somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ

১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক বাদশাহর দরবারে একজন জহুরীর আগমন ঘটল। বাদশাহ ছিল অনেক সৎ ও ন্যায় পরায়ণ। বাদশাহর মত তার প্রজারাও সৎ ভাবে জীবন যাপন করত। তাদের মাঝে কোনো প্রকার লোভ হিংসা বিভেদ না থাকার কারণে সা¤্রাজ্যটি পরিণত হয় সুখের সা¤্রাজ্যে। জহুরী বাদশাহকে তার পকেট থেকে একটি কৌটা বের করে দেখায় এবং বলে তার এই কৌটায় এমন একটি মহা মূল্যবান মুক্তা আছে যা পৃথিবীর আর কারও কাছে নেই। বাদশাহ দেখতে চাইলে সে মুক্তাটি দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। বাদশাহ জোর করে দেখতে না চেয়ে জহুরীকে বলে “তোমর কাছে যত মূল্যবান মুক্তাই থাকুক না কেন। তুমি ও তোমার মুক্তা উভয়েই আমার কাছে নিরাপদ। তুমি আমার সা¤্রাজ্যের যে কোন সরাই খানায় যত দিন ইচ্ছা থাকতে পার।” জহুরী বাদশাহকে ধন্যবাদ দিয়ে সরাইখানায় চলে যায়।

দরবারে আগতদের মধ্যে এক যুবক মুক্তাটির লোভে পড়ে যায়। সে জহুরীর কছে গিয়ে তার সাথে দেশ ভ্রমণে বের হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। জহুরী যুবকের লোভের ব্যাপারটি বুঝতে পারলেও তাকে সাথে নিয়ে ভ্রমণে বের হতে রাজী হয়। তারা দু’জনে এক সাথে বেরিয়ে পরে এবং নানা জায়গা ঘুরে রাত কাটানোর জন্য এক সরাইখানায় আশ্রয় নেয়। জহুরী যুবকের উদেশ্য বুঝতে পেরে তার মুক্তার কৌটাটি অনেক সতর্কতার সাথে রেখে ঘুমোতে যায়। রাতে যুবকটি উঠে জহুরীর জামা কাপড় তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগল কিন্তু কোথাও মুক্তার কৌটাটি না পেয়ে হতাশ হয়ে শুয়ে পরল। সকালে জহুরী ঘুম থেকে উঠে রাতের ঘটনা আঁচ করতে পারলেও যুবকের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করে একসাথে ভ্রমণে বেরিয়ে পরল। তারা দু’জনে সারা দিন ভ্রমনের পর দ্বিতীয় রাত কাটানোর জন্য অন্য একটি সরাইখানায় আশ্রয় নেয়। ঐ রাতেও যুবকটি জহুরীর জামা কাপড় আর ঝুলি তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখে। কিন্তু কোথাও কৌটাটির সন্ধান পেল না। যুবকটি ভাবল নিশ্চয়ই জহুরী মুক্তাটি হারিয়ে ফেলেছে। সকালে দেশ ভ্রমণের এক পর্যয়ে যুবকটি কৌশলে জহুরীর কাছ থেকে জানতে পারে যে কৌটাটি তার সাথেই আছে। যুবকটি সিদ্ধান্ত নেয় আজ রাতে যেভাবেই হোক মুক্তাটি সে কেড়ে নিবে। মুক্তা খুঁজতে গিয়ে জহুরী যদি ঘুম থেকে জেগে ওঠে তাহলে প্রয়েজনে তাকে খুন করে হলেও মুক্তাটি তার চাই। তৃতীয় রাতে আবারও যুবকটি শেষ চেষ্টা হিসেবে জহুরীর সব কিছু এলোমেলো করে খোঁজে। এদিকে জহুরী ঘুমের ভান করে যুবকের সব কর্মকান্ড উপভোগ করল। শত চেষ্টা করে আজও সে কৌটাটি কোথাও খুঁজে পেল না।

সকালে জহুরী তার সবকিছু এলোমেল দেখে যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলে, সে গত তিন রাতের সব ঘটনা খুলে বলল এবং কৌটাটি কোথায় রাখা ছিল তা জানতে চাইল।
জহুরী যুবকটিকে বলল “বন্ধু তুমি কৌটাটি কোথায় কোথায় খুঁজেছ?।
যুবক বলল “আমি তোমার রাখার মত সব জায়গায় খুঁজেছি।”
জহুরী হেসে বলল “তুমি কি নিজের পকেটটি খুঁজেছ?”
যুবকটি অবাক হয়ে নিজের পকেটে হাত দিয়ে কৌটাটি খুঁজে পেল এবং আরও অবাক হল যখন কৌটাটি খুলে দেখল সেটির ভিতরে আসলে কিছুই নেই। তখন জহুরী বলল “আসলে আমার মহা মূল্যবান মুক্তা হল আমার বিশ্বাস যা চোখে দেখা যায় না। অনুভব করা যায়। আর বিশ্বাস সব সময় নিজের মাঝে তালাশ করতে হয়। যদি নিজের মাঝে তালাশ করতে তাহলে তুমি শুধু মুক্তা কেন সৃষ্টিকর্তাকেও পেয়ে যেতে।”

আমাদের যুবকরাও যদি নিজেকে জানতে পারে তাহলে সৃষ্টিকর্তাকেও জানতে পারবে। আর যদি সৃষ্টিকর্তাকে জেনে তাকে সৃষ্টির জন্য সব কাজের মাধ্যমে ¯্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানায় তাহলে সমাজে কোন অশান্তি থাকবে না। আমরা একটি বীজ মাটিতে বপন করি আর সেটা সময়ের ব্যবধানে গাছে এবং ফলে পরিণত হয়। যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের চোখের অন্তরালে বীজকে ফলে পরিণত করে আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন, অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্ব দিয়েছেন তাকে আমরা ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করব কেন? আমাদের জন্মের পূর্বে এবং পরে চাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সব কিছু প্রস্তুত করে যিনি সকল চাহিদা পূরণ করেছেন, আসুন আমরা তার দেখানো পথে চলে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।


এইদেশ ও একজন পথিক
শমসের আলী হেলাল

অনুলিখন ও সম্পাদনা
জুবায়ের মোস্তফা
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×