আয়নালের বিবাহ হইতেছে না, বাবা মা ও বিবাহের ব্যপারে কিছু বলিতেছেন না। বিবাহের চিন্তায় আয়নালের চক্ষু গর্তে বসিয়া গিয়াছে। সারাক্ষন মন খারাপ করিয়া থাকে। তারই এক বন্ধু ব্যাপ্যারটা ধরিতে পারিল। এবং একটা বুদ্ধি দিলেন। বলিলেন প্রথমে একটা গান শিখিতে হইবে, “বাবা ও বোঝেনা, মা ও বোঝেনা, বিয়েও দেয়না টিয়েও দেয়না”। আয়নাল গান মুখস্ত করিলো। অতঃপর বন্ধু বলিলেন বাটীতে যাইয়া এইগান গুন গুন করিয়া গাইতে হইবে। এতে কাজ না হইলে কাঁথা কাটিয়া দুই ভাগ করিবে। তাতেও কাজ না হইলে খাট কাটিবে।
আয়নাল বাটিতে প্রবেশ করতঃ গুন গুন করিয়া গাহিতে লাগিলো, “বাবা ও বোঝেনা, মা ও বোঝেনা, বিয়েও দেয়না টিয়েও দেয়না”। বাবা -মা উভয়েই গান শুনিলেন, ভাবিলেন অধুনা মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা চলচিত্রের গীত। পাত্তা দিলেন না।
আয়নাল, এইবার জোরে জোরে গাহিতে লাগিলো, এবং কাঁথা মাঝখান বরাবর কাটিতে লাগিলো। বাবা মা ভাবিলেন ছেলে পাগল হইয়া গিয়াছে। তাই তাহাকে ঘরের দাওয়ায় খুটির সঙ্গে বাধিয়া রাখিলেন। কিন্তু আয়নাল স্বাভাবিক আচরন করিতে লাগিলো দেখিয়া ছাড়িয়া দিলেন।
পরের রাত্রি দ্বিপ্রহরে আয়নাল কড়াত দিয়া তাহার খাট কাটিতে লাগিলো, সঙ্গে সেই গান। বাবা আসিয়া জানতে চাহিলেন সমস্যা কি? আয়নাল কহিল এত বড় খাট আমার লাগেনা, তাই অর্ধেক করিতেছি। তাহার বাবা পরদিন একটি সিঙ্গেল খাট কিনিয়া আনিল।
এইদিকে আয়নালের মেজাজ চরমে উঠিলো, সে রাগে দুঃখে কাঁদিতে কাঁদিতে গাইতে লাগিলো, “বাবা ও বোঝেনা, মা ও বোঝেনা, বিয়েও দেয়না টিয়েও দেয়না” তাহার বাবা পরদিন তার জন্য টিয়া পাখি কিনিয়া আনিল।
সব শেষে আয়নাল লাজ লজ্জার মাথা খাইয়া কহিয়া ফেলিল, “বাবা আমি লায়েক হইয়াছি, আমাকে বিবাহ দাও।”
এক মাসের মধ্যে আয়নালের ঘরে লাল টুকটুকে শাড়ী পড়া একখানা বউ আসিল।
উপদেশঃ যাহা বলিবেন সোজাসুজি বলিবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


