somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Professionalism

০৮ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমজাদ সাহেব প্রচন্ড দ্বায়ীত্ব পরায়ন একজন মানুষ। একটি সরকারী অফিসে চাকরী করেন। অল্প ক’দিন পর অবসরে যাবেন। কোন দিন কর্মক্ষেত্রে কোন কাজে তার দ্বায়ীত্ববোধ ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন আসেনি। সরাটা জীবন শুধু কাজ আর কাজ ছিল তার চিন্তা চেনায়। পারা প্রতিবেশী আত্বীয় স্বজন কার সাথে তার তেমন একটা সম্পর্ক নেই। কাজের বাইরে খুব একটা কথা না বলার কারনে তার কথা বলার কোন মানুষ নেই। এমনকি পরিবারের সবার সাথেও তার কথা হয় খুবই কম। ছেলে মেয়ে টাকা দরকার হলে এসে চায়। স্ত্রী সংসার খরচের টাকা চায়। এর বাইরে কোন কথা বালার মত কিছু খুজে পায়না আজমল সাহেব। বাড়ীতে যতক্ষন থাকেন হাতে একটি বই থাকে। অফিসে তার জুনিয়র অনেক কলিগ তাকে খুব একটা ভাল চোখে দেখেনা। কারন পুরানো চিন্তা চেতনার আজমল সাহেবের সাথে তাদের অনেক বিষয় এ মতের অমিল থাকলেও বসের কথা মত কাজ করতে হয়।

এদিকে বাসায় আজমল সাহেবের স্ত্রী বকুল সংসার, ছেলে মেয়ে, কিংবা স্বামীর চেয়ে নীজেকে নিয়েই বেশী ব্যাস্ত। সারাদিন টিভি সিরিয়াল, বিউটি পার্লার কিংবা কারনে অকারনে মার্কেটে মার্কেটে ঘোরা তার নিত্য দিনের কাজের রুটিন। ছেলে রুমেল আর মেয়ে রুনা ইউনিভার্সিটেতে পরা শুনার চেয়ে বন্ধু বান্ধবদের সাথে সময় কাটাতে বেশী ব্যাস্ত।

অবসরের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে আজমল সাহেব ততই নিজের অবসর জীবন নিয়ে চিন্তিত হচ্ছেন। কিভাবে সে সময় কাটাবে? সবাইতো তাকে একজন অসামাজিক মানুষ ভেবে কাছে ঘেষে না। ইদানিং সে মানুষের সাথে মেশার ও কথা বলার খুব চেষ্টা করলেও কেউ তার কাছে ভীরছে না। এমনকি নীজের পরিবারের সদস্যরাও মনে হচ্ছে তাকে এড়িয়ে চলছে। প্রফেশোনালিজম তাকে সবার কাছ থেকে যে অনেক দুরে নিয়ে গেছে তা এখন প্রচন্ড ভাবে অনুভব করছেন আজমল সাহেব। নিজেকে এখন পৃথীবির সবচেয়ে একা মানুষ মনে হচ্ছে তার।

আজমল সাহেব অফিসের বসের কাছে অবসরের সময় আরেকটু বাড়াবার কথা বলেছেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। অন্য কোন বেসরকারী অফিসেও ঘুরেছেন যাতে অবসরে গেলেও নতুন কোন কাজে লাগা যায়। কারন কাজ ছারাতো তার অন্য কোন সাথী নেই। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বয়সের কারনে তাকে নিতে কোন কম্পানি রাজী হয়নি।

একদিন তার মাথায় একটি প্লান আসল। সংসারে নীজের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করার প্লান। আশে পাশে কোথাও লুকিয়ে থাকবেন। আর একজন কে দিয়ে খবর নিয়ে জানবেন সংসারে তার হারিয়ে যাওয়ার কারনে সৃষ্ট অবস্থার আপডেট, যাতে বুঝা যাবে সংসারে সবার মাঝে তার অবস্থান। যেই ভাবা সেই কাজ। সেচ্ছায় হারিয়ে গেলেন আজমল সাহেব। সকাল থেকে সন্ধ্যা হল কার মাঝে তাকে নিয়ে কোন চিন্তার ছাপ পাওয়া গেল না। রাত ও পেরিয়ে গেল স্ত্রী একাবার খবর নিলেও তেমন উদ্বিগ্ন নন। বেড়িয়ে গিলেন তার কাজে। আর ছেলে মেয়েরা তো তাদের মত ব্যাস্ত। আজমল সাহেব সব খোঁজ পাচ্ছে আর হতাশা বাড়ছে।

একদিন দু’দিন যেতে যেতে সংসারের সবাই আজমল সাহেব কে খুব গভীর ভাবে ফিল করতে লাগল। নানা জায়গায় খোঁজ নিচ্ছে। টিভি, সংবাদপত্র পর্যন্ত খবর পৌছে গেছে। এলাকার সবাই জেনেছে। অনেকেই নিয়মিত খোজ নিচ্ছে। গ্রাম থেকে আত্বীয় স্বজনও আসছে। এলাকায় ব্যাপারটা একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এদিকে আজমল সাহেব সব খোজ পাচ্ছেন আর অবাক হচ্ছেন। মাঝে মাঝে প্রচন্ড রকম আবেগ প্রবনও হয়ে যাচ্ছেন। সেযে সংসারে এত প্রয়োজনীয় তা ভাবে অন্য রকম এক ভাল লাগা তাকে আলোড়িত করে। সংসারে ফিরে আসে আজমল সাহেব। এলাকার সবাই তাকে দেখতে এসেছে। ছেলে মেয়ে বাবাকে ফিরে পাওয়া আর স্ত্রীর স্বামীকে কাছে পাওয়ার আবেগ, কন্না, আজমল সাহেব কে নতুন এক জীবনের সন্ধান দেয়। প্রফেশনাল জীবন থেকে নতুন জীবনে পায় আজমল সাহেব।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×