারে ঝড় এসেছিল, এনেছিলাম ঝড় কিন্তু কোন প্রকার অপরাধ বোধে ভুগিনি। নারী সংসর্গ ছিল, নারী নিয়ে বিরক্তি ছিল, পরিবার (জন্মসংশ্লিস্ট) নিয়ে ছিল জমাট বাধা থকথকে পিচ্ছিল রক্তের জেলির মত হতাশা। সন্তান নিয়ে অনুভুতি মিশ্র কিন্তু আমার প্রান ভ্রমরা লুকিয়ে রেখেছি আজমানের বুকের খাচার ছোট্র পিঞ্জরে। আমি তাঁর জন্য অকাতরে এবং মুহূর্তে যে কাউকে যেমন খুন করে ফেলতে পারি তেমনি যে কোন সময় খুন হয়েও যেতে পারি।

জিলা স্কুল নিয়ে আমার কোন স্বপ্ন ছিলনা। কিন্তু শেষ দুমাস, এ নিয়ে বিস্তর স্বপ্ন তৈরি হয় কিন্তু অল্প সময়ের ব্যাবধানেই আয়োজকরা বুঝে যায়, আমার নিয়ত ভাল ছিলনা। সুতরাং, মানে মানে পদ ছেড়ে চলে আসার চেষ্টা করি, তারপরে আরও আরও কত কি। আমার প্রাচীন বাসায় যে তিনটি শিশু ছিল তারমধ্যে একজন আকারে বড় হয়েছে। বাকি আছে আরও দুজন। একজনের নাম বিড়াল অন্যজন বুতি। এরা আরেকটু বেড়ে উঠলেই আমি চলে যাব ; তখন আমার আনুমানিক বয়স হয়ত সাইত্রিশ হবে। হাঁতে থাকবে তিন বছর। এই তিন বছরের মধ্যেই যতটুকু সম্ভব গুছিয়ে অথবা বিছিয়ে কিংবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে এলোমেলো পদক্ষেপে বিদেয় নেব।

এ বছরের ৩১ শে ডিসেম্বর নাকি বৃহস্পতিবার হবে এবং আমার স্ত্রী বলেছে সেদিন তাঁর সাথে আমার থাকা হবে না। এ কথা শুনেই আমি আন্দোলিত হয়েছি। তাঁর সাথে থাকা না থাকা- আনন্দ না বেদনার সবসময় বুঝে উঠতে পারিনা। তবে খুশি হয়েছি তাঁর রিড করার ক্যাপাসিটি বেড়েছে দেখে। সে এখন আগের চেয়ে সহিষ্ণু হয়েছে, সন্তানের যত্ন করেছে সব সময়, দায়িত্ব নিয়েই যখন শক্ত হাঁতে সংসারের হাল ধরতে এসেছে তখনই আমি সংসার বিবাগী হয়েছি। বৈরাগ্য আমাতে ছিল জন্ম থেকেই কিন্তু আমি একেবারেই জানতাম না যে, আমি সংসার বিমুখ একজন মানুষ। আমার ভাল লাগে একা থাকতে, একা কথা বলতে, একা চলতে আর রাস্তা ঘাঁটে, এখানে ওখানে ঘুমাতে। খুব ভাল খাবারের নেশা নেই তবে মাঝে মাঝে পাড় মাতাল হতে পছন্দ করি। এসবের কোন পরিবর্তন চাই না।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রবল সমর্থক আমি। তারপরে একটা শর্ত সাপেক্ষে সেক্যুলার সরকার চাই। কিন্তু চাইনা বগুড়া, দিনাজপুর, দাউদকান্দি ভিত্তিক বিশালাকারের দালাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠুক। চাইনা, গুলশান অফিসের আসে পাশে পাঁতি নেতাদের এক রুম বিশিষ্ট মিনি অফিস গড়ে উঠুক। বিএনপির অনলাইন ভিত্তিক আন্দোলনের সমর্থক আমি নই। বিএনপির নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়া আরও শুদ্ধ হোক।

আমি একটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি । কামনা করি, এদেশের মানুষ আইন মেনে চলুক। এদেশের মন্ত্রীরা উল্টা রাস্তায় চলাচল বন্ধ করুক। এদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের রীতি গড়ে উঠুক, বিচার ব্যাবস্থা সোজা হয়ে দাঁড়াক। আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে, জানুয়ারির প্রথম সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখব ঢাকা পুলিশ কমিশনার রাস্তায় একা একা চলাফেরা করছে, দুই হাঁতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসার দিকে হেটে যাচ্ছে, মানুষ কনফিডেন্টলি বলছে- এ দেশের এত শত শত গুম আর খুনে এ লোকের কোন হাত নেই, সে কিছুই জানত না। সরকারি ইঞ্জিনিয়ারদের বাসায় প্রতিদিন বাবার সাথে সন্তানদের ঝগড়া হচ্ছে। বাবা সন্তানদের পর্যাপ্ত পয়সা দিতে পারছে না, এত পয়সা তাঁর হতে নেই। আমি স্বপ্ন দেখি, মায়েরা তাঁর অবুঝ সন্তানদের বলছেন,- আমি কি টাকার কল বসিয়েছি নাকি আমি নিজেই টাকশাল? কেউ অবৈধ পয়সার গরমে অন্যদের হরনের ফন্দি করে বেড়াচ্ছে না। মানুষ নিঃশ্বাসের অভাবে ছোটাছুটি করছে না। যারা আমাকে দেখতে চায়না তাঁরা আবার এই আমাকেই দেখার জন্যে গোপনে আড়ি পাতছে না।

আমি এত এত স্বপ্ন দেখি এই ঐতিহাসিক দোজখপুর তাঁর অশান্তি আর বিশৃঙ্খলার বদনাম ঘুচিয়ে নতুন বাংলাদেশ হয়েছে। ও হ্যাঁ আমি আরেকটা স্বপ্ন দেখি। মানুষ সহনশীল হয়েছে এবং এদেশে দল নিরপেক্ষ দাবিদার অসভ্য মানুষ গুলোর একটাও আর নেই। তাঁরা কোথায় কিভাবে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

২৫.১২.১৪ ইং
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×