
সামহয়্যার ইন ব্লগের সবাইকে শুভেচ্ছা। শহরের যান্ত্রিক জীবনে যখন হাঁপিয়ে উঠি, তখন স্মৃতির জানালা গলে উঁকি দেয় ফেলে আসা শৈশব। আমার ছোটবেলার সবচেয়ে বড় নেশা আর শখ ছিল—মাছ ধরা! ছিপ, বঁড়শি, খুইচুন কিংবা জাল—ডোবা থেকে শুরু করে বিশাল দিঘি, কোথায় নেই আমার মাছ ধরার স্মৃতি? আজ ভাবলাম, অলিতে গলিতে লুকিয়ে থাকা আমার সেই সোনালি দিনের গল্পগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
দিঘির দানব মাছ আর পায়ে বঁড়শি বেঁধে চিংড়ি শিকার
আমাদের বাসার সামনের দিঘিতে একসময় প্রচুর মাছ ছিল। একবার ছোট কাকা বিশাল এক মাছ নিয়ে এলেন; বয়স বেশি হওয়ায় মাছটা নাকি ভেসে উঠেছিল। মা যখন সেই ডিমভরা মাছটা রান্না করলেন, সে এক অন্যরকম উৎসব! আর আমার দাদার মিলাদের রাতের কথা তো ভোলা যায় না। চাচা পায়ে বঁড়শি বেঁধে চিংড়ি মাছ ধরছিলেন! ভাবা যায়, কী পরিমাণ মাছ থাকলে এমনটা সম্ভব? রাস্তার পাশে ফড়িং মেরে বঁড়শিতে গেঁথে টাকি আর কই মাছ ধরার সেই দিনগুলো আজ খুব মিস করি।
পুকুর সেঁচা, শিং মাছের কাঁটার বিষ আর রাতের আড্ডা
পাওয়ার হাউজের সামনের পুকুরে একবার রাতের বেলা হঠাৎ সব মাছ মরে ভেসে উঠল। আমি আর গৃহশিক্ষক সোহাগ স্যার সারারাত জেগে সেই পুকুর পাহারা দিয়েছিলাম। পুকুর সেঁচে মাছ ধরার আনন্দই ছিল আলাদা। সকালে সবার সাথে মাছ ধরতে নেমে শিং মাছের যে বিষাক্ত কাঁটার আঘাত খেয়েছিলাম, তা আজও মনে পড়ে! পরে এক আত্মীয়, যিনি ফকির ছিলেন, তিনি বিষ নামিয়ে দিয়েছিলেন।
শীতের রাতে যখন শ্যালো মেশিন দিয়ে পুকুর সেঁচা হতো, তখন অন্যরকম উৎসব চলত। ডিজেলের ল্যাম্প জ্বালিয়ে তাস খেলা আর খিচুড়ি রান্নার সেই মুহূর্তগুলোর জন্য সারারাত জেগে অপেক্ষা করতাম। ডায়ার ডিম (পিঁপড়ার ডিম) দিয়ে কুয়া থেকে কই মাছ ধরার স্মৃতিও ভোলার নয়।
ডাক্তারের পুকুরের ‘বড় মাছ’ আর সাপের আতঙ্ক
শৈশবে একটু-আধটু দুষ্টুমিও করেছি! একবার ডাক্তারের পুকুরে বঁড়শি আটকে ছিঁড়ে গেল। আমি বাসায় এসে রটিয়ে দিলাম, "বড় মাছে বঁড়শি নিয়ে গেছে!" অথচ সেখানে কোনো মাছই ছাড়া হয়নি। এই নিয়ে পাড়ায়, চায়ের দোকানে সে কী আলোচনা!
বর্তমান র্যাব-৮ (আগের রেডিও সেন্টার)-এর সামনের খালে খুইচুন দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে ছোট চাচাতো ভাই সজলের সেই সাপের কামড়ের আতঙ্ক! বেচারা ভয়ে কেঁদেকেটে অস্থির, পরে ওঝা এসে ফুঁ দেওয়ার পর জানা গেল, ওটা সাপ ছিল না! আবার নানাবাড়ির (হাড্ডির মিলের কাছে) বিলে মামাতো ভাই রানাকে নিয়ে মাছ না পেয়ে অন্যের জালে আটকে থাকা মিরগেল মাছ কোঁচ দিয়ে কুপিয়ে এনে নিজেদের শিকার বলে দাবি করার সেই স্মৃতি মনে পড়লে আজও হাসি পায়।
বৃষ্টির দিনে কই মাছের পদযাত্রা ও জালের রোমাঞ্চ
আকাশে মেঘ ডাকলেই কই মাছ ডাঙায় উঠে আসত। জাব্বার মোল্লা কাকার বাড়ির পেছনে একবার আমি আর নয়ন দেখি, সারি বেঁধে কালো হয়ে কই মাছ হেঁটে আসছে! পরনে ছিল লুঙ্গি, উপায় না দেখে লুঙ্গির ভেতরেই ১০০-এর বেশি কই মাছ ধরে নিয়ে এসেছিলাম। রূপাতলী হাউজিংয়ে রনি আপার বাসার সামনেও এমন কই মাছ হাঁটতে দেখেছি। এমনকি কিছুদিন আগেও বাসার সামনের রাস্তায় কই মাছ হাঁটতে দেখেছি!
আর জীবনের প্রথম যেদিন ‘জাহি জাল’ (হাত জাল) ফেলা শিখলাম, নতুন পানিতে আমাদের বাসার সামনের পুকুরে প্রথম টানেই জাল ভর্তি মাছ ওঠার সেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি আমি কোনোদিন ভুলব না!
আজ সেই ডাক্তারের পুকুর নেই, অনেক খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। কিন্তু স্মৃতির পাতায় সেই দিনগুলো আজও অমলিন। আপনাদেরও কি ছোটবেলায় এমন মাছ ধরার মজার কোনো স্মৃতি আছে? মন্তব্যের ঘরে আড্ডা হতে পারে!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


