বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার জন্য একজন আলসেকে পছন্দ করবো, কারণ আলসে লোক ঐ কাজটা করবার জন্য সবচাইতে সহজ পদ্ধতি বের করবে!

২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আমি ব্যবসা করেছি। ওয়েব ডিজাইন করেছি, মার্কেটিং এজেন্সি চালিয়েছি, ইকমার্স দাড় করিয়েছি। সব গুলিই কারও না করও কাছে শেষ পর্যন্ত বিক্রি করেছি। এবং বেশ ভালো দামেই বিক্রি করেছি। ২০১৭ তে এসে আপার লোকজনের ধাওয়ায় এবং আরও কিছু সমস্যায় সৌদী আরব পাড়ি জমাই। আপা দৌড়ে পালাবার পর আর ফেরা হয় নি। এইতো বেশ আছি সৌদীতে।
আমার ছোট বেলা থেকে Procrastination এর সমস্যা আছে। আমি মূলত কাজ সহজে করবার পক্ষে, চেষ্টাও করি সহজ পদ্ধতি বের করতে। কিন্তু মাঝে মধ্যে দেখা যায় একটা কাজে এসে আটকে গেছি। এমন না কাজটা পারি না, কিন্তু শুরুই করা হয় না।
প্রতি নিয়ত ভাবি যে এই করবো, সেই করবো। কিন্তু শুরু করা হয় না। ডেডলাইন এক দুই তিন চার পাঁচবারও পার হয়ে যায়। কিন্তু, ঐ কাজ আর করা হয় না। এই পুরা সময়টা আমি প্রচন্ড অসুস্থ বোধ করি, প্রচন্ড মানে প্রচন্ড। আমি ভিষণ মাত্রায় খাদক হলেও এই সময় আমার খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। একবারতো ৯দিন পর্যন্ত টয়লেটও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।
এরপর হঠাৎ একটা সময় আসে। যখন নেপালে হিমবাহ ভেঙ্গে পড়ে যেমন বন্যা হলো, ওমন ভাবে কাজ করা শুরু করি। দেখা যায় সাধারণ ভাবে ৪৮-৭২ ঘন্টায় যে কাজ করি, তা মাত্র ৩/৪ ঘন্টাতেই করে ফেলি! আমার স্পিড দেখে তখন অবাক হতে হবে। প্রচন্ড ফোকাস দিয়ে কাজ করি তখন। ভুল ১-২% এর বেশী হয় না।
একবার এই হিমবাহ ভাঙ্গা বন্যা শেষ হলে তারপর আবার ফিরি স্বাভাবিক নদীর গতিতে। কাজ চলতে থাকে; আবার না যেদিন হঠাৎ আর একটা কাজে আটকে যাই।
আমি বহু প্যাটার্ন খোঁজার চেষ্টা করেছি যে কোন সব কাজে আটকাই। প্যাটার্ন পাই নাই।
আগে বছরে ২/৩ বার হতো এমন। ইদানিং মাসে ২/৩বার এমন হচ্ছে! বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত হাওয়া নিয়েও Procrastination এ পড়ছি!
=================
বিবিএ আমি বেশ ভালো ভাবে শেষ করেছিলাম, কিন্তু এক্কেবারে শেষে এসে রিপোর্ট আর করা হয় না। পুরা বিবিএর সময় আমার অন্যতম খ্যাতি ছিলো রিপোর্ট/এসাইনমেন্ট তৈরীতে। শেষের দিকেতো ব্যবসাই বানিয়ে নিয়েছিলাম
এরপর এমবিএতে ভর্তিই হতে চাই নাই, বাবা-মা-ভাইয়ের চাপে পড়ে ভর্তি হলাম। কিন্তু ক্লাস করা হয় না, পরীক্ষা দেওয়া হয় না। সে সময় এগিয়ে এলো রানু, ভার্সিটি লাইফে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। রানু প্রতিদিন বাসার সামনে এসে দাড়িয়ে থাকতো, আমার নিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয়ে যেতো। আমাকে জোর করে পরীক্ষার হলে ঢোকাতো। ওর বয়ফ্রেন্ড না থাকলে, আর আমাকে যদি ও কিঞ্চিতও পছন্দ করতো, ওকেই আমি বিয়ে করতাম।
========
গত প্রায় ৭/৮ মাস ধরে ঝামেলাটা প্রচন্ড ভাবে চেপে ধরেছে আমাকে। কোন ভাবে আগাতে পারছি না। আগে যেখানে একটা কাজে আটকে যেতাম, সেটা এখন ৪/৫টায় হয়ে গেছে। একটা ছাড়াই তো অন্যটা থেকে যায়। বয়স, অতিরিক্ত সুগার, নাকি অন্য কিসের জন্য এমন হচ্ছে বুঝতেছি না।
=========
কয়েকদিন আগে আমাদের অফিসের প্রায় ৫২% লোকের চাকরী গেছে। আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো সিভি ড্রপ করতে। সিভি ড্রপ করলে ৮০-২০% সম্ভাবনা আমাকে রাখা হবে। বাসায় বউকে বলেছি সিভি ড্রপ করেছি; কিন্তু ড্রপ করতে করতে সময় শেষ! সময় শেষ হবার ২ ঘন্টা পর ড্রপ করতে গিয়ে দেখি সিষ্টেম আর নেয় না!
যদিও পরে সুযোগ পেয়েছি সিভিটা ড্রপ করতে। তবে গ্লোবাল টিম একটু অবাকই হয়েছে। আমার পুরাতন ম্যানেজার (যে নিযেও চাকরী হারিয়েছে) আমাকে রেফার করেছিলো রাখবার জন্য; তাকেও প্রশ্ন বিদ্ধ হতে হয়েছে!
==========
তাই মাঝে মাঝে আমার ঐ হিমবাহ ভাঙ্গা কাজের স্পিডকে শুধাই, মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



