-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি পাশে। এই যে এখন বাগানে বসে আছি, পাশের বাড়িতে বারবি-কিউ হচ্ছে , তাদের গানের ভেসে আসা সুরের মূর্ছনার সাথে তোমাকে ভাবছি ঠিক আমার সামনে মুখোমুখি বসে আছ।
কখনো মনে করি না পাঁচিলের ওই পারে বারবি-কিউ তুমি বানাচ্ছ। তুমি ঐ পাশে থাকো, এমন ভাবনা কখনোই মনে আসে না। পাশের বাড়িতে সেটা রজার্স -ই বানায়। তুমি আর আমি আমাদের বাগানের টেবিলের দুই পাশে বসে থাকি মুখোমুখি।
এখন বিকেল ৪ টা বেজে ২৮ মিনিট। এই সময়টায় পশ্চিমের আলো হেলে পড়ে আমার গাড়ির কাঁচের আয়নাতে । আমি এভাবে সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি। একটা মা পাখি তার দুটো ছানা নিয়ে তখন বাড়ি ফিরে। তাদের যে কত কথা সারাদিনের। কিচির মিচিরে তখন যেমন চারিদিক মুখরিত হয় তেমনি সবাই জানান পায় পাখি দুটো নীড়ে ফিরেছে। আর আমার সমস্ত কথা বলা হয়ে যায় তোমার সাথে মনে মনে। ছাদের উপর এক জোড়া কাঠবিড়ালি আর কাঠের ডেকের নিচে একজোড়া বন বিড়াল বাস করে। ছাই -কমলা রঙের শালিক পাখিও ছিল এখানে। এখন ঠান্ডা পড়াতে তাদের আর দেখি না।

এখন আবার শুরু হয়েছে রজার্সের বাজানো গানের মূর্ছনা। ওর সুরের পছন্দ খুব ভালো। আমার পছন্দের সাথে মিলে। একটা ছোট্ট ফড়িং- এর মত মেটে রঙের পোকা আমার ফোনের স্ক্রিনের ওপর এসে বসেছে। বারবার চেষ্টা করছে টাচ স্ক্রিন কেমন হয় তা বুঝতে। কখন উড়ে এসে বসলো জানি না।
পৃথিবীতে এরও কোন না কোন প্রয়োজন আছে। শুধু প্রশ্ন খুঁজে বেড়াই আমাদের নিজেদের নিয়ে। প্রশ্ন করবই না কেন? সময় যখন থেমে থাকে তখন তো এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক ।
সময় থেমে থাকার আরেকটা ব্যাখ্যা আছে। তা হলো খুব দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করলে সব সময়টুকু কিভাবে পার হলো তা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু দ্রুত ভ্রমণ করছি এমন কোন কিছুই তো অনুভূত হয় না। আমি কল্পনা রাজ্যে ঘুরে বেড়াই অনেক দূর । তোমায় নিয়ে। চারিদিক মনে হয় একদম নিশ্চল, নিশ্চুপ।
আমি খুব সুখী - তোমাকে পেয়ে।
তুমিই তো আমার সেই প্রেম। আজও সব সময়, আমার পাশে। তাইতো আমি কখনোই একা নই।
২২/১০/২০২৬
বিকেল ৪ টা বেজে ২৮ মিনিট
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



