somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে – ৪| ইয়ার্সাগুম্বা তথা নেপালি ভায়াগ্রা

০৪ ঠা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Click This Link target='_blank' >প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব | তৃতীয় পর্ব
হিমালয় নিয়ে রহস্যের শেষ নাই। মানুষের কল্পনাপ্রবণ মন, খুব সহজেই খোঁজে অতীন্দ্রিয় কিছু। সে খুঁজে বের করে বিভিন্ন মিরাকল। কারন মিরাকলগুলো তাকে একধরনের নির্ভরতা আর শান্তি দেয়। সে কারনেই আমরা দেখি যে, গ্রিসের অলিম্পাস পর্বতে থাকেন মহাশক্তিধর জিউস। কারন অলিম্পাস সে সময় অজেয় ছিল। ঠিক যেরকম ভাবে এক সময়ে অজেয় ছিল হিমালয়। হিমালয়ের শুভ্র বরফে মোড়া দুর্লঙ্ঘ চূড়া, দুর্গম পাহাড়ের ভাঁজ আর প্রকৃতির বিশালতা মানুষকে দিয়েছে কল্পনার পাগলা ঘোড়া ছোটানোর লাইসেন্স।

হিন্দু ধর্মের আদি পুরুষ, দোর্দন্ডপ্রতাপ শিব বাস করেন এই হিমালয়েরই কোন এক গুহায়। গঞ্জিকা সেবন আর নারী সম্ভোগ ছাড়াও (অফ টপিকঃ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের এত নারী প্রীতি কেন?) তিনি সেখানে বসেই তার বিভিন্ন মিশন চালনা করেন বলে শোনা যায়। ৫০ এর দশকে ইউরোপ-আমেরিকায় যখন অস্থির বীট জেনারেশন আন্দোলন গড়ে উঠছে, তখন তারাও এই হিমালয় ও হিন্দু ধর্মীয় অতীন্দ্রিয় মায়াঝালে মুগ্ধ হচ্ছিল। সাথে বাড়তি আকর্ষণ হল গঞ্জিকা। সাধু বাবাদের সাথে বসে গঞ্জিকা সেবন এবং যোগ ব্যায়াম ও কৃষ্ণমন্ত্র জপ করছিল বিটলস থেকে শুরু করে জিমি হেনড্রিক্স সহ অনেকেই। নেপাল তখন বীট জেনারেশনের আরেকটি পীঠস্থান। সেকারনেই কাঠমান্ডুর আদি ট্যুরিস্ট স্পটের নাম ফ্রিক স্ট্রিট (freak street)। এই কল্পনার মায়াজালে সম্প্রতি শখানেক বছর আগে যুক্ত হয়েছে ইয়েতি নামক এক কাল্পনিক জীব। এই রহস্যময় জীবকে দেখা যায় না। শুধু তার বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা যায়। ইয়েতি নিয়ে আরেকদিন লিখব।

হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে অনেক ধরনের গাছ গাছড়ার দেখা মেলে। সেই সব গাছ গাছড়ার ধ্বনন্তরী প্রভাব নিয়েও আছে অনেক গল্প। কিছু গাছের পাতা আর ফল আবার খুবই পবিত্র। তার মধ্যে একটি হল রুদ্রাক্ষ- একটি গাছের ফল, অনেকটা বরইর বিচির মত দেখতে, কিন্তু আকারে বড়। সাধারনত যোগী-যোগিনীরা এই রুদ্রাক্ষের মালা পরে ঘুরে। কিন্তু একটা অরিজিনাল একমুখী রুদ্রাক্ষের দাম কয়েক লাখ টাকাও হতে পারে। কারন একমুখী রুদ্রাক্ষ শিবের প্রতীক। পাঁচমুখী রুদ্রাক্ষ গনেশের প্রতীক। এই রুদ্রাক্ষকে ঘিরে আছে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা।

