somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে মাসে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তালাক ও পুনর্বিবাহের ঘটনা যেন ববিতার ব্যক্তিজীবনের এক অদৃশ্য দ্বন্দ্বের ছবি হয়ে রইল- ভালোবাসা, অভিমান, বিশ্বাস আর ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার এক জটিল সমীকরণ।

পর্দায় ববিতা ছিলেন অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা। তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর অভিনয়- সবই ছিল দর্শকের জন্য। অথচ ক্যামেরার আড়ালের মানুষটি যে কতটা নিঃসঙ্গতা, সংশয় আর আবেগ নিজের ভেতরে বহন করেছেন, তার খুব সামান্যই পৌঁছেছিল জনসমক্ষে।

সোনালি কাতান শাড়িতে সেদিন যে নারী স্বামীর হাত ধরে বলরুমে প্রবেশ করেছিলেন, তিনি হয়তো জানতেন না- জীবনের সবচেয়ে বড় দৃশ্যগুলো কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য মেনে এগোয় না। সেখানে নেই পরিচালক, নেই ‘কাট’ বলার সুযোগ, নেই দৃশ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা। আছে শুধু বাস্তবতা- কখনো উজ্জ্বল, কখনো নির্মম।

ববিতার সেই বিয়ের গল্প তাই নিছক এক তারকার বিয়ের গল্প নয়। এটি এমন এক নারীর গল্প, যিনি আলোয় থেকেও নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটা অন্ধকার নিজের মধ্যেই রেখে দিয়েছেন। যাঁর প্রেম নিয়ে ছিল অগণিত গুঞ্জন, কিন্তু নিজের সত্যটুকু তিনি বরাবরই রেখেছেন নিজের কাছে।

সময়ের স্রোতে সেই সোনালি কাতান হয়তো আজ আর নেই, ঝলমলে সেই বলরুমের রাতও হারিয়ে গেছে বহু দূরে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় থেকে গেছে একটি দৃশ্য- ক্যামেরার ঝলকের মধ্য দিয়ে স্বামীর হাত ধরে হাসিমুখে এগিয়ে যাচ্ছেন ববিতা।

পর্দার নায়িকার জীবনে হয়তো সেটিই ছিল সবচেয়ে বাস্তব দৃশ্য- যেখানে অভিনয়ের কোনো অবকাশ ছিল না।

আর সেখানেই ববিতার গল্পটি হয়ে ওঠে শুধু এক তারকার বিয়ের গল্প নয়; হয়ে ওঠে ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভাঙন আর মানুষের চিরন্তন সুখের সন্ধানের এক নীরব, বিষণ্ন উপাখ্যান।

আর সেখানেই ববিতার গল্পটি হয়ে ওঠে শুধু এক তারকার বিয়ের গল্প নয়- হয়ে ওঠে একজন নারীর হৃদয়ের গল্প। যে হৃদয় ভালোবাসতে চেয়েছিল, বিশ্বাস করতে চেয়েছিল, একটি সংসারকে আপন করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু জীবনের সব স্বপ্ন তো আর পূর্ণতা পায় না। কিছু স্বপ্ন রয়ে যায় পুরোনো অ্যালবামের পাতায়, কিছু হাসি আটকে থাকে ক্যামেরার ফ্ল্যাশে, আর কিছু অশ্রু থেকে যায় একান্ত নিজের কাছে। সোনালি কাতানে সেদিনের সেই হাসিমুখী ববিতাকে দেখে কেউ হয়তো ভাবেনি, এই হাসির আড়ালেও একদিন জমবে অভিমান, আসবে বিচ্ছেদের দিন, আবার ফিরে আসার আকুলতাও জন্ম নেবে। পর্দায় তিনি ছিলেন লাখো মানুষের ভালোবাসার নায়িকা; কিন্তু জীবনের পর্দা নামার পর তাঁর নিজের গল্পের সুখ- দুঃখের দর্শক ছিলেন কেবল তিনি নিজেই। হয়তো এ কারণেই ববিতার সেই বিয়ের ছবি আজও শুধু একটি পুরোনো দিনের স্মৃতি নয়- এটি এক নারীর ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস রাখার, ভেঙে যাওয়ার পরও ফিরে তাকানোর এবং শেষ পর্যন্ত নিজের নীরবতাকে নিজের কাছেই রেখে দেওয়ার এক বিষণ্ন উপাখ্যান। সময় অনেক কিছু মুছে দেয়, কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায়—নীরবে, নিঃশব্দে; যেন বহু বছর পরও প্রশ্ন করে, সেদিনের সেই হাসির আড়ালে ববিতার হৃদয়টা সত্যিই কি সুখী ছিল?

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম কৃষকের

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

Click This Link

পঞ্চগড় এলাকায় ৪ টা লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায় ! ইত্তেফাকের মত প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে আসা এ সংবাদ অসত্য বা অতিরঞ্জিত না হলে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×