somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল কি না, তা নিয়ে মানুষের মত ভিন্ন। কিন্তু সন্তানের এমন ক্ষতিতে একজন বাবা ক্ষুব্ধ হবেন, এটা স্বাভাবিক।

আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। আমাদের শিক্ষিত, সচ্ছল ও মডারেট অভিভাবকেরা সন্তানকে ভর্তি করানোর আগে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা যাচাই করেন কি? শিশু নির্যাতনের খবর আমরা নিয়মিত পড়ি, আর পড়ে "অন্যের সমস্যা" ভেবে এগিয়ে যাই। ধর্মীয় কর্তৃত্বের আড়ালে থাকা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ চেপে যাওয়া সহজ। "হুজুরের বদনাম হবে", "প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে", এসব বলে ভুক্তভোগী পরিবারকে চুপ করানো হয়। এই নীরবতার সংস্কৃতিই নিপীড়কের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

সমাজ হিসেবে আমাদের দায় এখানেই। যতক্ষণ নিজের সন্তানের গায়ে আঁচ না লাগে, ততক্ষণ আমরা নির্লিপ্ত থাকি। অভিযুক্ত পরিচিত বা সম্মানিত হলে প্রশ্ন তোলার বদলে সাফাই গাই। এই নির্লিপ্ততা ও পক্ষপাত না ভাঙলে কোনো প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহির আওতায় আসবে না।

তবে প্রতিবাদের পথও গুরুত্বপূর্ণ। শোনা যাচ্ছে, একই দিনে একাধিক জায়গায় মাদ্রাসায় ভাঙচুর হয়েছে, কোথাও আগুন দেওয়া হয়েছে, কাউকে মারধর করা হয়েছে। এই ক্ষোভের উৎস আমি বুঝি। কিন্তু ভিড়ের বিচারে প্রকৃত অপরাধী আর নিরপরাধ শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের পার্থক্য হারিয়ে যায়। অপরাধী পার পেয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় নির্দোষেরা। আর যে আইনি ব্যবস্থার ওপর আমাদের ভরসা করা দরকার, তাকেই আমরা দুর্বল করে ফেলি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি হওয়া উচিত আদালতের মাধ্যমে, এবং দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলকভাবে।

পরিবর্তনের জন্য তিনটি কাজ জরুরি:

১. সব প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতি: স্কুল, মাদ্রাসা, কোচিং, যে ধারারই হোক, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা ও শিশু সুরক্ষা নীতিমালা থাকতে হবে।

২. সচেতন অভিভাবকত্ব: ভর্তির আগে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও জবাবদিহি যাচাই করা দরকার। সন্তানকে শেখাতে হবে, অস্বস্তিকর কিছু ঘটলে সে যেন নির্ভয়ে বাবা-মাকে বলতে পারে।

৩. অভিযোগ চেপে না রাখা: কোনো অভিযোগ উঠলে তা ধামাচাপা না দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

একজন বাবার ক্ষোভ আমাদের নাড়া দিয়েছে। এই জাগরণ যেন ক্ষণিকের উত্তেজনায় শেষ না হয়। প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা আমাদের সবার দায়িত্ব, সে নিজের সন্তান হোক বা অন্যের।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫




ব্লগে মাঝে মাঝে কোন লোক থাকে না। মাঝে মাঝে কম লোক থাকে। সাইলেন্স ইজ গোল্ডেন-নিস্তব্ধতা হিরম্ময়।এ অবস্থা বিরাজমান হওয়াতে ব্লগের পরিবেশ এখন যথেষ্ট ভালো। কোখাও কেউ নেই। ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা বিকেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই লাল সূর্যের নিচে, আমরা, যারা হেঁটেছিলাম—২

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



সেই চকচকে গ্রাফিতি মনে পড়ে। সদ্য এঁকে গিয়েছিলো। স্কুলগামী বালক-বালিকা। ঘাশ-ফুল-পাতা। অ-আ-ই-ঈ। লাল সূর্যের নিচে বেলাবেলি পাখির ঝাঁক ফিরছে কুলায়। নতুনবাজার, একশো ফিট রোড, নুরের চালা।

তার সাথে কথা বলো আকাশ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

×