somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার স্বপ্নবেলা - ৫

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুরতে ঘুরতে আমার আগের নিকে ঢুকেছিলাম, স্বপ্নকথক । গিয়ে দেখি দুই বছর তিন সপ্তাহ হয়ে গেছে ব্লগিং এর বয়স! খুব আয়োজন করে বছর পূর্তি পোস্ট দিবো ভেবেছিলাম, হলোনা। তাই ভাবলাম, আমার সিরিজগুলার কোন একটার আরেক পর্ব লিখে ফেলি। সিরিজ লিখতে পেইন লাগে। :( অফিসে কাম কাইজ নাই, হাই তুলতেছি।

যাউগ গা, শুরু করি। আমার দাদাভাই ছিলেন কঠিন তাবলীগ করা মানুষ। উনি হাজী ছিলেন। তো যা হয়! হাজীর তিনটা বেটাই পাজী! আব্বু ও দুই কাকুর কেউ মসজিদে নামাজ পড়তে যায় না! এই নিয়া পাড়া-পড়শী ও মুসল্লী মহলে চরম অসন্তোষ। দাদাভাই বেঁচে থাকতে যাও দু এক রাকাত পড়তে মসজিদে যেতো, উনি মারা যাবার পর... ড্যাং ড্যাঙ্গা, ড্যাং ড্যাং! তাবলীগের লোকেরা তা মানবে ক্যানো? উনারা প্রতি শুক্রবার আসর নামাজের পর লাইন ধরে রওনা দিতেন। মেজ কাকু ঢাকায় থাকতো। আব্বু শুক্রবারে বাড়ী থাকতো, আমি আর ছোটকাকু ছিলাম। এই তিনজন।

মোল্লারা এসে গেইটে নক করলে আগে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা হতো। যে আগে দেখতো সে বেঁচে গ্যালো! কিভাবে? আমারদের বাড়ীতে বাথরুম দুইটা। মোল্লা দেখার সাথে সাথে দুইটা বাথরুমে তিনজনের দুইজন গিয়ে ঢুকতো! যে বাথরুমে ঢুকতে পারতো না, সে পড়তো বাটে! তাবলীগের ওয়াজ-নছিহত শুনতে শুনতে ঘন্টা পার, মাগরিবের নামাজ পড়তে সাথে যেতে হতো, আর আসার আগে বাধ্যতামূলকভাবে এক চিল্লা/দুই চিল্লার ওয়াদা করে আসতে হতো মসজিদে বসে! ছোট ছিলাম বলে আমারেই বেশীরভাগ সময়ে বাটে পড়তে হৈতো। :( একবার বাসায় মেজকাকুও উপস্থিত! তখন আমি আর ছোটকাকু একসাথে এক বাথরুমে ঢুকছিলাম! :P বাটে পড়ছিলো মেজকাকু!

শুধু বাসায় না, এই অত্যাচার খেলার মাঠেও ছিলো! বাসার সামনের মাঠে আমরা পুলাপান ক্রিকেট খেলতাম। দুই একদিন ধরা খাওয়ার পর সবাই সতর্ক হয়ে গেছিলাম। রাস্তার উপর যার ফিল্ডিং থাকতো, তার উপরে দ্বায়িত্ব ছিলো খেয়াল রাখার। মোল্লা বাহিনী দেখা মাত্র ভাগোওওও... মাঠের পাশের পাঁচিল টপকে আমবাগানে! মাঠে ব্যাট, বল আর উইকেট! কয়েকদিন পর মোল্লারা ক্যামনে জানি বুঝে ফেললো। আমরা যথারিতী ভাগোওও স্ট্যাইলে আমবাগানে। একজনরে গাছে তুলে দিছি মোল্লারা যায় কিনা দেখার জন্য। সে ঢোক গিলে কয় পাঁচিলের দিকে আইতাছে! কৈতে না কৈতে পাঁচিলের উপর দিয়া এক পিচ্চি মোল্লা উঁকি দিয়া কয়, এই তো! সব তো এইখানে! পুলাপান গাছ থেইকা লাফ দিয়া নাইমা, মাটি থেইকা উইঠা, যে যেমন ছিলো, ঝোপঝাড় আর আমবাগানের বেড়া ভেঙ্গে চোঁ চা দৌড়! তারপর আর মোল্লারা বিশেষ বিরক্ত করতো না।

লেটেস্ট কাহিনী কই। বছরদুয়েক আগের কথা। ঢাকায় মেসে ঘুমাইতেছি। আর কেউ নাই। ভোর এগারোটার সময় দরজা ধাক্কাচ্ছে কে য্যানো। বিশাল বিরক্ত হৈয়া দরজা খুইলা দেখি মোল্লাবাহিনী! মেজাজ গ্যালো আরো খিঁচড়া হয়ে! বলে-
- মেসের সবাইরে ডাক দেও।
- মেসে কেউ নাই, আমি একা।
- ও, তা বাবার নাম কি? কৈলাম
- বাঁধন। উনারা কনফিউজড! কয়
- পুরা নাম কও। নগদে মাথায় বদ বুদ্ধি চাপছে! B-) কৈলাম
- বাঁধন বড়ুয়া!:P:P:P উনারা যারপরনাই হতাস হৈয়া কৈলেন
- আচ্ছা বাবা থাকো, আমরা যাই।



(চলিবেক)

আমার দুইবছর পূর্তিতে ছাগু বাদে সবাইকে শুভেচ্ছা।


আমার স্বপ্নবেলা - ৪

আমার স্বপ্নবেলা - ৩

আমার স্বপ্নবেলা - ২ (১৮+)

আমার স্বপ্নবেলা - ১
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:২২
৩১টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×