আমার এই ছোট্ট শহরে রাতের বেলা চলাফেরা করাটা এক প্রকার লজ্জাকর। রাস্তার বাকেঁ বাঁকে হঠাত করে রংমাখা কিছু মুখের সন্ধান পাওয়া যায়। কেউ তাদের চ-বর্গীয় শব্দে ডাকে, কেউ ডাকে ম-বর্গীয় শব্দে।
এই নিশিকুটুম্বদের একটাই পরিচয় তারা ভাসমান জনপথবধু। আর কি কোন পরিচয় তারা বহন করে?
বন্ধু Prithu Sanyal এর দোকানের সামনের অংশটায় এখনো নিয়ন আলো দেখতে পাচ্ছি। কিছু পথিকের আনাগোনায় সাহস জাগলো যে, কুটম্বের সাথে একটু কথা বলা যায়।
এই, ওই, ঔই......দূর থেকে ডাকলাম
কুটম্বীনী তাতে সাড়া দেয়নি। কারণ তারা এভাবে ডাক শুনার জন্য প্রস্তুত ছিলোনা। অন্ধকারের প্রত্যাশীরা আলোকে ভয় পাবে এটাই স্বাভাবিক।
-হে, আপনাকেই বলছি, এদিকে আয়েন
স্ক্রীন টাইট প্যান্ট আর টিশার্ট পরিহিত কুটম্বীনী এসে সামনে দাঁড়ালেন। শুরুটা আমিই করলাম। আপনি থাকেন কোথায়? সারাজীবন যারা তুই তোকারী শুনে অভ্যস্ত তারা যদি হঠাৎ আপনি সম্ভোধন পায় তবে তাদের মধ্যে ইতস্ততা কাজ করবেই।
: আমারে ডাকছেন
- হ্যা, আপনাকেই
: আমি ভাই সারা রাইতেই রাস্তায় থাকি। লাগবে?
- আপনি এই কাজ কেন করেন?
বন্ধু পৃথু আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, তাতে আপনার সমস্যাটা কী? পৃথুর সাপুর্ট পেয়ে কুটম্বীনী জবাব দিলেন, আমার ঘরে মা অন্ধ, বাবা নেই। তাদের থাকা খাওয়ার দায়িত্ব কি আপনি নিবেন? অন্য কাজও তো আপনি সম্মানের সাথেই করতে পারেন!!
আমার হাতে ছিলো এ্যাডলফ হিটলারের একটি বই। পাতা উল্টাতে উল্টাতে কথা বলছিলাম। হঠাত দেখি কুটম্বীনী গায়েব।
শুধু শুনতে পেলাম মোটর বাইক থেকে নামি নামি অবস্থায় দু’জন সাদা পোষাক পরিহিত পুলিশের অশ্রাব্য বাণী।
তারা বাইক থেকে নেমে কুটম্বীনীকে কিছুক্ষন দৌড়ালেন। তারপর ফিরে এসে আমাকে বললেন, আপনি কি বুঝাইবেন *গীদের?
পারি কিবা না পারি। আমি চেষ্টা করতাম বিভিন্ন যুক্তিতর্ক দিয়ে তাদের এই পথ থেকে ফেরাতে। তারপর? তারপর একসময় আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়তাম। কিন্তু পরদিনই দেখতাম পুরো ব্যাপারটাই ভষ্মে ঘি ঢালা। পেন্ডুলামের দোদুল্যমান অবস্থার মতো তারা তাদের আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। যায়।
বাস্তব সত্যটা হলো ওরা আমাদের প্রচন্ড ঘৃণা করে। ওরা এখনো বিশ্বাস করে আমাদের যান্ত্রিক হৃদয়হীণ শাসনই তাদের এ নিষ্ঠুর গন্তব্যে ঠেলে দিয়েছে....
ফেবুতে দ্যাখতে চাহিলে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



