তবে শেষের ও শেষ থাকে কখনো কখনো । তটিনীর আর একটা চিঠি দিয়ে শেষ হবে আগামী পর্বেই)
তটিনী
অনেকগুলো ঘন্টা পার হয়ে গেলো ঘুমাইনি।
ঘুম হলো পরম শান্তির একটা ব্যাপার।
এর জন্য প্রস্তুতি চাই।
ঘুমানোর জন্য সবসময় ধবধবে সাদা অথবা আকাশ নীল চাদর আমার পছন্দ।
আমি যে ঘরে ঘুমাই সেখানে শুধু একটা বিছানা ,একটা বিশাল বই এর র্যাক আর একটা টেবিল আর একটা চেয়ার.......
বুক শেলফের পাশে একটা ইজি চেয়ার ঘরের দরজার পাশে।
দরজাটা কাঁচের । ওটা দিয়ে বেলকনিতে যাওয়া যায়।
বেলকনি থেকে বাড়ীর পিছনের বিশাল বাগানটা দেখা যায়।
বাবার খুব শখ ছিলো গাছের।
কত রকম ফুল আর ফলের গাছ যে আছে।
মা রাশিয়া থেকেও নানান রকম গাছ এনে লাগিয়েছেন.........কি আশ্চর্য্য জানো আমার মায়ের মত সেই গাছগুলোও কেমন অন্য দেশের মাটিতে শেকড় ছড়ালো।
আমার মা কে কখনো কষ্ট পেতে দেখিনি।
সবসময় উনি বলেছেন ভালোবাসায় সব সম্ভব।
মা একজনকে ভালোবেসে তার জন্য দেশ,আত্মীয় স্বজন সব কিছু ছেড়ে পরবাসী হয়েছিলেন।
ভাবতে পারো কি ভীষন ত্যাগ?
বাবাও তো থেকে যেতে পারতেন রাশিয়ায়!
দেখাটুকু বাদ দিলে মা পুরোপুরি একজন বাংলাদেশী রমনী হয়ে গেছিলেন। শাড়ী পড়তেন। বাংলা বলতেন। এমনকি জয়দেবপুরের আঞ্চলিক সুর ও ছিলো তার কথায়।
যদিও ছোটবেলায় আমাকে আদর করবার সময় আর গল্প করবার সময় নিজের ভাষাই বলতেন।
মায়ের কাছেই আমার রাশিয়ান ভাষা শেখা।
ফ্রেন্চ ও কিছুটা।
মা বলতেন স্রষ্টা মানুষকে কত অসীম ক্ষমতা যে দিয়েছেন। তার খুব কমই আমরা ব্যবহার করি।
মা নাহয় সব ছেড়ে ছুড়ে এসেছিলেন।
আর বাবা?
বাবা মাকে দিয়েছিলেন তার স্বপ্ন।
তদের দুজনের স্বপ্ন দিয়ে গড়া এক হাসপাতাল । যেখানে ৫০ টা বেডে অর্থ দিয়ে রূগী রাখা হয় আর ২৫ টায় গরীবদের জন্য বিনা পয়সায় ব্যবহার করা হয়।
প্রথম থেকেই এবার ছিলো এখনো এভাবেই চলছে।
বাবা মাকে ঘরের কাজেও অনেক সাহায্য করতেন। এমনকি রান্না ঘরেও টুকটাক কাজ করতেন বাবা। আমার কি মনে হয় জানো সাহায্য তো একটা ব্যাপার ছিলোই। এছাড়া বাবা মাকে ছেড়ে বেশীক্ষন একা থাকতে পারতেন না।
একটা জীবনে কতটুকু সময়ই বা পাশে থাকে মানুষ? সংসার জীবনটা আসলে পুতুল খেলার মতই। খেলতে খেলতেই বেলা গড়িয়ে যায়......।
আমরা কেউ তা বুঝি।
কেউ তা বুঝিনা। এমনকি বুঝতেও চাইনা।
সবাই যদি একটু চোখ খুলতো।
সবাই যদি একটু মন দিয়ে ভাবতো।
তাহলে চারিদিকে এত ঘর ভেঙে যেতোনা তটিনী।
সম্পর্কের পরম দিক হলো টান।
টানটুকু টিকিয়ে রাখতে দরকার তান। সুর।কথা।
একটা গান তখনই মনের গভীরে দাগ কেটে যায় যখন কথা ও সুর মন ছুঁয়ে যায়.......
মানুষের সম্পর্কও তেমনি। কথা ও সুরে মিল হতে হয়।
ভাবছো কি এত কথা বলছি কেনো?
কেনো যে বলছি তা কি বুঝতে পারছো তটিনী?
তোমাকে যে কটাদিন চিনি ,দিন গুনে বললে কম মনে হতে পারে.........যদি ঘন্টা ,মিনিট বা সেকেন্ড গুনে হিসাব করি.........
কত হতে পারে?
জানোতো একটা সেকেন্ডের কত শক্তি। কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পে কত শহর বিলীন হয়ে গেছে।
কয়েক মিনিটের ঝড়ের কত শক্তি.............
চন্দ্রগ্রহন সূর্যগ্রহনের কথা ভাবো।
বন্যার কথা ভাবো.........