আজকে বলছি আরেকটি ধ্বন্বন্তরী ঔষধ- ইয়ার্সাগুম্বার কথা। অনেকে এটাকে বলে নেপালী ভায়াগ্রা। ইয়ার্সাগুম্বা কথাটার শাব্দিক অর্থ হল – কিছুদিন উদ্ভিদ আর কিছুদিন প্রানী। জিনিসটা উপর দিক থেকে দেখলে আসলে তাই।

এই অদ্ভুদ জিনিসটা বছরের ছয়মাস থাকে প্রাণী (একধরনের বিছে পোকার মত প্রাণী), আর বাকী অর্ধেক সময় উদ্ভিদ। বিষয়টা একটু কনফিউজিং? কিন্তু আসলে তা না।

ইয়ার্সাগুম্বার ল্যাটিন নাম কর্ডিসেপস সিনেসিস(cordyceps sinesis)। হিমালয়ের উপরে ভুমি থেকে প্রায় ৩৫০০ মিটার (প্রায় ১১০০০ ফুট) উপরে পাহাড়ি মালভুমিতে এদের দেখা মেলে। প্রথমে এটি একটি বিছে জাতীয় পোকা (caterpillar)। বর্ষার শুরুতে এই পোকার গায়ে একধরনের ফাঙ্গাস জমতে শুরু করে।এই ফাঙ্গাস বা ছত্রাক গুলো পরজীবি ছত্রাক। আস্তে আস্তে এই ফাংগাস গুলো ছড়িয়ে পড়ে পুরো পোকাটার উপরে। ফাংগাস গুলো এই পোকার সমস্ত রস শুষে খেয়ে ফেলে এবং পোকাটা মারা যায়। ফলে এটা দেখতে অনেকটা আধা গজানো শুট বা অঙ্কুরের মত দেখতে হয়, মনে হয় যে একটা বৃক্ষ গজিয়ে উঠছে। তখন গ্রামবাসীরা মিলে এটাকে সংগ্রহ করে নেয়। নেপালের দুর্গম অঞ্চল ডোলপা, রোলপা এসব জায়গায় ইয়ার্সাগুম্বার দেখা মেলে সব চেয়ে বেশি।

এই অদ্ভুত জিনিসটি একটি সর্বরোগনিরাময়ী ঔষধ হিসাবে বাজারে বিক্রি হয়। মুলত কবিরাজেরা বলেন যে, যে কোন ধরনের ব্যাথা মুহুর্তের মধ্যে সারিয়ে তোলে এই বস্তু। তাছাড়া এজমা, কাশি, রক্তশুণ্যতা এরকম আরো হাজারটা রোগের জন্য এর ব্যবহার কিন্তু যার কারনে এর সবচেয়ে বেশি প্রসার তা হল, এটি নাকি ন্যাচারাল ভায়াগ্রা। মর্দামী শক্তি বৃদ্ধির এক মোক্ষম উপায়। আর যায় কোথায়। মানব সমাজ সেক্স জাতীয় কিছু পেলেই হল। সেক্স বিজনেস অনেকটা ধর্ম বা মাদকের মতই কঠিন বিজনেস। ফলে গত দশ বছরে ইয়ার্সাগুম্বার দাম হয়েছে আকাশচুম্বি। সরকারও বসিয়ে দিয়েছে ট্যাক্স- ইয়ার্সাগুম্বা ব্যবসায়ীদের উপরে। গোল্ড রাশের মতই অনেকটা- মৌসুম আসলে দলে দলে মানুষ ইয়ার্সাগুম্বার খোজে যায়। তখন সরকারকে ইজারা দিতে হয়। এখন এক কেজি ইয়ার্সাগুম্বার দাম এক থেকে দেড় লাখ টাকা। দশ বছর আগেও এর দাম ছিল কেজি প্রতি হাজার দশেক। বেশিরভাগই রপ্তানী হয়ে যায় ইউরোপ আমেরিকায়।

তবে কারো লাগলে জায়গায় বইসা আওয়াজ দিয়েন ভাইয়েরা। =p~

৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাভ কার হলো?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:১৮


দীর্ঘদিন একটি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে, সরকারের ভেতর এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা ছিল।
২০২৪ সালের আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়রে জীবন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

হায়রে জীবন!

যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×