somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

░░▓▓ হায়াতের জিন্দেগীতে আমাদের জীবনের সত্যিকার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কি ░░▓▓

২১ শে এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যদি মনে করি দুনিয়ার জিন্দেগী (খাওয়া, বাসস্থান, পোশাক সহ নানা দুনিয়াবী কাজ) আমাদের সত্যিকার লক্ষ্য তাহলে জেনে রাখুন হাইওয়ান বা জীবজন্তু এক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে

যদি আমার লক্ষ্য হয় সুন্দর পোশাক পরা, তাহলে জেনে রাখুন জীবজন্তুর পোশাক আমাদের চাইতে আরো বেশি সুন্দর, টেকসই। কারণ আমার পোশাকতো পুরান হয়, ছিড়ে যায়, রং নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু জীবজন্তুর (বাঘ, হরিণ, সাপ, পাখি, ময়ুর, বিচ্ছু, জেব্রা, জিরাপ ইত্যাদি) পোশাক কখনোই নষ্ট হয় না। হাইওয়ান বা জীবজন্তুর পোশাক কখনোই বৃষ্টিতে রোদে রং নষ্ট হয় না, ধুয়ে না দিলে ময়লা হয় না, পুরনো হয় না। বরং তাদের গায়ের চামড়া দিয়ে আমাদের জন্য আরামদায়ক পোশাক তৈরি করে থাকি। তাহলে এক্ষেত্রে আমরা জীবজন্তু থেকে অনেক পিছিয়ে।

যদি আমার লক্ষ্য হয় ভাল সুন্দর ঘরবাড়ি বানিয়ে থাকা, তাহলে পশুপাখির ঘর আমার ঘরের চেয়ে বেশি সুন্দর, আরামদায়ক ও নিরাপদ। আমার চেয়ে বাবুই পাখি আরো বেশি সুন্দর করে ঘর বানিয়ে থাকে। অনেক পাখি গাছে গর্ত বানিয়ে থাকে। আর পশুপাখি তাদের ঘর বানাতে কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু আমাকে আরো ১০ জনের সাহায্য নিয়ে ঘর বানাতে হয়। ঘর বানানোর আগে অর্থের জন্য আরো কত গাধার মত পরিশ্রম করা লাগে। কিন্তু পশুপাখির এগুলো লাগেনা। পশুপাথি আরো আরাম করে থাকে, ডাকাতির চিন্তা না্ই, সিসি ক্যামেরা লাগেনা, গরমে ঘর ঠান্ডা করার জন্য আর ঠান্ডার দিনে ঘর গরম করার জন্য কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা লাগেনা। কিন্তু আমার ঘরে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। তারপরও নিজের ঘরের মধ্যে থেকেও দুশ্চিন্তায় কাটানো লাগে।
তাহলে এক্ষেত্রে আমরা পশুপাখি থেকে অনেক অসহায়।

যদি আমার লক্ষ্য হয় খাওয়া-দাওয়া, তাহলে খোজ নিয়ে দেখুন জীবজন্তু আমার চেয়ে আরো বেশি খায়। আর রসুলতো বলেছেন, মুশরিক বা মুনাফিকের খাবারের চাহিদা মুমিনের চাইতে সাতগুণ বেশি খায়। কারণ খাবার বেশি খাওয়া এটা প্রকৃত মুমিন/মানুষের জন্য সম্মানের কিছু না, বেশিতো খায় জীবজন্তুরা। জীবনে যে ফল আমি দেখি নাই, আল্লাহ সুবহানতায়ালা পশুপাখিকে সেরকম ফল খাওয়াচ্ছেন। পাখিরা যেখানে যেগাছে খুশি সেখানে গিয়ে সব খেতে পারছে। কাচা-পাকা উভয়টাই খেতে পারে। পশুপাখিদের জন্য হালাল হারামের কোন অবকাশ নাই। যা ইচ্ছা তাই খেতে পারছে। কিন্তু আমার জন্য সব জায়েজ না। আমাকে দেখে বুঝে খেতে হয়। তাহলে খাওয়া-দাওয়ায় পশুপাখি আমাদের চাইতে অনেক বেশি খাদক।

তো বিভিন্ন প্রকার জীবজন্তু বিভিন্ন বিষয়ের উপর আমাদের হায়াতে জীন্দেগীর অনেক বিষয়ের চাইতে অনেক বেশি এগিয়ে, সৌখিন, সুন্দর, বিজ্ঞ। ঘ্রাণ, ইন্দ্রিয়, দৃষ্টি, শব্দ শক্তি এরকম অনেক বিষয়ে তারা আমাদের চাইতে বেশি বিজ্ঞ।

তাহলে আমাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কি? আমাদের উদ্দেশ্য কি সেটা আমরা নিজেরা ঠিক করবনা। কারণ আমরা করলে ভুল করব। আমাকে যে আল্লাহ/স্রষ্টা বানিয়েছেন, সেই স্রষ্টাই আমার জীবনের উদ্দেশ্য/লক্ষ্য ঠিক করবেন। আর তাই আল্লাহ কুরআন পাকে বলেছেন, আল্লাহর গোলামী বা বন্দেগী/এবাদত করাই হল মানুষের মূল উদ্দেশ্য। আমাকে যেহেতু আল্লাহ সুবহানতায়ালা সব প্রাণীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রাণীর মর্যাদা দিয়েছেন তাই আমাদের উদ্দেশ্যও থাকবে শ্রেষ্ঠ। আর মালিকের গোলামী/এবাদত করা হল একজন বান্দার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট গোলামী। মালিকের বন্দেগী না করলে বান্দা হওয়া যায় না।

তাহলে খাবার, পোশাক, ঘুমানো, বাজার করা, আরাম আয়েশ আরো অন্যান্য কাজ ইত্যাদি এগুলো কি করবনা !! হ্যা অবশ্যই করব। কিন্তু এগুলো হল আমার জীবনের প্রয়োজন। আমার খালিক এর গোলামী করতে গেলে এগুলো জরুরত বা প্রয়োজন হিসেবে নিয়ে করব। কিন্তু কোনটাকেই জীবনের উদ্দেশ্য বানাব না। কিন্তু এখন বাস্তব দুনিয়া উল্টো। আমরা প্রয়োজন কে বানিয়ে নিয়েছি উদ্দেশ্য আর উদ্দেশ্য বা আল্লাহর এবাদত করা কে বানিয়ে নিয়েছি সময় সুযোগ মত করব।

তাই আল্লাহ সুবহানতায়ালা বলেছেন, আমি জাহান্নাম কে ভরে দিব বহু মানব ও দানব দিয়ে। যাদের কলব ছিল, কিন্তু তারা বুঝে নাই। তাদের কদর তারা বুঝে নাই। চোখ ছিল দেখে নাই, কান ছিল শুনে নাই। কারণ তারা তাদের জীবনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে চলে নাই।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×