রাবীন্দ্রিক যুগে রবীন্দ্রদের কাছে পত্রিকার সম্পাদকেরা কবিতা চাইতেন। কবি ভাই, ‘এক সপ্তাহের ভিতরে আমার পত্রিকার বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে একটা কবিতা লিখে দিতে হবে।’ তাঁরা এক সপ্তাহ যাবত অনেক গবেষনা করে, শত পৃষ্টা ছিড়ে, কাট-ছাট করে অনেক যতন করে কবিতাটি পাঠিয়ে দিতেন সম্পাদক বরাবরে।
জীবনানন্দের যুগে সময় চাওয়া হতো তিন/চার দিন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভাবতে অবাক লাগে যে, একটা কবিতা লিখতে তাঁরা তিন/চারটি দিন সময় নিতেন। অরি বাপরি!!
আর এখন?
: হ্যালু, কবি ভাই একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষ্যে আমার পত্রিকায় একটি কবিতা লিথে দিতে হবে। এখন কইবেন?
-হ্যা, আমি মুবাইলে কইতাছি, আপনি রেকর্ড মারেন।
তাতক্ষনিক মুখ দিয়ে কবি বলে যাচ্ছেন ছম্পাদক রেকর্ড মারতাছেন। কবি কহিলেন,
একুশে ফেব্রুয়ারী
বাশপাতায় বসে থাকা দুপুর হস্তি
দু’কূলে মীনক্ষুভাকুল কুবলয়
ছম্পাদক অতীব পুলকিত হইয়া কহিলেন, আহ!! কি শব্দ শৈলী রে বাপ, পরের লাইন কন কবি ভাই,
চাদনী রাতে হালুম পেঁচা
বাসায় ঢুকে দেখি বদনার চাবি নাই
মূলা খাই না
আমি মূলা খাইনা
মুলার তরকারী
আমি কি ভুলিতে পারি
একুশে ফেব্রুয়ারী
বাহ!! মাহরী!! মরে গেলুম, কবি সাব, শকুন আছে?
অত:পর ষ্টার্ট লও
তুমি ষ্টার্ট লও
শকুনে কোবলে খেলো ধানক্ষেত
পারদে স্তুপাকার গাংচিল
ব্যস্ত আদার ব্যাপারী
একুশে ফেব্রুয়ারী।
ছম্পাদক দন্যবাধ দিয়া কহিলেন মাইরী বলছি কবি ভাই, এমুন ছুন্দর কবিতা আমার বাপেও হুনে নাই।
কবিতাটি পত্রিকায় ছাপা হলো।
কবিতা ল্যাখা আজ এতটাই সহজ।
ফেবুতে দ্যাখতে চাহিলে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



