ঘুরতে ঘুরতে আমার আগের নিকে ঢুকেছিলাম, স্বপ্নকথক । গিয়ে দেখি দুই বছর তিন সপ্তাহ হয়ে গেছে ব্লগিং এর বয়স! খুব আয়োজন করে বছর পূর্তি পোস্ট দিবো ভেবেছিলাম, হলোনা। তাই ভাবলাম, আমার সিরিজগুলার কোন একটার আরেক পর্ব লিখে ফেলি। সিরিজ লিখতে পেইন লাগে।
যাউগ গা, শুরু করি। আমার দাদাভাই ছিলেন কঠিন তাবলীগ করা মানুষ। উনি হাজী ছিলেন। তো যা হয়! হাজীর তিনটা বেটাই পাজী! আব্বু ও দুই কাকুর কেউ মসজিদে নামাজ পড়তে যায় না! এই নিয়া পাড়া-পড়শী ও মুসল্লী মহলে চরম অসন্তোষ। দাদাভাই বেঁচে থাকতে যাও দু এক রাকাত পড়তে মসজিদে যেতো, উনি মারা যাবার পর... ড্যাং ড্যাঙ্গা, ড্যাং ড্যাং! তাবলীগের লোকেরা তা মানবে ক্যানো? উনারা প্রতি শুক্রবার আসর নামাজের পর লাইন ধরে রওনা দিতেন। মেজ কাকু ঢাকায় থাকতো। আব্বু শুক্রবারে বাড়ী থাকতো, আমি আর ছোটকাকু ছিলাম। এই তিনজন।
মোল্লারা এসে গেইটে নক করলে আগে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা হতো। যে আগে দেখতো সে বেঁচে গ্যালো! কিভাবে? আমারদের বাড়ীতে বাথরুম দুইটা। মোল্লা দেখার সাথে সাথে দুইটা বাথরুমে তিনজনের দুইজন গিয়ে ঢুকতো! যে বাথরুমে ঢুকতে পারতো না, সে পড়তো বাটে! তাবলীগের ওয়াজ-নছিহত শুনতে শুনতে ঘন্টা পার, মাগরিবের নামাজ পড়তে সাথে যেতে হতো, আর আসার আগে বাধ্যতামূলকভাবে এক চিল্লা/দুই চিল্লার ওয়াদা করে আসতে হতো মসজিদে বসে! ছোট ছিলাম বলে আমারেই বেশীরভাগ সময়ে বাটে পড়তে হৈতো।
শুধু বাসায় না, এই অত্যাচার খেলার মাঠেও ছিলো! বাসার সামনের মাঠে আমরা পুলাপান ক্রিকেট খেলতাম। দুই একদিন ধরা খাওয়ার পর সবাই সতর্ক হয়ে গেছিলাম। রাস্তার উপর যার ফিল্ডিং থাকতো, তার উপরে দ্বায়িত্ব ছিলো খেয়াল রাখার। মোল্লা বাহিনী দেখা মাত্র ভাগোওওও... মাঠের পাশের পাঁচিল টপকে আমবাগানে! মাঠে ব্যাট, বল আর উইকেট! কয়েকদিন পর মোল্লারা ক্যামনে জানি বুঝে ফেললো। আমরা যথারিতী ভাগোওও স্ট্যাইলে আমবাগানে। একজনরে গাছে তুলে দিছি মোল্লারা যায় কিনা দেখার জন্য। সে ঢোক গিলে কয় পাঁচিলের দিকে আইতাছে! কৈতে না কৈতে পাঁচিলের উপর দিয়া এক পিচ্চি মোল্লা উঁকি দিয়া কয়, এই তো! সব তো এইখানে! পুলাপান গাছ থেইকা লাফ দিয়া নাইমা, মাটি থেইকা উইঠা, যে যেমন ছিলো, ঝোপঝাড় আর আমবাগানের বেড়া ভেঙ্গে চোঁ চা দৌড়! তারপর আর মোল্লারা বিশেষ বিরক্ত করতো না।
লেটেস্ট কাহিনী কই। বছরদুয়েক আগের কথা। ঢাকায় মেসে ঘুমাইতেছি। আর কেউ নাই। ভোর এগারোটার সময় দরজা ধাক্কাচ্ছে কে য্যানো। বিশাল বিরক্ত হৈয়া দরজা খুইলা দেখি মোল্লাবাহিনী! মেজাজ গ্যালো আরো খিঁচড়া হয়ে! বলে-
- মেসের সবাইরে ডাক দেও।
- মেসে কেউ নাই, আমি একা।
- ও, তা বাবার নাম কি? কৈলাম
- বাঁধন। উনারা কনফিউজড! কয়
- পুরা নাম কও। নগদে মাথায় বদ বুদ্ধি চাপছে!
- বাঁধন বড়ুয়া!
- আচ্ছা বাবা থাকো, আমরা যাই।
(চলিবেক)
আমার দুইবছর পূর্তিতে ছাগু বাদে সবাইকে শুভেচ্ছা।
☯ আমার স্বপ্নবেলা - ৪
☯ আমার স্বপ্নবেলা - ৩
☯ আমার স্বপ্নবেলা - ২ (১৮+)
☯ আমার স্বপ্নবেলা - ১
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