তাহলে ৬০৪৮০০ সেকেন্ড কি কম তটিনী?
একটা অনাবিল আনন্দ।
একটা অদ্ভুত সন্মোহন।
একটা শিহরিত কাঁপন ।
ভীষন এক ঝড় বইছে হৃদয়ে................কত নম্বর বিপদসংকেত দিবো বলো তো মেয়ে?
আকাশের শান্ত মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি.......
এমন ঝড় তো আগে কখনো টের পাইনি............
দুর্বার বেগে ধেয়ে আসছে জলোচ্ছাস.....................যত দুরে চলে যাচ্ছি দুরত্বসীমায়।
ততই কাছেই যেনো টানছো আমায়.............
তটিনী এই যদি হয় প্রেম .....................হোক।
এই যদি হয় একজন মানবীর কাছে একজন মানবের জীবন ভিক্ষা .......হোক।
এই যদি হয় চির পুরাতন কথা...................................হোক।
আমি আকাশের সব মেঘরাশিদের তোমার কাছে পাঠালাম........।
তোমার জানালার দিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে তুমি বলো ভালোবাসো।
ভালোবাসো প্রেম।
তাহলেই হবে..................
এখন মনে হচ্ছে বড় দেরী হয়ে গেলো তটিনী।
সেই যে পার্লামেন্টের পিছনে কাঠের সিড়িতে বসে কথা বলছিলাম দুজনে।
আমার ভীষন ইচ্ছা করছিলো তোমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসি।
প্রার্থনার মত হাত বাড়িয়ে বসে থাকি।
পারলাম না।
তোমার ব্যক্ত্বিত্বের কাছে নতজানু হলো আমার চাওয়া।
খুব বলতে ইচ্ছা করছিলো,
তুমি আমার অন্ধকারের আলো
তুমি পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারা।
আরো কত কি!
.............কেনো যে বলিনি!
৬০৪৮০০ সেকেন্ড অনেক বেশী এই অনিবর্চনীয় আনন্দের পক্ষে.........
তোমার মুখটা খুব দেখতে ইচ্ছা করছে.............তোমার অদ্ভুত দুটো চোখ।
তোমার চুল..........তোমার হাত.......
তটিনী আমার পাগলীটা ভালোবাসা কারে কয় এখন আমি জানি।
"সে কি কেবলি চোখের জল ? সে কি কেবলি দুখের শ্বাস?
..............................................................
আমার মতন সুখী কে আছে । আয় সখী, আয় আমার কাছে--
সুখী হৃদয়ের সুখের গান শুনিয়া তোদের জুড়াবে প্রাণ।
প্রতিদিন যদি কাঁদিবি কেবল একদিন নয় হাসিবি তোরা--
একদিন নয় বিষাদ ভুলিয়া সকলে মিলিয়া গাহিব মোরা।"
এই একদিনই হোক আনন্দের তটিনী। তোমাকে আমার হৃদয়ের সমস্ত উচ্ছাস জানাচ্ছি।
আর কয়েকঘন্টার মধ্যেই দেশে পৌছে যাবো........
বিশ্বাস করি এই আকাশে আকাশে তোমার কাছে পৌছে গেলাম তটিনী........
প্রতিদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।
প্রতিদিন ভোর বেলা বাগান থেকে তোমার জন্য তুলে আনবো শ্রেষ্ঠ ফুল........
ভোর হয়ে যাচ্ছে তটিনী।
মেঘ এর ফাঁক দিয়ে আকাশ লাল হচ্ছে........তোমার সূর্যটার দিকে তাকিয়ে আছি ।
তোমার আকাশের সূর্য্যকে আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে তুমি সন্ধ্যাকাশের তারা দেখছো। তোমার পাঠানো উষ্ণতা সেই সূর্য্যতে।
আমার শিউলী ফুল
শরৎ আসার খুব বেশী দেরী নেই।
তুমি এলে ভোর সকালের শিশির ভেজা পথে ঘুরে বেড়াবো আমরা।
তুমি গাইবে,"আমার রাত পোহাল,শারদ প্রাতে।"
তোমাকে তুরাগ নদীর পারে নিয়ে যাবো.......সকালে রাস্তার পাশে শাকশবজীর দোকান বসে।ওখানে থেকে অনেক কিছু কিনবো..........শিম,ফুলকপি, আরো কত কি।
তার পর বাবা মায়ের মত আমরাও রান্নাঘরে একসাথে রান্না করবো।
গল্প করবো।
তোমার ভেজা চুলের পানি বেয়ে পড়বে..........আমি হাত পেতে সেই পানি ছুঁবো।
অবাক হয়োনা তটিনী।
দু'চোখ ভাসিও না বোকা মেয়ে।
জানো তো শুধু বেঁচে থাকলেই কত কি যে সম্ভব...........কত কিছু!
রাজর্ষি
অপ্রকাশিত চিঠি ১
Click This Link
অপ্রকাশিত চিঠি ২
Click This Link
অপ্রকাশিত চিঠি ৩
Click This Link
অপ্রকাশিত চিঠি ৪
Click This Link
অপ্রকাশিত চিঠি ৫
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



